somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও স্বাভাবিক। লোকজন অফিসে যাচ্ছেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে।"

৩১ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ এর একটা ঘটনা বলি। তথ্যে ভুল হলে কেউ যেন পারলে শুধরে দেয়।

তখন যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়। তরুণ গেরিলা যোদ্ধাদের মুহুর্মুহু আক্রমনে দিশেহারা পাকবাহিনীর তখন কুত্তাপাগল অবস্থা। রাস্তাঘাট থেকে random যুবকদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কাউকেই আর বিশ্বাস করতে পারছে না ওরা। ওদের চোখে বাঙালি যুবক মানেই তখন মুক্তিযোদ্ধা।

তা টর্চার সেলে সেসব যুবকদের উপর চলে অকথ্য নির্যাতন। চোখের সামনে দিন রাত হাই পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়ে রাখা, নখ উপ্ড়ে ফেলা, আঙ্গুল কেটে ফেলা, চোখ খুবলে ফেলা ইত্যাদি এমন কোন অত্যাচার নাই যা তারা করছে না। ওদের দরকার ইনফরমেশন। ছেলেরা যতই বলে ওরা মুক্তিযোদ্ধা না, ওরা মানতেই রাজি না।
শেষমেশ অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে ওরা স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে ওরা মুক্তিযোদ্ধা।
মারলে মেরে ফেলুক। তবু এই অত্যাচার বন্ধ হোক।

এইবার দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন শুরু হয়।
"তোমার সঙ্গী-সাথীরা কোথায়?"
ততদিনে অত্যাচারের মাত্রা সীমা পরিসীমা সব ছাড়িয়ে গেছে। যুবকরা তখন তাই বলে যা ওরা শুনতে চায়।
"ওদের ঠিকানা জান?"
"হু।"
"আমাদের দেখাতে পারবে?"
"হু।"
"চলো আমাদের সাথে।"
যুবকদের মিলিটারি গাড়িতে তোলা হয়। ঢাকা শহরে চক্কর দিতে থাকে সেসব গাড়ি। যুবকরা random বাড়িঘর দেখাতে থাকে।
"ইধার মিলেগা মুক্তি?"
"হু।"
ওরা ঠিকানা নোটে টুকে রাখে।
"অউর কিধার মিলেগা?"
"চলুন।"
গাড়ি চলতে থাকে। আরও কিছু ঘরের ঠিকানা নোটে টোকা হয়।
রাতে সেসব বাড়িতে মিলিটারি অভিযান চলে। স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া যুবক পেলেতো কথাই নাই, সাধারণ চাকরিজীবীদেরও রেহাই দেয়া হয়না। ওদের কাছে তথ্য আছে এরা গাদ্দার। এদেরই সাথির স্বীকারোক্তি!

এইভাবেই বিজয়ের আগে পর্যন্ত চলতে থাকে। তুলে নেয়া যুবকদের বেশিরভাগই ফিরেন নি। ওদের ফেরার আশায় প্রিয় স্বজনেরাও চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
এবং এই পুরোটা সময় বহির্বিশ্বের নিউজ মিডিয়াকে জানানো হয় "দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও স্বাভাবিক। লোকজন অফিসে যাচ্ছেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে। দুষ্কৃতিকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে। ভারতীয় ষড়যন্ত্রের হাত থেকে পাকিস্তানকে রক্ষা করা হয়েছে।"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৪:০৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৫


শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক The Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের কনফারেন্সের বাংলা ভার্সন/ জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কণ‍্যা শেখ হাসিনা ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২০


ল্লীর প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ,ইংরেজীতে তাঁর বক্তব্য রাখেন, পুরো বক্তব্যটি পাঠকের জন্য বাংলায় অনুবাদ করে দেয়া হলো-

Fcc South কে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বক্তব্য শুরু করেন।

বাংলাদেশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×