দেশে কোটিপতির সংখ্যা কত_এ নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে বিতর্ক যা-ই থাকুক প্রতিবছর কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ১৯৭৫ সালে দেশে বৈধ কোটিপতির সংখ্যা যেখানে ছিল মাত্র ৪৭ জন, সেখানে ২০০৯ সাল শেষে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজারেরও বেশি। সে হিসাবে প্রায় সাড়ে তিন দশকে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৪৯২ গুণ। আর এ হিসাব কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন তাদের। দেশের অনেক কোটিপতির নাম এতে স্থান পায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন তৈরি করে সেটাই কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তবে অবৈধ বিত্তের মালিকরা স্বনামে-বেনামে একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে পারেন এবং রাখেন। এদের শনাক্ত করা কঠিন।
প্রায় চার দশকে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে দুই থেকে তিন গুণ। আশি দশক পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। নব্বই দশক থেকে ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি আমানতকারীর আধিপত্য বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩১০ জন এবং এদের মোট আমানতের পরিমাণ হচ্ছে এক লাখ ৫৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে চার রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে কোটিপতির সংখ্যা হচ্ছে পাঁচ হাজার ৬০১ জন, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে এক হাজার ৮৫৪ জন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এক হাজার ৯৯৬ জন। অন্যদিকে কোটিপতি গ্রাহকদের আমানতের পরিমাণ হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৩১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ছয় হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৫১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর দশমিক ছয় শতাংশ এবং আমানতের পরিমাণ হচ্ছে মোট আমানতের এক-তৃতীয়াংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৭ জন ও তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ১০ শতাংশ। ১৯৯০ সালে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৩ জন ও আমানতের পরিমাণ ১২ শতাংশ। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৫৯৪ জন, আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২০ শতাংশ, ২০০১ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৭৯৯ জন, আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ, ২০০৬ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪৯ জন, আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশ, ২০০৭ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৬৩৩ জন। খবর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


