somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি এবং আমরা ও একটি সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা

৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতি সম্প্রতি একটি অনভিপ্রেত সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। তবে আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা ঘটনাটা কার জন্যে দু্ঃখজনক ----- আমার জন্যে নাকি যিনি আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তার জন্যে। সাক্ষাৎকারটি ছিল একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরির নিয়োগ সংক্রান্ত।সাক্ষাৎকারটি ছিল বীভৎস এবং পূ্র্বেই অনূমিত। কাজেই সাক্ষাৎকারপ্রার্থীর মানসিক প্রস্তুতিও ছিল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের মতই। শুনেছি প্রাচীন আমলে অস্ত্র যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে দুই দেশের সেনাপতি বাকযুদ্ধে লিপ্ত হতেন। আমরা কেউই প্রাচীন আমলের সেনাপতি নই তবু কেন এই যুদ্ধের প্রস্তুতি তা বুঝতে হলে আমাদেরকে প্রাচীন ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে।

এবারের ঘটনাস্থল রাজধানী ঢাকার একটি খ্যাতনামা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।একই প্রেক্ষাপট: চাকুরীর নিয়োগ সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার। তবে এবার একটু ভিন্ন কায়দায়। মৌখিক সাক্ষাৎকারের আগে একটি ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে। প্রার্থী আমরা প্রায় ৫০ জন। পরীক্ষা হয়ে গেল। সেই পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এগার জনের শর্ট লিষ্ট করা হল। তাদের নাম মেধাক্রম এবং নম্বরসহ টাঙ্গিয়ে দেয়া হল। মেধাক্রম অনুযায়ী আমি হলাম প্রথম এবং যিনি দ্বিতীয় তার সাথে আমার নম্বরের পার্থক্য২০।

বিকেলে ছিল দ্বিতীয় অধিবেশন: মৌখিক সাক্ষাৎকার। আমি বোর্ডের মুখোমুখি হওয়া মাত্রই বুঝতে পারলাম সদস্যরা আমার ওপর ভীষণ রাগান্বিত। কেন আমি অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে এত নম্বর বেশী পেয়ে প্রথম হলাম সেই জন্যে রাগ।কেমন যেন একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব।আমি এক নিমিষে অবস্থাটা বুঝে নেবার চেষ্টা করলাম।প্রস্তুত হয়ে গেলাম।কারণ আমার তো হারাবার কিছু ছিলনা।জনান্তিকে এখানে একটা কথা বলে রাখি - বোর্ড মেম্বারদের একজন ছিলেন আমার ডিপার্টমেন্ট এর একজন শিক্ষক।ভদ্রলোকের আক্রোশই আমার ওপর সবচেয়ে বেশি ছিল। তার অবশ্য একটা ইতিহাসও আছে। সেই ইতিহাস এখানে অবান্তর বলে তা আপাতত মুলতবি থাক।

প্রথম প্রশ্ন আমার প্রতি: লাংস এর এডজেক্টিভ কি?
আমার উত্তর: স্যার জানিনা।
এরপর এভাবেই চলল একের পর একটি করে শব্দের বিভিন্ন পার্টস অফ স্পীচ জিজ্ঞেস করা এবং প্রতিবারই আমাকে আমার অসমর্থতা অত্যন্ত দু্ঃখের সাথে ব্যক্ত করতে হয়েছে।
মোটের ওপর আমি বোর্ডকে সন্তুষ্ট করতে পারিনি।

আমার প্রতি বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ আমার শিক্ষকের মন্তব্য:
তোমার মূর্খতায় আমার লজ্জা হচ্ছে; তুমিতো কিছুই জাননা; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার কোন যোগ্যতাই তো তোমার নেই; তুমি এখানে এসেছ কোন সাহসে?
সঙ্গত প্রশ্ন; আমার বলার কিছুই রইলনা।

তবে আমার মনে একটি প্রশ্ন উদিত হচ্ছিল।আমি সেই প্রশ্নটিই বোর্ডকে করলাম----
স্যার, আমি কিছু পারিনি তাতে আমার লজ্জা নেই যদিও এটি আপনার লজ্জার কারণ।আপনারা আমাকে নির্বাচিত করবেননা তাতেও আমার দুঃখ নেই। কিন্তু আমি একটি জিনিস বুঝতে পারছিনা; আপনারা এখানে প্রাজ্ঞজন; অথচ সবাই মিলে এমন একটি অর্থহীন নিয়োগ প্রক্রিয়া বেছে নিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্যে যেখানে আপনাদের অনিচ্ছাসত্তেও এমন একজন প্রথম হয়ে গেল আপনাদের ভাষ্য অনুযায়ী যার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবার কোন রকম যোগ্যতাই নাই।

এবার আমি আমার শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে বললাম:
স্যার, যতদুর মনে পড়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৯% নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছি; তাও আপনাদের প্রবর্তিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে। আমার ভাবতে অবাক লাগছে আপনারা এমন একটি পরীক্ষা পদ্ধতি বেছে নিলেন তাতে এমন একজন বিস্ময়কর রেজাল্ট করল যে কিছুই জানেনা।
স্যার, আমার রেজাল্ট প্রমান করে যে ইংরেজী ভাষা এবং সাহিত্যের ওপর আমার ভাল দখল আছে। আমার একস্ট্রা কারিকুলাম একটিভিটিজে দেয়া আছে আমি আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ডিবেটর অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিলাম যা প্রমাণ করে যে কোন বিষয় সুন্দর করে গুছিয়ে বলার ক্ষমতা আমার আছে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার সমস্ত যোগ্যতাই আমার আছে। তা সত্তেও আমি জানি আপনারা আমাকে নির্বাচিত করবেনা।
তবে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করবেন কি করবেননা -- তা এখন আর আমার কাছে কোন প্রশ্ন নয়, বরং অনেক বড় প্রশ্ন আমার কাছে আপনারা আমাকে নির্বচিত করলেও আমি আপনাদের অধীনে কাজ করব কিনা।

এরপরের ঘটনা আরও বিচিত্র। রাতে আমি অন্য কয়েকজন শিক্ষকের বাসায় ফোন করে জানতে চাইলাম তারা উক্ত শব্দগুলির মানে জানেন কিনা।
উত্তরে স্যার বললেন, দাঁড়া মা , আমিতো জানিনা, অভিধান দেখে তোকে বলছি।
আমি বললাম: স্যার আপনাকে অভিধান দেখতে হবেনা। আমি চার চারটি অভিধান দেখেছি। অভিধানে এই শব্দগুলোর মানে দেয়া নেই।

স্যার বিস্মিত হয়ে বললেন, ঘটনা কি?

[চলবে]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:১০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×