“কালকে কি পরীক্ষা?”
– ইংরেজী
“বল তো ‘একটি মোটা বিড়াল একটি মাদুরের উপর বসিয়া ছিল’ ইংরেজি ট্রান্সলেশন কি?”
– জানিনা, পারবোনা (হালকা বিরক্ত)
“তোমার তো প্রিপারেশন ভালো না! এইটা বল তো ‘আজ আমি জানাতে এলাম, কাল আমার ফাঁসি হবে, কারন আজ আমি আপনাকে খুন করব’ এইটার ইংরেজী ট্রান্সলেশন কি?”
– পারিনা, যাও তো!
“তুই তো ফেল করবি!!”
প্রতি বছর ক্লাস ৫ থেকে কলেজের পরীক্ষা পর্যন্ত এভাবেই আমার বাবা ঠিক এই দুটি ট্রান্সলেশন জিজ্ঞেস করতেন, আর আমার ফেলের ঘোষনা দিতেন। ভাগ্যক্রমে কোনদিন এগুলো আসেনি, আমিও প্রতি বছর পাশ করে গেছি।
আমার লেখাপড়া নিয়ে আমার বাবা বছরের শুধু একটা সময়ই চাপ দিতেন, সেটা হচ্ছে প্রতি ক্লাসে ফাইনাল পরীক্ষার পর। সবাই খেলায় মশগুল, আর আমি ঝাঁড়ি খাচ্ছি, কেন পরের বছরের অংক বইটা উপরের ক্লাসের কারো কাছ থেকে নিয়ে এগিয়ে রাখছিনা!
জীবনের সিংহভাগ বেতের বাড়ি আর মাইর দাওয়ার পেছনে এই সিংহ রাশির সিংহপুরুষের অবদান সবচাইতে বেশি।
তবে আল্লাহর বিচার বলে কথা আছে! এখন আমারো ছেলে আছে, আর সে মোটামুটি এই সিংহের জন্য সার্কাসের রিং মাস্টারের পর্যায়ে চলে গেছে। সাথে আছে আমার মেয়ে, যে ট্রান্সলেশনের মত আমার বাবাকে যখনতখন যেয়ে বলে “চকলেট আছে?” যদি থাকে তো ভালো, না থাকলেই বলে “তোমাকে দিয়ে তো কিছু হবেনা!”
এই সিংহপুরুষ এখন বাসায় রুটিন করে চকলেট, বিস্কুট আর জুস কিনে রাখে, আর আমি হা হা করে হেসে বলি “প্রতিশোধ! প্রতিশোধ!!”
আমার ছেলে এসে বলে গেছে, “দাদার জন্মদিন, ম্যারেজ ডে তেও কেক কাটছে দাদী সহ, এবার একা কেক কাটবে”। আমার ধারনা, আমার ছেলের ভয়ে নিজেই নিজের কেক কিনে আনবে!
আমি এখনো সামনে গেলেই মাথায় আজব সব ট্রান্সলেশন ঘোরে, ছেলের ভরসায় যাব বাপের জন্মদিন করতে।
সকলের দোয়াপ্রার্থী আব্বার জন্য, ফাদার্স ডে’র কেক টা আজকে নিয়ে কাটাই সমীচীন হবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

