ছোট না, সেই ছোট্ট বেলার কথা। “আমার বই” নামের বই স্কুলে পড়তাম বাংলার জন্য। খুব ঝামেলার একটা কাজ ছিল লেখক-লেখিকাদের জন্ম তারিখ (ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুদিন) মনে রাখা। বিভিন্ন বিষয়ে সন-তারিখ মনে রাখতে রাখতে প্রতি বছর খুব মেজাজ খারাপ হতো। আরো বিরক্ত লাগতো যখন ভুলের জন্য নম্বর কাটা যেত।
প্রতি ক্লাসে বাংলা বইয়ে একজন করে বীরশ্রেষ্ঠ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী থাকত, আর সেই সাথে সাল, তারিখ। মনে আছে, একটা বছরে জন্মসাল ছিল, তারিখ ছিলোনা।
আজকাল সবকিছু নিয়েই বিতর্ক! সবই বিতর্কিত। ধর্ম, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা সবকিছু বা সবাইকে নিয়েই পক্ষ-বিপক্ষ না করলে চলেনা আমাদের।
তবে এতকিছুর ভীড়েও কিছু লোক দেখেছি বিতর্কের বাইরেই ছিলেন। এঁদেরও মনে হয় থাকা হলোনা ঝামেলার বাইরে। গত কয়েক মাস ধরে শুনলাম এখানে নাকি সবচেয়ে বড় গোঁজামিল হয়েছে! কেন ভিন্ন ধর্মের মানুষ নাই এই তালিকায়, সাধারণ মানুষের নাম নাই কেন!
এইজন্যই মনে হয় বিদেশী ফাদার্স ডে, মাদার্স ডের মত করে বছরে ২ দিন এঁদের মনে করা হয়। জন্মদিন-মৃত্যুদিন আলাদা করে মনে না রেখে একটা গণ করে মনে করা আর-কি! অনেক ইতিহাস আলোচনার মধ্যে একজনের জন্ম তারিখের খোঁজ পেলাম না, শুধু সাল টা আছে! কেউ পেলে জানাবেন। একজন সামরিক বাহিনীর সদস্য জন্মতারিখ উল্লেখ না করে চাকুরিতে যোগদান করার কথা না!
মানুষগুলোর নাম নীচে দিলাম। জন্ম-মৃত্যুর তারিখ সহ। এটা দেখে একজনও যদি মনে রাখে, ক্ষতি কি?
১. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর
(জন্ম: মার্চ ৭, ১৯৪৯- মৃত্যু: ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১)
২. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
(জন্ম: ২৯শে অক্টোবর, ১৯৪১— মৃত্যু: ২০শে আগস্ট, ১৯৭১)
৩. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান
(জন্ম:২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ – মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১)
৪. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
(জন্ম: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৭- মৃত্যু: এপ্রিল ৮, ১৯৭১)
৫. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্সনায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
(জন্ম: ১ মে, ১৯৪৩ – মৃত্যু: এপ্রিল ৮, ১৯৭১)
৬. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন
(জন্ম: ১৯৩৫ – মৃত্যু: ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১)
৭. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
(জন্ম: ফেব্রুয়ারি ২৬, ১৯৩৬ – মৃত্যু: সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৭১)


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


