somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেদিনের ছোট্ট ফল বিক্রেতা : বেড়ে চলা বৈষম্যেরই এক রূপ

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিস থেকে ফেরার পথে মাঝে মাঝে মিরপুর ১০ এর গোল চক্করে নেমে কিছু কেনাকাটা করার অভ্যাস আমার। সেদিনও নেমেছিলাম। ফুটপাতে এক ফল বিক্রেতাকে দেখলাম দারুন সব বরই নিয়ে বসে আছে। আমি দরদাম করে কিছু কিনছি এর মধ্যে হটাৎ করে হৈ চৈ । ছোট্ট এক বাচ্চা ছেলেকে দুই পাশ থেকে দুই ভদ্রলোক ধরে নিয়ে চলছে। ছেলেটার চোখেমুখে আতংক আর বিদ্বেষের ছাপ। একজন ধরেছে তার জামা আরাকজন মাথা। ছেলেটার এক হাতে একটা বেল শক্ত করে ধরা। আশেপাশের লোকজন দেখলাম মজা পাচ্ছে ছেলাটার দুরবস্থা দেখে। ভদ্রলোক দুইজনের গলায় পরিচয়পত্র ঝুলছে, কোন বেসরকারী সংস্থার (ব্যাংক) কর্মকর্তা এরা। বেশ আ্যগ্রোসিভ। শক্ত করে ছেলেটাকে ধরে রেখেছে। আমি এগিয়ে গেলাম, থামালাম এদের। 'কি হয়েছে ভাই?' জানা গেল ছেলেটার হাতের বেলটা নিয়েই যত সমস্যা। প্রথমে সে এটা এদের কাছে বিক্রি করতে চাইলেও এখন দিতে চাচ্ছেনা, এরা দুইজনও ছাড়বেনা , বিক্রী করতে হবেই। আমি বললাম, 'ছেড়ে দেন ভাই , ছোট ছেলে, কস্ট পাচ্ছে।' এদের কোন বিকার নেই, আমার দিকে তাকালনা পর্যন্ত। এগিয়ে চলল। পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কোন কোন ভদ্রলোক বলছিলেন, ঠিকিই আছে এইগুলো বেশী বাইরা গেছে।
আমার দোকানদার ছেলেটা বয়সে পঁচিশ ছাব্বিশ হবে , সে দেখছিল সবকিছু এতোক্ষণ । তার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সে আটকালো, কি হইছে ভাই এরে এইভাবে ধরছেন ক্যা?
-তুমার কি? এ কি তুমার লোক?
- হ আমার লোক। এখন কি হইছে? (নিশ্চিত জানি তার লোক নয় ছেলেটা)
-সে এই বেলটা একবার দাম বলেছে, এখন বলছে বিক্রি করবেনা।
- তয় কি হইছে? ওর ইচ্ছা হইছে এখন বেচবে না, ছাড়েন ওরে। ছাড়েন।
ঐ তুই এই দিকে আয়।
ছেলেটার কথায় জোড় ছিল, সেই সংগে সে ছোট ছেলেটাকে টেনে নিজের দিকে নিয়ে নিল। লোক দুইটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হল। বড় ছেলেটা তখন গজরাচ্ছে ,গরীব হইছে বইলাই মারতে হইব? তুই এই জায়গা দাঁড়া।
লোক দুইজন সরে গেল সেখান থেকে। আমিও আমার ঝকঝকে বরইগুলো নিয়ে সরে এলাম এই শ্রেনী বিদ্বেষ অথবা শ্রেনীপ্রেমের এক নীরব সাক্ষী হয়ে।
ভাবছিলাম নীরবে এই যে বিভেদ তৈরী হচ্ছে সমাজে যার প্রভাব হয়ত একদিন ভয়ংকর রূপে দেখা দেবে। কিছু লক্ষণ কি এখনও দেখা যায় না? কোন ধরনের গন্ডগোল শুরু হলেই গাড়ি ভাংগার উৎসব শুরু হয় ঢাকায়। খেয়াল করে দেখবেন একদল টোকাই শ্রেনীর লোকই বিপুল উৎসাহে গাড়ি ভাংচুরে এগিয়ে আসে, মনের আনন্দে ভাংগে গাড়িগুলো। সে জানে যে এই সমাজ ব্যবাস্থায় এই গাড়ীর মালিক সে কোনদিন হতে পারবেনা, তা-ই হয়ত সে মনের যত ঘৃনা গাড়িগুলোর উপর তা চরম উৎসাহ নিয়ে ঝেরে দেয়। দেশের আইন শৃংখলা যদি কোনদিন কোন কারনে ভেংগে পড়ে (কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অন্যকারনে) তখন এই বন্চিত মানুষগুলো তাদের বন্চনা নিয়ে ভয়ংকর রূপধারন যে করবে না কে বলতে পারে?
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×