প্রথম আলোতে কীভাবে কঠোর হতে হয় আমাদের জানা আছে এ সংবাদ পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা বলা জরুরি হয়েছে ।
আমি টেলিভিশনে খবর দেখিনি তাই এই সংবাদ পুরোপুরি সত্য কিনা তাও জানি না কিন্তু আশা করব এ সংবাদ মিথ্যা ও বানোয়াট ।
‘যেসব শিক্ষক নিজের সহকর্মীদের অপমান করেছেন, তাঁরা যে ভবিষ্যতে অপমানের শিকার হবেন না, তা কে বলতে পারে। আপনারা যে ছাত্রদের ব্যবহার করছেন, তারাও যে আপনাদের অপমান করবে না, সেটাও কে বলতে পারে। আপনার ছেলেকে বেয়াদব বানালে সে ছেলে আপনাকেও একদিন চড় মারবে। আপনারা ছাত্রদের যে জিনিস শেখাচ্ছেন, সে পরিস্থিতির শিকার আপনারাও হতে পারেন।’
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের ভয় দেখাচ্ছেন যে তারা আমাদের বেয়াদব বানাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে আমরাই তাদের কিছু করতে পারি ।
কিন্তু আমরা দেখলাম কারা বেয়াদবি করে, শিক্ষকদের অপমান করে । তাদের বেয়াদবি শেখাল কে বা কারা । আর মাননীয় পি এম আপনি কি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন ?
‘সবচেয়ে জঘন্য কাজ হচ্ছে একটি ছেলে একটি মেয়ের গা থেকে রক্ত নিচ্ছে। এর মধ্যে কি বাহবা আছে আমি বুঝতে পারি না। সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নিয়ে সিঁড়িতে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বিকৃত মানসিকতা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কীভাবে আসে?’
রক্ত গ্রহণ করেছিলেন বুয়েটের ডাক্তার এবং সতর্কতা মেনেই । আর বুয়েটে আমাদের রক্ত দান নতুন নয়, বুয়েট বাধনের মাধ্যমে ঢাকার রক্তের চাহিদার একটি অংশ বুয়েটই পূরণ করে । কিন্তু আপনি তাদেরই বিকৃত বললেন । তবে আমাদের ভুল হয়ে গিয়েছে, আপনার সোনার ছেলেদের কাছ থেকে ইফিশিয়েন্ট উপায়ে রক্তদান শিখে সেভাবে রক্তদান করা উচিত ছিল ।
‘হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর জীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারও নেই। আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকুক। সমস্যা হলে আমরা আলাপ-আলোচনা করি। আমার সঙ্গে শিক্ষকেরা বসেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমার সঙ্গে বসে যে কথা দেওয়া হয়েছিল, সে কথা রাখা হয়নি।’
কিন্তু এপ্রিলে শুরু হওয়া আন্দোলন আপনাদের দলবাজির কারণেই এত দুর এসেছে । আপনারাই আমাদের জীবন নিয়ে খেলছেন ।
------------------------------------------------------------------
বাংলাদেশের মানুষের গোল্ডফফিস মেমোরির প্রতি সম্মান রেখে :
বুয়েটে আন্দোলন বহু পূর্বেই শুরু হলেও এপ্রিলে সাররা কর্মবিরতি শুরু করেন । এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সকল দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন । প্রধানমন্ত্রী এজন্য সারদের নিকট হতে এক মাসের সময় চান । শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে ২৭ দিনের কর্মবিরতির পর শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেন ।
কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ১৪ জুলাই, ২০১২ থেকে শিক্ষকরা পুনরায় কর্মবিরতিতে যাবার সিদ্ধান্ত নেন । কিন্তু এর পূর্বেই ভিসি ১০ জুলাই বুয়েট বন্ধ ঘোষণা করেন । ১১ জুলাই এর ছাত্ররা এতে সহমত প্রকাশ করে এতে যোগ দেয় । এবার শিক্ষা মন্ত্রীর আশ্বাস দেন । আন্দোলন চলতে থাকায় তিনি বিব্রত হন । এর প্রেক্ষিতে ও হাইকোর্টের কারণে আন্দোলন ৩০ জুলাই স্থগিত করা হয় ।
কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ছাত্ররা এবার একা পুনরায় আন্দোলন শুরু করে । পরবর্তীতে শিক্ষকরা এতে ব্যক্তিগতভাবে যোগদান শুরু করেন ।
সরকার পুনরায় আশ্বাসের চক্র চালুর চেষ্টা করছে । তাই এবার আমরাও আশ্বস্ত হয়ে বসে আছি । সরকার তাদের গুচ্ছ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো ।
কিন্তু ভিসি কে রেখে বুয়েটে কখনও শান্তি ফিরবে না । আমরা তাই আশা করি সরকার একই সঙ্গে ভিসিকেও প্রত্যাহার করে নেবেন ।
এ প্রসঙ্গে নামহীন আমি এর একটি পোস্ট ‘কঠোর কীভাবে হতে হয়, জানা আছে’ --- কার উপর কঠোর হবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


