somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রস্তাবিত পে স্কেল ২০০৯ প্রসংগে !!!

৩০ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




প্রথাগতভাবে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এবারই প্রথম পাঁচ বছরের পূর্বেই বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ কার্যকর করতে যাচ্ছে। এ জন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বিঘোষিত নীতি হলো সকল পর্যায়ে প্রান্তিক জনগণকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁদের সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে অধিক হারে নিশ্চিত করা। এই অর্থে বর্তমান সরকারের নীতিও দলীয় ইশতেহার থেকে আলাদা কিছু নয়। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাচনী মেনোফেষ্টুতে কর্মচারী/কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সরকার সেই নির্বাচনী অঙ্গীকার এখন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।
পরিতাপ ও বেদনার বিষয় হলো সরকার কর্তৃক গঠিত সচিব কমিটি বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের যে পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি করে বেতন স্কেল’০৯ চূড়ান্ত করেছেন তা কোনক্রমেই ন্যায় ও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি নয়। এতে নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন কম হারে বৃদ্ধি করে সর্বোচচ ৪টি গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন অধিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিষয়টি এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম থেকে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ৭২% থেকে ৭৪%। এখানে ও প্রথম গ্রেড থেকে নিচের গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। পাক্ষরে ১০নং গ্রেড হতে ১৮নং গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য বেতন স্কেল ২০০৫ থেকে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৫৬% থেকে সর্বোচ্চ ৬৯% পর্যন্ত। প্রকৃতপে কাজের মানদন্ডে বিচার করলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে এই সকল কর্মচারীরাই প্রতিষ্ঠানের চালিকাশক্তি। অথচ এই বিপুল সংখ্যক কর্মচারীদের বঞ্চিত করে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ৭৪% হারে। এটা কি অনৈতিক, মানবতাবর্জিত ও বৈষম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নয় ? আমরা পত্রিকা মারফত জেনেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বল্প বেতনভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তথাপি বেতন সংক্রান্ত সচিব কমিটি ১৯ ও ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন সামান্য বৃদ্ধি করে অধিকাংশ কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উপো করেছেন। প্রকৃতপে সচিব কমিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে অবজ্ঞা করেছেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ১ জানুয়রি ২০০৫ এ যে বেতন স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল তাতে ১৯৯৭ সালের বেতন স্কেল থেকে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের জন্য সর্বনিম্ন ৪০% থেকে সর্বোচ্চ ৫৮% বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। পান্তরে ১১-২০ নং গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিল সর্বনিম্ন ৫৬% থেকে সর্বোচ্চ ৬১% পর্যন্ত। অর্থাৎ বেতন স্কেল ২০০৫ এ কর্মচারীদের বেতন বেশী হারে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সুতরাং ২০০৫ সালের বেতন স্কেলে সকল গ্রেডভুক্ত কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির আনুপাতিক পরিমাণ ও হার সঠিক ও যৌক্তিক ছিল। আমরা পঞ্চম গ্রেডভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা নিচু গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ ও শতকরা হার দেখে ব্যথিত হয়েছি। তাই বিবেকের তাড়নায় বিষয়টি সর্বসাধারণের গোচরে আনা প্রয়োজন মনে করছি।
বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের নিকট স্বল্প বেতনভুক্ত সরকারী কর্মচারীসহ সকল শ্রেণীর নিম্ন আয়ের লোকজন অধিক মাত্রায় মানবহিতৈষি কর্মসুচি প্রত্যাশা করে। সরকারের বিঘোষিত কর্মসূচিও তাই। কিন্তু প্রস্তাবিত বেতন স্কেল’০৯ এ সচিব কমিটি যে বেতন নির্ধারণ করেছেন তাতে কর্মচারীদের ন্যায্য ও আনুপাতিক বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উপো করে নিজেদের বেতন অধিক হারে বৃদ্ধি করেছেন। সচিব মহোদয়গণ নির্লজ্জভাবে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ দেখেছেন। এক্ষেত্রে
উপরের শ্রেণীর কর্মকর্তাদের সাথে নিচের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য হ্রাস না করে আরো বৃদ্ধি করেছে। তাই বিষয়টির প্রতি মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় হস্তপে কামনা করি। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ন্যায় ও যৌক্তিক একটি বেতন স্কেল সকল শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বাস্তবায়িত হবে।


***** ** *****
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×