somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গেরিলা এবং মুক্তিযুদ্ধ

২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযুদ্ধের মুভি ‌‌' গেরিলা ' দেখলাম, ভালো লাগল। কিন্তু পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই বুকের ভেতর একধরনের আতঙ্ক অনুভব করি, চোখের সামনে ধর্ষণ আর জবাইয়ের দৃশ্যগুলি ভাসতে লাগল, মনে হচ্ছিল আমি বড় ভাগ্যবান এইজন্য যে ১৯৭১ সালের আগে জন্ম হয়নি। কী ভয়ঙ্কর আতঙ্ক নিয়ে এক একটা মেয়ে দিন কাটিয়েছে ভাবলে দিশেহারা বোধ করি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মা-খালারা সবাই ছিলেন আমার নানাবাড়িতে। খালারা, মামীরা সবাই অল্পবয়সী, কেউ কিশোরী, কেউ তরুণী। শোনা গেল গ্রামে মিলিটারি ঢুকেছে, মেয়েদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, নানা চিন্তিত হয়ে পড়লেন, বললেন, পাকিস্তানিরা বেশিদিন টিকতে পারবে না, এরা মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছে, এদের ওপর আল্লাহর গজব পড়বে। ঐদিনই নানা হার্টফেল করে মারা যান।
আমার নানীর চোখের সমস্যা ছিল, ডাক্তার দেখানোর পরপর যুদ্ধ শুরু হয়, যুদ্ধের সময় নানা মারা যাওয়ায় নানীর আর পরবর্তী তারিখে ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয় না। ফলে তিনি দৃষ্টি হারান। যুদ্ধের পর ২৩ বছর তিনি দৃষ্টিহীন চোখ নিয়ে বেঁচে ছিলেন।
আমার খুব কাছের একজন বন্ধু মন্ঞ্জু আপা, বয়স ৫৬, অসমবয়সী এই বন্ধুর মুখে শুনি মুক্তিযুদ্ধের কথা, উনি বলেন, যুদ্ধের সময় প্রাণের ভয় যতটা না ছিল, তারচে' বেশি ছিল ইজ্জতের ভয়। প্রতিটা মুহূর্ত কাটতো আতঙ্কে। তার মুখে বিভিন্ন গল্প শুনেছি, একদিন কেউ একজন এসে খবর দিল, মিলিটারি আসতেছে, অমনি সবাই পালাতে শুরু করলো, মন্ঞ্ঝু আপাদের বুয়ার হাতে ছিল পানির কলস, উনি সবে কলসিতে পানি ভরেছেন, ঐভাবেই ছুটেছেন, একবারও মনে হয়নি পানি ফেলে দেয়া যায়, এমনই আতঙ্ক ভর করেছিল মনে।
নানাবাড়িতে একদিন রাজাকারদের সাথে এলো পাকিস্তানি সেনা, আমার বড় ভাইদের ধরে নিয়ে গেল, যাওয়ার সময় আমার মা ওদের পিছে ছুট দিলেন, রাজাকারটা ছিল আমার নানারবাড়ির কামলা, আম্মা তাকে বললেন, আমার ছেলেদের নিতে দিস না, লোকটা মিলিটারি স্টাইলে মাটিতে পা ঠুকে আমার মাকে চোখ রাঙিয়ে উর্দুতে বলল, আমি কি তোমার চাকর?
গেরিলায় যুদ্ধের সার্বিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। জবাইয়ের দৃশ্যগুলি এতো সরাসরি না দেখিয়ে অন্যভাবে দেখানো কি যেত না? নাসিরউদ্দিন ইউসুফ একজন প্রতিভাবান পরিচালক, তার কাজে ফাঁক থাকার কথা না, কিন্তু আমি কিছুতেই জবাইয়ের দৃশ্যগুলি ভুলতে পারছি না।
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×