somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কালোরাও মানুষ,ওদের রক্তও টকটকে লাল"

১৩ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-তুই আজকেও এখানে বসেছিস?
-তোমার সমস্যা হচ্ছে?
ছেলেটা আরেকটু
চেপে গিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস
করলো।রাগে আমি বাকরুদ্ধ হলাম।স্যার
ক্লাসে থাকায় সিনক্রিয়েট করতে পারলাম না
ছেলেটার নাম শাহজালাল।মানুষ
যে কতোটা কালো আর
বিশ্রী হতে পারে সেটা শাহজালালকে না দেখলে
পারতাম না।ডান হাতের
পুরোটা জুড়ে বিদঘুটে একটা তিল বসে আছে!
সারাটা বছর ফুলহাতা শার্ট পড়ে তিলটাকে ঢাকার
বৃথা চেষ্টায় লিপ্ত হয় শাহজালাল।সেদিন যখন বললাম,
"কি রে জালাইল্যা! শার্টের
হাতা টানাটানি না করে নিজের
হাতটা কেটে দিলেই পারিস"
ওইদিন আমার পাশ থেকে উঠে গিয়ে লাস্ট
বেঞ্চে বসে গিয়েছিল ছেলেটা আজও
বোধহয় সেই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে
-জালাল, তুই কি আমার পাশ
থেকে উঠবি?
-ভাই, সেকেন্ড বেঞ্চ থেকে বোর্ড
ভালো দেখা যায়।এজন্যই শুধু এখানে বসেছি
আমিতো তোমাকে বিরক্ত করছি না!!
-আমি বিরক্ত হচ্ছি! লাস্ট বেঞ্চে গিয়ে বয় আর
কালা মাইনষের এতো পড়াশোনা কিসের?
শাহজালাল তখন থেকে লাস্ট বেঞ্চে বসেই ক্লাস
করতো।লাস্ট বেঞ্চের ছেলে যে প্রথম
হতে পারে, সেটা শাহজালালকে না দেখলে বিশ্বাস
করতাম না।ক্লাসের সবাই যখন কোরাস
করে কালো ছেলেটাকে উপহাস
করতাম।তখন শাহজালাল কোনো এক
বইয়ের ফাঁকে মুখ গুঁজে দিতো।একদিন সব
ঘেন্না উপেক্ষা করে ওর মাথাটা তুলে দিয়েছিলাম
আমি।ভেজা ফিজিক্স বইটা এখনো আমার
চোখে ভাসে আর
কান্নারত বিশ্রী সেই মুখটা ভিজায়
আমার চোখ।
সেবার ফাইনাল পরীক্ষায় উচ্চতর
গণিতের দিন বেশ কয়েকটা অংক বলে দিয়েছিল
জিসানকে।জিসান সেদিন বলেছিলো
- অপু, শাহজালালকে এভাবে অপমান
করাটা বোধ হয় ঠিক না।
আমি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলাম জিসানকে
কিন্তু সেদিন যখন ক্লাসে মারামারি করে মাথা ফাটালাম
এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন
মিটেছিলো কালো চামড়ার শাহজালালের শরীর
থেকে।আমি তখন উপলব্ধি করেছিলাম,
কালোদেরও ভালো একটা মন আছে
ওরাও মানুষ
এরপর গেলো অনেকদিন।অতিরিক্ত
লজ্জা শাহজালালের সাথে কথা বলা থেকে বিরত
রেখেছিল আমাকে।
ক্লাস টেনের শেষ ক্লাসের দিন
লজ্জা ভাঙলো আমার।আরো ভাঙলো সাদা চামড়ার
অহংকার!! শেষ পিরিয়ডে খুব
হৈ হল্লা হচ্ছিলো।হঠাৎ স্যারের
ঘোষণা এবং মাইক
হাতে দাঁড়ানো ছেলেটাকে দেখে চুপচাপ
হয়ে গেলো সবাই।শাহজালালের কন্ঠে আবেগ
ঝরছিলো
".....আমি কালো দেখে তোমরা সবাই
আমাকে ঘৃণা করো
অথচ দেখো,
আমি ইচ্ছা করে কালো হইনি
আল্লাহ
আমাকে বানিয়েছেন।আল্লাহর
সৃষ্টিকে ঘৃণা করা কি উচিত?
আমি মাঝেমধ্যে খুব হীনমন্যতায়
ভুগতাম।কিন্তু তোমরাই
আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিলা উপহাসের
আড়ালে! এজন্য তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ.....
মানুষ মানুষের কাছে কি চায় জানো? একটু ভালোবাসা
কিন্তু
তোমরা মানুষের মধ্যেই জটিল
একটা দেয়াল গড়ে তুলেছো।এপারের
ভালোবাসা ওপারে যাবে না!! এমন একটা ব্যাপার কিন্তু
দেখো, আমরা সবাই-ই মানুষ আমাদের সবার
দেহে বইছে লাল রক্ত।তোমরা বিশ্বাস করো না?
আমার রক্ত যে লাল? আচ্ছা দেখি তাহলে,
কালোদের রক্ত লাল কিনা! "
এটুকু বলেই শাহজালাল ছোট্ট
একটা ব্লেড বের করলো পকেট থেকে
সেকেন্ড বেঞ্চ থেকে আমি স্পষ্ট
দেখতে পাচ্ছিলাম ব্লেডটা।স্যার
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও
আমি উঠে এলাম বেঞ্চ থেকে
-নাটক করস? তোর রক্ত লাল
এইটা হাত কেঁটে দেখাতে হবে?
আচ্ছা ...তাইলে আমার হাত কাট।তুই
না আমাকে রক্ত দিছিলি? কাট...আমারটা কাট
কালো বর্ণের ঝাপসা শাহজালাল
ব্লেডটা ফেলে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো
হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো পুরো ক্লাস।
সবাই যেন কোরাস
করে জানিয়ে দিচ্ছে পুরো পৃথিবীকে ....
"কালোরাও মানুষওদের রক্তও টকটকে লাল"
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×