somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিরপুরবাসীদের জন্য বনানী - গুলশান - মহাখালী যাওয়া নিষেধ X(( X( B:-)

০১ লা মার্চ, ২০২৩ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখার শিরোনাম দেখে অবাক হওয়াটা খুব স্বাভাবিক । না, এমন কোন ঘোষণা এখনও সরকারী-বেসরকারী-স্বায়িত্তশাসিত কোন অথরিটি থেকে আসেনি, আর ঘটা করে ঘোষণা আসবে কিনা সেটার গ্যারান্টি নেই । কিন্তু শিরোনাম দেওয়ার পিছনে আমি যে ছবিটা ব্যবহার করেছি সেটা অনেকাংশেই দায়ী । আমি আরও বিস্তারিত করে বলছি ।

আমার মত যে বা যারা ঢাকা শহরের মিরপুর ১১, মিরপুর ১২, কালশী, মানিকদি, ইসিবি, মাটিকাটা ইত্যাদি জায়গার বাসিন্দা আছেন এবং অফিস বা অন্যান্য যে কোন উদ্দেশ্যে বনানী/গুলশান/মহাখালী রুটে যাবার পথে লোকাল বাসের শরণাপন্ন হন (হতে হয়) প্রতিনিয়ত, তা মাত্রই জানেন এই লোকাল বাসে করে সকাল বেলা অফিস যাওয়া কিংবা অফিস শেষে বাসায় ফেরাটা, কত্ত বড় কঠিন একটা ব্যাপার ।

এই রুটের লোকাল বাসের সিন্ডিকেট নিচের ছবিতে দেখানো ২টি বাসের দখলে । আপনি হয় রবরব পরিবহনে করে যাবেন নয়তো বিজয় পরিবহনে । এমন না যে এই দুইটা বাস কোম্পানির অল্প কয়টা বাস আছে কিন্তু এরা সিন্ডিকেট করে সকাল বেলা কিংবা বিকেল বেলা অফিস টাইমে মাত্র অল্প কিছু বাস ছেড়ে রাখে, যাতে তাদের বাসে সবসময়ই যাত্রীদের আধিক্য বজায় থাকে ।



ঝে মধ্যে সকাল বেলা অফিস টাইমে বিআরটিসির কিছু দোতলা বাস মহাখালী পর্যন্ত যাত্রীদের পৌছে দিলেও বিকেল বেলা সেই দোতলা বাসের দেখা আর মেলে না । এমনও হয় যে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে শেষমেশ বাসের গেটে ঝুলে ঝুলে বাড়িতে যাওয়ার শর্তে একজন যাত্রী হার মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে ঝুলে ঝুলে অফিস থেকে বাসায় ফেরে আর বাসের মধ্যে কোনরকমে দাঁড়িয়ে যাওয়া পাওয়া একেকজন অন্যজনের ঘাড়ে উঠে পড়ার উপক্রম হয় । এই চিত্র মহিলা হলে তো আরও ভয়ংকর । বাসে মহিলাদের উঠতেই নিষেধ করে বা হাত দিয়ে আটকে দেয় বাসের সুপারভাইজাররা।

আপনি যদি বিকেল সাড়ে ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঢাকা শহরের বনানী এলাকার যে কোন প্রান্ত থেকে মিরপুর আসতে চান, তবে আপনি নিঃসন্দেহে এই ঘটনার সাক্ষী হবেন । বাসে বসার সিট পাওয়া তো দূরের কথা, যদি সহজে দাঁড়িয়ে যাবার সুযোগ পেয়ে যান, নিজেকে এই দুনিয়ার অন্যতম সৌভাগ্যবান ভেবে নিবেন । রবরব পরিবহন ও বিজয় পরিবহনের সিন্ডিকেটের কারণে অন্য কোন বাস কোম্পানি এই রুটে পেরে তৈরি হতেও পারে না । বাস মালিকদের এহেন সিন্ডিকেটের কাছে এই রুটের যাত্রীরা অনেক অসহায় ।

এ তো গেলো বাসে উঠতে পারা কিংবা বাসে দাঁড়ানো বা বসার ব্যাপার, আরেকটা ভয়ানক বিষয় হচ্ছে এই বাসগুলোর সুপারভাইজার (কিংবা হেলপার যাই বলেন) এদের সাথে ভাড়া নিয়ে কথা বলা । আমরা ঢাকা শহরের যে কোন রুটে লোকাল বাসে নিয়মিত চলাচলকারী মাত্রই জানি, লোকাল বাসগুলো এখন সরকারী নির্দেশ মোতাবেক ডিজিটাল টিকিট চেকার মেশিনের মাধ্যমে ভাড়ার বিনিময়ে টিকিট (কিংবা টিকিট অনুযায়ী ভাড়া) এর আওতায় এসেছে । গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গণপরিবহনের ভাড়া সংক্রান্ত কিছু বিষয় নির্ধারণ করে যেমনঃ সর্বনিন্ম ভাড়া ১০টাকা, প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২টাকা ৪৮ পয়সা ইত্যাদি) । আর এই বছর থেকে শুরু হয়েছে পরিপূর্ণ টিকেট সিস্টেম, আর বাতিল হয় ওবিল সিস্টেম । টিকেট সিস্টেম শুরুতে যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এটা যে এখন আবার গলার কাটা হবে এটা বোধ হয় কেউ ঘুণাক্ষরে ভাবেনি ।




ওবিল সিস্টেম (নির্দিষ্ট স্টেশনে বাস থামলে কোম্পানি থেকে ঠিক করা একজন যাত্রী গুনে একটি কাগজে যাত্রী সংখ্যা লিখে সই করে দিতো) চালু ছিল বিধায় মালিকপক্ষের কাছে মোটামুটি একটা যাত্রী সংখ্যা হিসেব থাকতো । তখন বাসের সুপারভাইজাররা অল্প দূরত্বেও বেশি ভাড়া নিয়ে নিতো (যেমন বনানী থেকে মিরপুর ১২ এর ভাড়া নিতো ২০ টাকা আবার মিরপুর ১ এর ভাড়াও নিতো ২০ টাকা) । এটা ছিল মিরপুর ১২ কিংবা মিরপুর ১১ তে বসবাসকারী যাত্রীদের জন্য জুলুম । এটা নিয়ে কাছের যাত্রীরা নিয়মিত ক্ষোভ দেখালেও দূরের যাত্রীরা সুবিধা পেতো ।

বর্তমান টিকেট সিস্টেমে কিলোমিটার অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে (তবে কিছু ক্ষেত্রে বাসমালিকরা ভাড়া ২/৩ টাকা বাড়িয়ে ভাড়া নির্ধারণ করেছে) । বর্তমানে দূরের ভাড়া বেড়ে গেছে বেশ কিন্তু কাছের ভাড়াটা কমে গেছে (যেমন বনানী থেকে কালশীর ভাড়া ১৫ টাকা, মিরপুর ১২ এর ভাড়া ২০, মিরপুর ১১ এর ভাড়া ২৫ আবার মিরপুর ১ এর ভাড়া ৩৫টাকা) । এখন ওবিল না থাকাইয় মালিকপক্ষের ভরসা কতগুলো টিকিট কাটা হয়েছে এটার উপর । কিন্তু বাসের সুপারভাইজাররা কাছে যাবার যাত্রীদের কাছে ভাড়া নেয় ঠিকি টিকেট দেয় না ।

তবে আগের অবস্থার আর বর্তমান অবস্থা, ওবিল সিস্টেম বলেন আর টিকেটিং সিস্টেম বলেন, বাসে উঠলে বাসের সুপারভাইজার বা ড্রাইভারের সাথে কোন না কোন যাত্রীর চিৎকার চেচামিচি খুব নিত্য স্বাভাবিক একটা ঘটনা ।

তবে অস্বাভাবিক ঘটনা কোনটা জানেন? এই বাসের সুপারভাইজারগুলো কখনও কখনও মস্তানি করে । যে কোন যাত্রী যদি এদের মন মত না হয়, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে থ্রেট করে এরা । আমি এমনকি এমনটাও বলতে শুনেছি একজন সুপারভাইজারকে যে 'আপনি ওমুক জায়গায় যাবেন না? দাড়ান আমি ফোন করতাছি, আপনারে আজকে দেখামু, কত ধানে কত চাল' । ভাবছেন একবার? কি বুকের পাঠা এদের?!! এই অবাধ সাহসের একটাই কারণ এদের মালিকপক্ষের একচেটিয়া সিন্ডিকেট । এ থেকে মিরপুরবাসী আদৌ মুক্তি পাবে কিনা, আল্লাহ্‌ মালুম ।

বনানী-গুলশান-মহাখালী থেকে মিরপুর আসার পথে ঘন্টা দুয়েক দাঁড়িয়ে থেকে ২০০ টা বাসের মধ্যে উত্তরা-গাজিপুরগামী ১৯০ টা বাস আর মিরপুরগামী মাত্র ১০টা বাস!! এরকম ভাবে চলতে থাকলে হয়তো জনজীবনের দুর্দশা বাড়বে বৈ কমবে না ।

আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এই সমস্যা থেকে মুক্তির পরিত্রাণ পাবার জন্য কোন একটি বিকল্প উপায়ের ব্যবস্থা করুন...
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০২৩ রাত ৯:২৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। বিদায় পঙ্কজ উদাস

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:১৩



চান্দী জ্যায়সা রঙ্গ হ্যায় তেরা
সোনে জ্যায়সে বাল
এক তূ হী ধনবান হ্যায় গোরী
বাকী সব কাঙ্গাল


৭০ দশকের শেষে পঙ্কজ উদাসের এই গান শুনতে শুনতে হাতুড়ি বাটালের মূর্ছনা এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির ক্যাবিনেট পদত্যাগ করেছে।

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:০৬



মনে হয়, আমেরিকা চাপ দিচ্ছে প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির নতুন ক্যাবিনেট গঠন করতে। আমেরিকা কি করার চেষ্টা করছে, তা পরিস্কার নয়; পুরো ফিলিস্তিনে কেহ এখন আর প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটিকে বিশ্বাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কার্ড

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:১৫


তার সাথে আমার যখন দেখা হয়েছিল, তখনও এই শহরে মেট্রোরেল আসে নি। লোকাল বাসে করে যাতায়াত করি মিরপুর-মতিঝিল-মিরপুর। ক্লান্তিকর। সেদিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও সরাসরি মতিঝিলের বাস পাই নি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায় লিখলে হয় সস্তা-দরের লেখক!

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৭


ওপার বাংলার কথাশিল্পী সমরেশ মজুমজারের সাথে হুমায়ূন আহমেদের বেশ খাতির ছিল।তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ও শরতচন্দ্রের পরে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ‘হুমায়ূন আহমেদ’।
তবে আমার মত ভিন্ন; আমি মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার উচিৎ মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাওয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৭



কিছু হলেই অনুভূতিতে আঘাত, পান থেকে চুন খসলেই ধর্ম গেলো গেলো; মেরে ফেলো, কেটে ফেলো, পুতে ফেলো এসবই হচ্ছে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর মনোভাব। সময় এসেছে এসব সেন্টিমেন্টাল জনগোষ্ঠীর অনুভূতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×