somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশে ২৩ হাজার ৩১০ বৈধ কোটিপতি!

১৪ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে কোটিপতির সংখ্যা কত_এ নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে বিতর্ক যা-ই থাকুক প্রতিবছর কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ১৯৭৫ সালে দেশে বৈধ কোটিপতির সংখ্যা যেখানে ছিল মাত্র ৪৭ জন, সেখানে ২০০৯ সাল শেষে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজারেরও বেশি। সে হিসাবে প্রায় সাড়ে তিন দশকে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৪৯২ গুণ। আর এ হিসাব কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন তাদের। দেশের অনেক কোটিপতির নাম এতে স্থান পায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন তৈরি করে সেটাই কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তবে অবৈধ বিত্তের মালিকরা স্বনামে-বেনামে একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে পারেন এবং রাখেন। এদের শনাক্ত করা কঠিন।
প্রায় চার দশকে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে দুই থেকে তিন গুণ। আশি দশক পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। নব্বই দশক থেকে ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি আমানতকারীর আধিপত্য বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩১০ জন এবং এদের মোট আমানতের পরিমাণ হচ্ছে এক লাখ ৫৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে চার রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে কোটিপতির সংখ্যা হচ্ছে পাঁচ হাজার ৬০১ জন, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে এক হাজার ৮৫৪ জন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এক হাজার ৯৯৬ জন। অন্যদিকে কোটিপতি গ্রাহকদের আমানতের পরিমাণ হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৩১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ছয় হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৫১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর দশমিক ছয় শতাংশ এবং আমানতের পরিমাণ হচ্ছে মোট আমানতের এক-তৃতীয়াংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৭ জন ও তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ১০ শতাংশ। ১৯৯০ সালে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৩ জন ও আমানতের পরিমাণ ১২ শতাংশ। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৫৯৪ জন, আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২০ শতাংশ, ২০০১ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৭৯৯ জন, আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ, ২০০৬ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪৯ জন, আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশ, ২০০৭ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৬৩৩ জন। খবর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×