somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে কমাবেন রক্তের কোলেস্টেরল। হৃদরোগ এর ঝুঁকি কমান।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হৃদরোগ আর কোলেস্টেরল এ দুটো শব্দের সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত৷ বলা যায়, এ দুটো শব্দ একে অপরের পরিপূরক৷ একটি ছাড়া আরেকটি প্রায় অসম্পূর্ণ৷ হৃদরোগ বা হার্টের যে কোন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ দেহে কোলেস্টেরোলের আধিক্য, অত্যধিক দুশ্চিনত্মা ও অতিমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ৷ ডিমের কুসুম, যকৃত, মসত্মিষ্ক, চর্বিযুক্ত মাংস, দুগ্ধ, চিংড়ি প্রভৃতিতে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরোল রয়েছে৷ সাধারণত মানবদেহে ১০০ মিঃলিঃ রক্তে ১৫০-২০০ মিঃলিঃ কোলেস্টেরল থাকে৷ রক্তে এই কোলেস্টেরোলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধীরে ধীরে হৃদরোগের সৃষ্টি করে৷ খাদ্যে কোলেস্টেরোলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এথেরোসক্লেরোসিস হয়৷ যার ফলে ধমনীর গাত্রে একরকম আঠরি সৃষ্টি হয় এবং ধমনীর পথ সরম্ন হতে থাকে৷ কোলেস্টেরোল রক্তকে ভারি করে দেয় এবং কৌশিক জালিকার গায়ে জমা হয়ে নালীপথ সরম্ন করে দেয়৷ ফলে সেই পথে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং পস্নাক তৈরী করে৷ এ কারণে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে হৃদযন্ত্রের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং হৃদপিণ্ডের কার্য বন্ধ হয়ে মানুষের মৃতু্য পর্যনত্ম হতে পারে৷

দেহে অতিরিক্ত কোলেস্টেরোলের সুবিধা-অসুবিধাঃ

দেহে কোলেস্টেরোল আধিক্যের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশী৷ কোলেস্টেরোল এক প্রকার চর্বি জাতীয় পদার্থ, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা থাকে এবং দেহের অভ্যনত্মরীণ নানা ক্রিয়াকলাপে সহায়তা করে৷ কিন্তু যখনই এর মাত্রা বেড়ে যায় তখনই এটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে (১) হৃদরোগ এথোরোসক্লেরোসিস, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি দেখা হয়৷ ২) এটি শরীরকে ভারি করে, ওজন এবং স্থূলতা বৃদ্ধি করে৷ ফলে যে কোন কাজ করতে কষ্ট হয়, শরীর একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠে, বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং মনে অশানত্মি দেখা দেয়৷ ৩) দেহে কোলেস্টেরোলের আধিক্যের ফলে যেসব রোগ হয় তা অনেক সময় মৃতু্যর কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ এজন্য সকলেরই কোলেস্টেরোল গ্রহণের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে৷

দেহের অতিরিক্ত কোলেস্টেরোল কমানোর কিছু সহজ উপায়: দেহের কোলেস্টেরোলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই সহজ, শুধু প্রয়োজন সামান্য সচেতনতা৷ -তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্যগুলো খুবই মুখরোচক, কিন্তু এগুলোই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশী ৰতিকর৷ তেল জাতীয় বা ভাজা-পোড়া জিনিস কম খাবেন৷ চিংড়ি মাছ, ডিমের কুসুম প্রভৃতি উচ্চ কোলেস্টেরোলযুক্ত খাবার চেষ্টা করবেন পরিহার করতে৷ -দৈনিক খাদ্য তালিকায় একটু করে হলেও আঁশ জাতীয় খাদ্য রাখার চেষ্টা করম্নন৷ আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন: ইসুবগুল, কচুর লতি, ডাঁটা, বিভিন্ন শাক প্রভৃতি৷ এগুলো রক্তের কোলেস্টেরোল ও খউখ কমাতে সাহায্য করে৷ -দৈনিক ব্যায়াম করবেন, না পারলে অনত্মত এক ঘন্টা হাঁটার অভ্যাস করম্নন৷ ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়৷ ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা কমে৷ ওজন কমাতে চেষ্টা করম্নন৷ -চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার যত পারবেন কম খাওয়ার চেষ্টা করম্নন৷ মিষ্টি জাতীয় খাবার দেহে শক্তি যোগায়৷ ফলে দেহে এর প্রয়োজন রয়েছে৷ কিন্তু অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে তা নানারূপ সমস্যার সৃষ্টি হয়৷ -বেশি বেশি ভিটামিন সি বা টক জাতীয় খাবার খাবেন৷ টক জাতীয় খাদ্যে কোলেস্টেরোল কমাতে জাদুর মত কাজ করে৷ -অনেকেরই ধারণা মাছের তেল কোলেস্টেরোল বাড়ায়৷ কিছু কিছু মাছের তেল রয়েছে যেগুলো রক্তের কোলেস্টেরোলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে৷ যাদের দেহে চর্বি বেশি, তাদের মাছের তেল খেতে দিলে ৬৮% কোলেস্টেরোল কমে৷ উদ্ভিদজাত তেল অনেক সময় কোলেস্টেরোল হ্রাস করে৷ ফালমন মাছের তেল খেলে ৪২% কোলেস্টেরোল কমে যায়৷ -বিভিন্ন গাছনত্ম ওষুধ খেতে পারেন যেমন-অজর্ুনের ছাল, চিরতা, এগুলোও কোলেস্টেরোল কমাতে সাহায্য করে৷ -প্রচুর পরিমাণে ফলমূল ও শাক-সবজি খাবেন৷ দেহের কোলেস্টেরোল কমাতে এ দুটোর বিকল্প আর কিছু নেই৷ বেশি বেশি শসা খাবেন৷ শসা খুবই উপকারী দেহের ওজন হ্রাস করতে, কোলেস্টেরোল কমাতে৷ -এখন রক্তে কোলেস্টেরোল কমানোর নানারকম এন্টিবায়োটিক রয়েছে, যেগুলোর পাশর্্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷ তবে নানারকম হারবাল ওষুধ সেৰেত্রে বেশ ফলদায়ক৷ হঠাত্‍ রক্তে কোলেস্টেরোলের মাত্রা বেড়ে গেলে চিনত্মিত হওয়ার কিছু নেই৷ অনেকে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়৷ এটা শরীরের জন্য আরও বেশি ৰতিকর৷ পরিমিত পরিমাণে দেহের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য গ্রহণ করে, সামান্য ব্যায়াম ও নিয়ম মেনে চলে ধীরে ধীরে খুব সহজেই এই কোলেস্টেরোলের মাত্রা কমিয়ে আনা যায়৷ তবে চেষ্টা করবেন যতদূর সম্ভব কম কোলেস্টেরোলযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে৷
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×