বিদ্যুৎ, শক্তির সবচেয়ে উপভোগ্য ফর্ম, যার ব্যবহার সময়ের সাথে সাথে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা একটি দিনও কল্পনা করতে পারিনা বিদ্যুত্ সরবরাহ ছাড়া। বিদ্যুতের চাহিদা এবং ব্যবহার, দ্রুত প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং উন্নতির সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং, আমরা আমাদের নাগরিক জীবনে আরো বেশী বিদ্যুৎ ব্যাবহারে ঝুঁকে পরছি। কিন্তু আমাদের দেশে বিদ্যুত হয়ে গেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব ব্যয়বহুল, এর পিছনে অনেক কারণ আছে অবশই, কিন্তু প্রশ্ন হল, "আমাদের কি এত বায়বহুল বিদ্যুত ব্যবহার সামর্থ্য আছে?" বাংলাদেশ, যেখানে অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের, এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে এবং যেখানে মাথাপিছু আয় খুব কম, সেখানে কি বিদ্যুৎ এত বায়বহুল হওয়া উচিত। বিদ্যুতের উত্তরোত্তর মূল্য বৃদ্ধি বর্তমানের টক অব দ্যা টাউন। বিদ্যুতের উচ্চমূল্য বর্তমানে শহর জীবনের জন্য একটি বোঝা। আজ আমাদের বিদ্যুতের পেছনে ব্যয় হয় মাসিক পারিবারিক বাজেটের 10% -20% । কিন্তু প্রশ্ন হল, এই অবস্থায় কিছু করার আছে কি? আমি মনে করি আছে। আমাদের যেমন বিদ্যুৎ ব্যাবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে, তেমনি সরকারকেও সচেষ্ট হতে হবে স্বল্প মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে। আর ভেবে দেখতে হবে কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ ক্রয় করে সরবরাহের ব্যাপারটি। আপনি যদি ইন্টারনেট থেকে কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিসমুহের বার্ষিক রিপোর্ট সংগ্রহ করেন, দেখতে পাবেন যে এই কোম্পানী সমুহের মোট-মুনাফা মার্জিন (Gross Profit Margin) প্রায় 50% এবং 25% এর উপরে তাদের নিট লাভ মার্জিন (Net Profit Margin) যা গত পাঁচ বছর ধারাবাহিকভাবে অর্জিত হয়েছে। এছাড়াও আপনি DESCO'র মত বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানির বার্ষিক রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন, আপনি দেখতে পাবেন যে তাদের স্থূল লাভ মার্জিন (Gross Profit Margin) প্রায় 35% এবং নিট মুনাফা মার্জিন (Net Profit Margin) প্রায় 20-25%। তাহলে কি দাড়াচ্ছে এই তথ্য থেকে। কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে যদি 100 টাকা (বিষয়টি সহজে বোঝার জন্য ধরে নেয়া হল) খরচ হয়, তারা তা 150 টাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানির কাছে বিক্রি করে। অতঃপর বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি এর উপর 35% স্থূল মুনাফা মার্জিন (Gross Profit Margin) যোগ করে আমাদের কাছে তা বিক্রি করে। তার মানে আমরা এ বিদ্যুত 195 (appx.) টাকায় ক্রয় করছি যার উত্পাদন খরচ মাত্র 100 টাকা। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, "কেন আমরা এই অতিরিক্ত পরিমাণ টাকা প্রদান করছি?" মজার বিষয় হল, কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানির মূলধন এর বেশিরভাগ অংশই ঋণ অর্থায়ন খাত থেকে এসেছে এবং এই কোম্পানিগুলো সরকার থেকে বিভিন্ন ভর্তুকি ভোগ করে থাকে। তাই প্রশ্ন জাগে মনে, কেন সরকার নিজ উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করেনা যার জন্য সরকার ঋণ এর মাধ্যমে অর্থ যোগান করতে পারে, যেমন পারছে অন্যান্য উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে (পদ্মা সেতুর নাম বললে মাইর দিবে)। বর্তমানে বিদ্যুৎ একটি মৌলিক চাহিদা যেমনটা মৌলিক চাহিদা হল খাদ্য, বাসস্থান, ঔষধ প্রভৃতি। তাই সুলভে বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সরকারের দায়িত্ব। যেখানে আমাদের করণীয় কিছুই নেই। আমরা কষ্টে আছি, আমাদের পক্ষে 195 টাকা মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করে ভোগ করে অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যে বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ কেবল 100-120 টাকা। সুতরাং, আমরা কি করতে পারি? আমরা শুধু আমাদের লাইট, ফ্যান, টেলিভিশন এবং সমস্ত অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির স্যুইচ অফ করে অন্ধকারে বসসবাস করতে পারি। আসুন আঁধারে বাসা বাঁধি
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


