somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ মহিবুল ইসলাম (ফারুক)
ভীষণ অন্তর্মুখী মানুষ। সনদ আছে শিক্ষা নেই। লিখতে গেলে বানানের ভয়ে বেশি দূর যেতে পারি না, তবুও মনের বুদবুদ উগড়ে দিতে না পারলে অস্বস্তিতে ভোগি। অস্বস্তি তাড়াতে ভুল বানানেও বিক্ষিপ্ত কিছু কথা বলে যাই! যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় কেবল তাদের জন্যে।

স্বপ্নের সাথে বসবাস আর স্বপ্ন থেকে পলাতক সময়ের কথা---

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ ভোর ৬:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্নের সাথে বসবাস আর স্বপ্ন থেকে পলাতক সময়ের কথা---
======
আজকাল কখনো কখনো আমার নিজের প্রতিই নিজের সন্দেহ হয় ‘আমি কি মৃত নাকি জীবিত?’ কেননা জ্ঞানী-গুণীদের কাছে শুনেছি, স্বপ্ন ছাড়া কোন মানুষ নাকি বাঁচতে পারে না। লক্ষ্য করে দেখলাম, ইদানীং আমার মধ্যে কোন স্বপ্ন নেই। দিবসে কিংবা নিশিতে, শয়নে কিংবা জাগরণে কোন স্বপ্নের কথাই আমি স্মরণে আনতে পারি না। তাই বেঁচে আছি কিনা তা পরখ করার জন্য মাঝে মধ্যে নিজেই নিজের শরীরে চিমটি কাটি!!
.
একটা সময় ছিল যখন দিনে কিংবা রাতে স্বপ্ন কিংবা স্বপ্নের ঘোরের মধ্যেই কাটত! জীবনীগ্রন্থ আর ইতিহাসের সুনামধন্যদের কাহিনী পড়ার নেশা ছিল। যেদিন যার সম্পর্কে পড়তাম তাকে ঘিরেই চলতি মুহূর্তের সকল ভাবনা আবর্তিত হত; তাঁর মত হবার স্বপ্নে বিভোর হতাম; এর রেশ চলত অনেক দিন পর্যন্ত।। পঠিত বইয়ের মূল চরিত্রের মত হয়ে ওঠার নানা পরিকল্পনা মাথায় গিজগিজ করত দিনে, আর রাতে ঘুমের ঘোরে-স্বপনে হয়ে ওঠতাম জীবন্ত সেই চরিত্র!
.
হারুনুর রশিদের শাসনামলের কাহিনী পড়ার পর স্বপ্নে রাজা বনে গিয়ে ঘোড়ায় চড়ে প্রজাদের অবস্থা দেখতে ঘুরে বেড়ানোর স্বপন দেখেছি অনেক রাতে। একরাতে স্বপ্নে হঠাৎ ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে ঘুম ভাঙ্গে; জেগে দেখি আমার বিকট চিৎকারে অন্যরাও জেগে ওঠে আমার পাশে জড়ো হয়ে গেছে! বড্ড লজ্জা পেয়েছিলাম সেদিন।
.
শেরেবাংলার জীবনী পাঠের পর পাঠ্য বিষয় একবার পড়েই আর না পড়ার নেশায় পেয়ে বসেছিল কিছুদিন যাবৎ। সেবার পরীক্ষার হলে গিয়ে কেঁদে ছিলাম; ফল নেমে গিয়েছিল দুই ধাপ নীচে। সেকথা মনে হলে আজও একা একা হাসি।
.
“ভৃত্য চড়িল উটের পিঠেতে উমর ধরিল রশি” খ্যাত ঘটনাটি পড়ার পর কাজের লোকদের প্রতি বিশেষ সহানুভুতিশীল হয়ে ওঠেছিলাম, কাজের লোকদের প্রতি সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি মন বিগড়ে গিয়েছিল ভীষণভাবে। জীবনের মৌলিক অর্জনের ঝুলিতে এটি আজও জমা রয়েছে।
.
কৈশোর উত্তীর্ন হতে না হতেই হাতে পেয়েছিলাম ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ আর লেলিনের জীবনী। গোগ্রাসে পড়ে ফেলেছিলাম। নিজের মধ্যে স্বপ্নের বান ডেকেছিল যেন। কথায় বা চলায় 'বিপ্লবী' 'বিপ্লবী' ভাব আর ঘুমের ভেতর স্বপনে আঙ্গুল উচিয়ে বক্তৃতা দিতাম। তখন সমবয়সী শ্রমিক, কাজের লোকদের দেখলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যেত। ‘যে বয়সে আমি বিদ্যায়তনে যাচ্ছি অথচ সেই বয়সে দুমুঠো আহারের জন্য ওরা অন্যের বাড়িতে শ্রম দিচ্ছে’ এমনটা ভেবে বিষাদে মন ভরে যেত; সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নে উদ্বেলিত হতাম। বৈষম্যের বিরুদ্ধে মনের ভেতরে বিপ্লবের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠত; বিপ্লব স্পন্দিতবুকে তখন মনে হত আমিই যেন লেলিন!!
.
-এসবই পুরানো দিনের কথা; কৈশোর আর কৈশোর উত্তীর্ন দিনের কথা।
.
কঠিন বাস্তবে জীবিকার সংগ্রামের দানবীয় হেচকা টানে কখন যে স্বপ্নগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন ও পলাতক হয়ে পড়েছি তা টেরও পাইনি। ইত্যবসরে সময় অনেক গড়িয়ে গেছে; স্বপ্ন থেকে পলাতক আমি এখন অন্য জীবনে; স্বপ্ন থেকে অনেক অনেক দূরে। এখন আমি ‘হ্যান্ড টু মাউথ’ জিন্দেগী গোজরানে মহা ব্যস্ত এক সকাল-সন্ধ্যার চাকর। দিনশেষে এক রাশ ক্লান্তি নিয়ে নীড়ে ফিরি, আবশ্যিক রুটিন শষে দু’চোখ ভরা ক্লান্তির ঘুম নিয়ে গভীর নিদ্রায় ডুবে যাই।... সকালে মুয়াজ্জিনের আজানে ঘুম ভাঙ্গে বটে কিন্তু স্বপ্নে কোন কিছু দেখেছি কিনা স্মরণে আসে না। কখনো মনে হয় ‘কিছু একটা যেন দেখেছি’ কিন্তু কি দেখেছি স্মৃতিতে তা আর স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় না। সত্যিই স্বপ্নরা আজ আমার নিকট অধরা!
.
স্বপ্ন থেকে পলাতক এক নিভৃতচারীর নিয়তিবাদী জীবন এখন আমার।।।
_____
২০১৪
=====
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসালসুল (অনন্ত পশ্চাদগমন), প্রথম সৃষ্টি ও ‘আকল’: কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সতর্ক অনুসন্ধান

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭


ভূমিকা
সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন হলো,সবকিছুর শুরু কোথায়? যদি প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার আগে আরেকটি সৃষ্ট বস্তুর প্রয়োজন হয়, এবং সেই নির্ভরতার ধারা কখনো শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×