somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারাগার পর্ব ১

০৬ ই মে, ২০১৪ ভোর ৪:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পাঠকের সুবিধার্থে গল্পের প্রধান যে চরিত্র তাঁর কিছুটা বর্ণনা দেয়া যাক। নাম রাশেদ, বয়স আঠার বছর, উচ্চতা পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি, গাত্র বর্ণ শ্যামলা। প্রচুর ধূমপান করার দরুন ঠোঁট কালচে হয়ে গিয়েছে। চখ ইটের ভাটার মতো লাল, মাথার সামনের দিকের চুল কিছুটা পাতলা হয়ে উঠেগিয়েছে, নাকের নিচে ফিনফিনে গফ। কাজ তেমন কিছু করে না। মেট্রিক সেকেন্ড ডিভিশনে পাশ করে এখন কলেজে পড়াশুনা করবে বলে ভর্তি হয়েছে কিন্তু এক বছরে একটিও ক্লাসে গিয়ে বসেছে কি না সে নিজেও জানে না। সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর হাতে বিড়ি নিয়ে পাড়ার মেয়েদের পিছনে ঘুরে বেড়ানই এখন রাশেদ দায়িত্বের পর্যায়ে নিয়ে নিয়েছে। যেহেতু মায়ের এক মাত্র আদরের ছেলে তাই সে শাসনের উরধে। বলে রাখা ভালো রাশেদের বাবা আর একটা বিয়ে করার জন্য রাশেদ ও তাঁর মা আলাদা থাকে।
পৌষের সন্ধ্যা। গ্রামের এই দিকটায় এখন হাড় কাঁপানো শিত হয়। পানি কনকনে ঠাণ্ডা। ঘরের মাঝে রাশেদের মা গোবর দিয়ে বানানো ঘুঁটের আগুন করে রাখে ঘর গরম রাখার জন্য। তাঁর পরেও ঠাণ্ডায় রাশেদ জমে জেতে থাকে। রাশেদ গলা চরিয়ে কাজের ছেলেটাকে ডাকে
- নূরা এই নূরা!
- কি ভাই? ডাকো নাকি আমাক?
নূরা দৌরে এসে জবাব দেয়।
- হুম ডাকছি। শুন তোকে একটা কাগজ দিবো তুই এটা রহমান চাচার মেয়ে ফরিদার হাতে দিবি। পারবি না?
- হ, পারবই তো। দেও চিডি ডা।
- এখন না। যা রাতে আসিস।
- আচ্ছা ভাই, আমি তাইলে এখন গেইলাম।

নূরা চলে গেলে রাশেদ খাতার একটা পাতা ছিড়ে চিঠি লিখতে বসে। ফরিদা কে এই চিঠি লিখার পেছনে যদিও তেমন কোন উৎসাহ ছিল না কিন্তু যে কোন মেয়েকে উত্যক্ত করার কোন কিছুই বাকি রাখে না। ফরিদা যদিও তাঁর আপন চাচাতো বোন, তাঁর বাসার সাথে লাগোয়া বাড়িটাই ফরিদাদের। তার পরেও রাশেদ ফরিদার সাথে এই দুষ্টামি টা করতে লোভ সামলাতে পারলো না।
দোয়াত আর কলম নিয়ে সে লিখা শুরু করল

২২,১২,১৯৮০
প্রিয় ফরিদা,
তোমাকে এ ভাবে কখনো দেখবো বা চিঠি লিখবো কখনো ভাবিনি। তোমাকে অন্য কোন দৃষ্টিতে দেখতেও চাইনি। কিন্তু কে জানতো সদ্য চোদ্দতে পরে তুমি এতো রুপের আলো ছড়াবে। তোমার চোখ ধাঁধানো রূপে আমার প্রায় অন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। যেখানে তাকাই শুধু তোমার রূপের আলো দেখি।
তোমাকে এক মুহুত পাওয়ার জন্য আমি আমার জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারি। জানি তোমাকে অনেকেই এ রকম প্রস্তাব দিবে কিন্তু কেউ আমার মতো তোমাকে ভালবাসবে না। তুমি যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাও তখন আমার খুব ইচ্ছা করে তোমাকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যেতে। কিন্তু তোমার অনুমতি ছাড়া আমি কখনই তা করতে পারবো না।
যাই হোক, আসল কথায় আসি, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি আর তোমাকে বিয়ে করতে চাই। যদি রাজি থাকো তাহলে পুকুর পাড়ে এসে বসে থাকবে কাল দুপুরে।
ইতি
তোমার রাশেদ দা

রাশেদ চিঠিটা লিখে ভাঁজ করতে করতে এক অসুস্থ আনন্দ অনুভব করে। একটা তৃপ্তির হাসি হাসে। কেন যেন এরকম কোন মেয়েকে চিঠি লিখে তাঁর মাঝে একটা আনন্দ অনুভূত হয়। রাশেদ খিক খিক করে হাসতে হাসতে নূরা কে ডেকে চিঠিটা দেয় ফরিফা কে দেয়ার জন্য। নূরা বাধ্য ভৃত্যের মতো চিঠি হাতে বেরিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত নূরা কোন ভুল করেনি। আজও করবে না রাশেদ তা জানে। কিন্তু ফরিদা কি ভাববে এই চিঠি পেয়ে রাশেদ তা ভেবেই পুলক অনুভব করছে। সে আর এক দফা খিক খিক করে হেসে কাঁথার স্তূপের ভেতোর সেঁধিয়ে নিজেকে গরম করতে থাকে।
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×