সকালে গিয়েছিলাম পাশের শহর ফোর্টওয়ার্থে। দেশের অন্যতম সেরা ব্যান্ড চিরকুটকে নিয়ে সেখানকার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর বাহানায় আড্ডাবাজি করতে। কাল ভোরে ওরা চলে যাচ্ছে। আজকেই ডালাসে ওদের শেষ দিন।
আড্ডা জমেছিলও ভালই। কারন বাংলাদেশ খেলছিল ভাল। আমরা অনলাইনে লাইভ দেখছিলাম। ইন্ডিয়াকে এইভাবে বেঁধে রাখতে পারাটাইতো অনেক। "একটু বুঝে শুনে ব্যাটিং করলেই ঘটনা ঘটে যাবে" - এই বিশ্বাস থেকেই ক্যানভাসে একটা স্ট্যাটাসও দিয়ে দিলাম।
আমরা ওয়াটার গার্ডেনের পাশের গাড়ি পার্ক করে গাড়িতেই বসে রইলাম। সামনে এত সুন্দর দৃশ্য, তারপরেও সবার চোখ মোবাইল ফোনের পর্দায়। কোন কথা নাই মুখে। এক ওভারে দরকার ১১ রান, ব্যাটিংয়ে মাহমুদুল্লাহ আর মুশফিক - আর কাকে চাই? ম্যাচ জেতালে ওরাই তো জেতাবে।
যখন মুশফিক পরপর দুইটা চার মারলো এবং প্রয়োজন হলো তিন বলে দুই - তখন টাইগারদের অতি অনভিজ্ঞ এক ভক্ত এই আমি চিৎকার দিয়ে লাফালাফি করতে করতে স্ট্যাটাস দিলাম "ঘটনা ঘটে গেছে!"
আমার আশেপাশের সাদা চামড়ার লোকেরা কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো মোবাইলে কী দেখে আমি এত উত্তেজিত?
বললাম আমার "দেশ" ক্রিকেট খেলায় একটা শক্তিশালী দেশকে হারিয়ে দিয়েছে।
কী বুঝলো জানিনা, ওদের "দেশতো" সকার (ফুটবল) ছাড়া আর তেমন কিছু খেলে না। ক্রিকেটের সাথে পরিচয় নেই। ফুটবল (রাগবির অ্যামেরিকান ভার্সন), বাস্কেটবল এবং বেসবল ওরা নিজেরা নিজেরাই খেলে। বাকি "টিম" গেমগুলোতে ওদের আগ্রহও নেই।
যাই হোক, তারপর অতি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমাদের ব্যাটসম্যানরাও আমার মতই অনভিজ্ঞ।
আমি যেমন খেলা শেষ হবার আগেই উত্তেজিত হয়ে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছিলাম, ওরাও তেমনি ম্যাচ জয় নিশ্চিত হবার আগেই বড় শট খেলে "স্টাইলিশ ফিনিশিং" করতে গিয়েই নিজের পাত থেকে ভাত ধোনির মুখে তুলে খাইয়ে দিল। ছক্কা মেরে খেলা শেষ না করে যদি মুশফিক বা মাহমুদুল্লাহ একটু কম কষ্ট করে গ্রাউন্ড শট খেলে বল ফিল্ডারের হাতে পাঠাতো - আমাদের স্টাইলিশ ফিনিশিং না হলেও জয়টাতো হতো! তাসকিনের জন্য, আইসিসি, রবি শাস্ত্রী (আমাদের সিরিজে হারিয়ে ওদের আনন্দ করতে দেখেছিলাম, জাস্ট গেট দ্য ব্লাডি জব ডান!) এবং সম্প্রতি সুনীল গাভাস্কারকে (ম্যাশ দলের হয়ে কী করছে?) জবাবের জন্য এই জয়ের যে খুবই দরকার ছিল!
বড় ব্যবধানে উরাধুরা হারলে কষ্ট হয় না কিন্তু জেতা ম্যাচ প্রতিপক্ষের প্লেটে তুলে দিলে বুকটা ফেটে যায়। এতই হতাশ হয়েছিলাম যে এক পর্যায়ে ইচ্ছা করছিল শালার টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফেসবুক একাউন্টই ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেই।
যাই হোক, দিনের শেষে এটা স্রেফ একটা খেলাই ছিল। আশা করি অন্তত এখন থেকে কেউ আমাদের "ছোট দলের এক দুই জয়ে আনন্দে দিশেহারা 'অশিক্ষিত' দর্শক" বলে খোটা শোনাবার দুঃসাহস করবে না। তোমাদের দেশে তোমাদের টেইলর মেড পিচে তোমাদের বিশ্বখ্যাত দলকে আমাদের অর্ধ শক্তির দল নিয়ে নাকানি চুবানি দিয়ে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিলাম। কী ইয়েটা করতে পেরেছো?
এবং যারা সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে আমাদের খেলোয়াররা ইচ্ছা করেই ম্যাচ হেরে গেছে। দাবি করছেন তদন্ত হোক বা এই জাতীয় কিছুর - তাঁদের বলছি, মন পরিষ্কার করুন এবং নিজের দলের খেলোয়ারদের দেশপ্রেমের উপর আস্থা রাখুন। মাহমুদুল্লাহ এবং মুশফিক আর যাই হোক, দেশকে বিক্রি করা রাজাকার না।
শাবাস বাংলাদেশ!
বাঘেদের সাথেই আছি।
"বাঘবাজি চলবে, বাঘ জান থাকতে লড়বে।"
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৬ সকাল ৮:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



