somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবিষ্কার

০৩ রা মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজে পড়াকালীন অবস্থায় কারো সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব করা হয়ে ওঠেনি। কেউ কেউ হয়তো বা আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিল, আমি নিজেই কারো সাথে বন্ধুত্ব করিনি। আমি ছিলাম একটু উদাসীন প্রকৃতির। বিজ্ঞান আমাকে প্রচুরভাবে আকর্ষণ করতো।
স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিজ্ঞানের প্রতি আমার একটা বেশ বিরক্ত জন্মেছিল। কিন্তু যেদিন আমি প্রথম কলেজে ক্লাস করি, সেদিন রাতে আমি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নটি ছিল এরকম:- “আমি একটি যান্ত্রিক (রোরট) পাখি আবিষ্কার করে বেশ বিখ্যাত হয়ে যাই। বিখ্যাত এই কারণে হইনি যে আমি পাখি আবিষ্কার করেছি। বিখ্যাত হয়েছি এই কারণে যে আমার আবিষ্কৃত পাখিটি সবকিছু করতে পারতো যা একটি সত্যিকারের পাখি করতে পারতো। শুধু আমার পাখি কোন খাবার খেত না এবং সত্যিকারের পাখির মত অন্য কোন চাহিদা যেমন ডিম পাড়া, বাচ্চা ফোটানো এসব কিছুই ছিল না। আমার আবিষ্কৃত ক্ষুদ্রাকার। এবং এর শক্তি ছিল যে সত্যিকারের বিরাট পাখিও আমার আবিষ্কৃত পাখিটির সাথে মারামারি লাগলে পেরে উঠতো না। এ সমস্ত কারণে আমি বিখ্যাত হয়ে উঠি।‌‌”
সেদিন থেকে বিজ্ঞান আমার মনে এক ধরনের অনুভুতি সৃষ্টি করেছে। আমার মনে একটা গুপ্ত বাসনা লালন করতে লাগলাম যে আমি এরকম একটা পাখি আবিষ্কার করবই। আমি সত্যি সত্যি একদিন সেই স্বপ্নের পাখি আবিষ্কার করেছি। এর ফলে অনেক বিখ্যাত ও হয়েছি। কিন্তু কেউ বা কারা যেন আমার সেই স্বপ্নের পাখিটি ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু তাতে কি বিজ্ঞান যখন একবার আমার মনে বাসা বেধেছে, আমি আরো নতুন কিছু আবিষ্কার করবোই। আবার আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করবো।
আবার আমি গবেষণার কাজ শুরু করলাম। কিন্তু কিছু মাথায় আসল না কি আবিষ্কার করব। ইতিমধ্যে দুজনের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। একদিন বন্ধুদের সাথে পিকনিকে গেলাম। সারাদিন সেখানে পিকনিক করে রাতে ফেরার সময় আমরা সবাই ক্লান্ত। ক্লান্ততার কারণে ফেরার সময় আমাদের গাড়িটি অ্যাকসিডেন্ট করে ফেলে আমার এক বন্ধু। আমরা সবাই কম বেশি আহত হয়ে হই। হয়তো বা আমার জীবনে এরকমটাই লিখা ছিল, কিছুর মধ্য দিয়ে কিছু পাব। হ্যা আমি নতুন এক আবিষ্কারের সন্ধান পেয়েছি। এবারে আমার আবিষ্কারটা আরোও বড়। সবাইকে ছেড়ে ছুড়ে আমি গবেষণার জন্য নিড়িবিলি এক জায়গায় চলে যাই। সেখানে বেশ প্রায় দেড় বছর পরে আমার আবিষ্কার সফল হয়। আমি ফিরে আসি আমার পুরোনো বাসস্থানে। আমার বাবা মার কাছে। আমি যাওয়ার সময় কোন গাড়ি সাথে করে নিয়ে যাইনি, কিন্তু এসেছি গাড়ি দিয়ে। তাই না দেখে আমার বাবা মা তো সেই কি প্রশ্ন:-

বাবা:- দাড়াও রনি বাড়ির ভেতরে ঢুকবে না।
আমি:- কেন বাবা কি হয়েছে?
বাবা:- চুপ, একটা কথাও বলবে না, তুমি প্রশ্ন করার অধিকার হারিয়ে ফেলেছ।
আমি:- বাবা আমি কিছু বুঝতে পারছি না, হয়েছে কি বলবে তো?
মা:- কোথায় ছিলি তুই এতদিন, কাউকে কিছু না জানিয়ে?
বাবা:- তুমি জান না কোথায় ছিল তোমার ছেলে, খারাপ পথে পয়সা কামাই করতে গিয়েছিল, দেখনা সেই পাপের পয়সায় গাড়ি কিনে নিয়ে এসেছে।
এই বলে বাবা মা দুজনেই ঘরে ঢুকে গেলেন। আমিও আর কিছু না বলে আমার ঘরে চলে গেলাম। আমি তাদেরকে আমার আবিষ্কারের কথা বলতে পারলাম না, আমি ইচ্ছা আমি তাদেরকে চমক দিব আমার নতুন আবিষ্কার দিয়ে।
বিকেলে আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে বেরুলাম। কতক্ষণ গাড়ি চালানোর পর আমি তাদের সামনে আমার আবিষ্কার প্রকাশ করলাম।
রবি:- আরে রানি করছিস কি, পাগল হলি নাকি, হাত পা সীটে তুলে বসলি কেন?
ত্বোহা:- গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট করবে তো, তুই কি আমাদের মেরে ফেলতে চাস নাকিরে?
আমি:- আরে বন্ধু বুঝলি না তোরা এটাই আমার নতুন আবিষ্কার। আমি এর মধ্যে এমন কিছু শক্তি কম্পইটারাইজড করেছি, যে এই গাড়ি কোন অ্যাকসিডেন্টের আগে নিজে থেকেতো পাশ কাটাবেই, এমনকি তুই সম্পূণ রূপে ফ্রি হয়ে বসলেও এই গাড়ি নিজে থেকেই চলতে পারবে।

হ্যা এটাই হল আমার নতুন আবিষ্কার। এই গাড়ির ফমূর্লাটি বিক্রি করে আমি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছি। এখন বাবা মাকে নিয়ে সুখে আছি আর চালিয়ে যাচ্ছি নতুন কিছু আবিষ্কারের গবেষণা। শীঘ্রই নতুন কিছু আবিষ্কার করবো।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×