জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্তৃক যৌন নিপীড়নের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাপ্তি কিভাবে হয়েছে তা আমরা জানিনা। জানিনা কারণ মিডিয়ায় তা আসেনি। এমনকি যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি অনেকটাই বিস্মৃতপ্রায়। সমগ্র বিযয়টির চিত্ররূপটি প্রায় এরকম : একটি ঘটনা ঘটেছে, ঘটনাটির কাটতি রয়েছে, মিডিয়া ঝাপিয়ে পড়েছে সংবাদটির ওপর, সুধী সমাজের নজরে এসেছে ঘটনাটি, সংবাদটির কাটতি শেষ হয়েছে একসময় এবং সংবাদপত্র তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে সংবাদটির ওপর, অতপর একটি আন্দোলনোর অপমৃত্যু ঘটেছে। আমরা জানিনা অভিযুক্ত শিক্ষকের কোন শাস্তি হয়েছে নাকি তিনি এখনও বহাল তবিয়তে স্বপদে বিদ্যমান। আমরা জানিনা শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ কিনা। আমরা জানিনা যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত নীতিমালা আদৌ প্রবর্তিত হয়েছে কিনা। সংবাদপত্র তার বাণিজ্যিক স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে নিজেদের দায় এড়িয়েছে। কিন্তু আমরা আমেদের দায় বিবেকের কাছে এড়াবো কি করে? এই প্রশ্নটি আমাকে নিরন্তর কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
যখন মিডিয়ায় কোন একটি বিষয় নি্য়ে সংবাদ পরিবেশন করে তখন মিডিয়ার কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। একটি নূ্ন্যতম দায়বদ্ধতা হল সংবাদটির ধারাবাহিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নাগরিক সচেতনতা গড়ে তোলা। কিন্তু যৌন নিপীড়নের ঘটনার ক্ষেত্রে একটি বিষয় সবসময় পরিলক্ষিত হয়; ঘটনাটি নিয়ে ততক্ষণই মিডিয়ার আগ্রহ থাকে যতক্ষণ ঘটনাটির বাজারমূল্য থাকে। অর্থাৎ নারীর সম্মানের বিষয়টিকে মিডিয়া বাজারে নিয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে নারী নির্যাতিত হয় দু'বার : প্রথমে অত্যচারী পুরুষ কর্তৃক ও পরবর্তীতে মিডিয়া কর্তৃক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্ভূত পরিস্থিতিতেও মিডিয়া তার এই চিরায়ত ভূমিকার বাইরে যেতে পারেনি। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হল মিডিয়া এভাবে আর কতকাল পুঁজিবাদীদের শোষণের হাতিয়র হয়ে থাকবে?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


