somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন (পঞ্চম পর্ব)

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আগের পর্বঃ কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন ( চতুর্থ পর্ব)
কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন (প্রথম পর্ব)



আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার বিশেষ কোনো তাড়া ছিল না; কিন্তু পেটের দায়ে সকালে ওঠা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে বলে সূর্য ওঠার অনেক আগেই ঘুম ভাঙলো। ফজরের পর অল্প একটু হেঁটে আসলাম আশেপাশে। উদ্দেশ্য- ফ্রি ব্রেকফাস্টের যতটা পারা যায় গিলে হোটেল ভাড়া উসুল করা।

ছোট ডাইনিং এরিয়ায় খাবার সাজানো আছে, লাইনে দাড়িয়ে বোর্ডাররা প্লেট ভরছে। দু-একটা বাঁকা চোখ উপেক্ষা করে ৮০০ গ্রাম সাইজের একটা পাউরুটি বগলদাবা করে চিলেকোঠার খাবার ঘরে চলে গেলাম, সাথে বেশি চিনি দেয়া লাল চা আর হলের ডালের বাটির মতো সাইজের একটা বাটিতে মাখন আর জ্যাম। নিচে একটা টু স্লাইস টোস্টার আছে কিন্তু ওটার পিছনে লাইন দেয়ার ধৈর্য বা আগ্রহ আমার নেই।

নাস্তা খেতে খেতে ব্লগে চোখ বুলিয়ে আসলাম। ব্লগের বিবেক হাসান কালবৈশাখী ভাই ডেঙ্গুর গুজবে কান না দেয়ার বিষয়ে একটা পোস্ট দিয়েছেন। আর মোজাচোর আনমোনা আপু 'তিনদিনে ড্রাইভিং শিখুন' শিরোনামে একটা পোস্ট দিয়েছেন। আর সব ম্যাওপ্যাও পোস্ট । আমার স্বভাব না পড়ে লাইক দেওয়ার, এখন পড়েও লাইক দিতে পারলাম না বলে মনটা একটু ছটফট করছিল। মোবাইলে বেশি অভ্যস্ত নয় , অতীতে কখনো কখনো এ লাইক এ চাপ দিয়ে যেয়ে এমনও হয়েছে যে রিপোর্ট বাটনে চাপ দিয়ে ফেলেছি। কাজেই লগ ইন না করেই পড়ছিলাম।

পাউরুটি চার-পাঁচ টুকরা বাকি থাকতেই মাখন শেষ। আমার অত খাই খাই স্বভাব নেই যে মাখন ছাড়াই রুটি খেয়ে নেব। বেঁচে যাওয়া রুটিগুলো নিচে নিয়ে নিচে নেমে রিসেপশনিস্টের মেয়েকে বললাম,- এগুলো সাথে নিচ্ছি। সাথে জ্যাম নেওয়ার মতো কোনো বৈয়াম দিতে পারবে কি? ওরা পুরাতন বৈয়াম ফেলে দেয়, টেবিলে কোন খালি বৈয়াম থাকলে নিতে পারি বলে দিল। টেবিল খালি বৈয়াম পেলাম না। আমার বাপু অত আদেখলেপনা নেই যে জ্যাম লাগবেই, শুধু রুটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকলাম। 'জনাব কিছু ফেলে গেলেন কি? আবার আসতে ভুলবেন না। টাটা, বাই বাই।' রিসিপশনিস্টের সাথে এসব আলাপ সেরে বেরিয়ে পড়লাম ট্রাটের উদ্দেশ্যে।







ট্রাট পরিচিতিঃ প্রশাসনিক কারণে থাইল্যান্ডকে ৭৬টা প্রভিন্সে ভাগ করা হয়েছে (ব্যাংকক কোনো প্রভিন্সের মধ্যে পড়ে না, এটা বিশেষ প্রশাসনিক এলাকা )। প্রতিটা প্রভিন্সে একজন গভর্নর থাকেন। প্রভিন্স গুলো আবার ডিস্ট্রিক্ট বা জেলায় ভাগ করা যায়। থাইল্যান্ডের সাথে যদি বাংলাদেশের তুলনা করি ( রামোঃ তুলনা করলে সানফ্রান্সিসকো, শিকাগো বা প্যারিসের সঙ্গে তুলনা করা উচিত, থাইল্যান্ডের সাথে কেন; তবে আমার এই তুলনা শুধু জিওগ্রাফিক লোকেশন অনুসারে, উপমার ত্রুটি নিজ গুনে ক্ষমা করবেন) তবে ট্রাটের লোকেশনকে কক্সবাজারের সাথে তুলনা করা যায়।

ট্রাট থাইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায়। এর পূর্বদিকে কম্বোডিয়া, দক্ষিণে গালফ অফ থাইল্যান্ড। এই সাগরে পঞ্চাশটার বেশি দ্বীপ আছে যেগুলো টুরিস্টদের মূল আকর্ষণ, এমনিতে ট্রাট শহরে দেখার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এর মধ্যে তিন থেকে চারটা দ্বীপ বেশ বড়, বাকি গুলো ছোট ছোট, কয়েকটায় মনুষ্য বসতি নেই।



ব্যাংকক থেকে ট্রাট দূরত্ব ৩২০-৪০০ কিলোমিটারের মতো (রুট অনুসারে)। কোন ট্রেন যোগাযোগ নেই, যেতে গেলে বা ভরসা প্লেন বা বাস। কিন্তু ব্যাংক শহর থেকে এয়ারপোর্টে যেয়ে সিকিউরিটি চেক সেরে প্লেনে উঠে ট্রাট এয়ারপোর্টে নেমে ট্রাট শহর আসতে যে সময় লাগবে তার কাছাকাছি সময়ে বাসে করে ট্রাটে পৌছে যাওয়া সম্ভব। আগে থেকে টিকিট কাটলে প্লেন ভাড়া আটশ বাথের মতো। বাস ভাড়া ৩০০-৩৫০ বাথের মতো (বাস কোম্পানিভেদে মূল্য আলাদা)। কিরপিন কোন পথে যাবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।



ট্রাটের বাস ধরতে গেলে আমাকে ম চিৎ অথবা একামাই বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। দু জায়গা থেকেই ভাড়া এক। তবে ম চিৎ থেকে যে বাস ছাড়ে সেগুলো শহরের ভিতর হয়ে যায় বলে সময় বেশি লাগে। গুগুলের হিসাব অনুসারে ম চিৎ থেকে ট্রাট সময় লাগবে সাড়ে পাঁচ ঘন্টার মতো, আর একামাই থেকে সাড়ে চার ঘন্টার মতো। কাজেই একামাই হয়েই যাওয়া স্থির করলাম।


একামাই বাস স্ট্যান্ড

হোটেল থেকে একটু হেঁটে লোকাল বাসস্ট্যান্ডে এসে একামাই এর বাসে চড়ে একামাই পৌছালাম, সময় লাগলো এক ঘন্টার কিছু বেশি। ভাড়া ১৫ বাথ, ভুল করে এসি বাসে উঠে পড়ে ছিলাম বলে সাত বাথ আক্কেল সেলামি দিতে হলো। একামাই খুব বড় আকারের বাস স্ট্যান্ড না, আকারে আমাদের মহাখালি টাঙ্গাইল বাস স্ট্যান্ড কাছাকাছি, তবে অনেক বেশী গোছানো ।


মিনি ভ্যান

একামাই থেকে অনেকগুলো কোম্পানির বাস মোটামুটি দুপুর দুইটা পর্যন্ত ট্রাটের পথে চলে, এরপরে বাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এই মুহূর্তে বাজে সাড়ে দশটার মত। ঠিক এখন কোনো বাস নেই, পরের বাস এগারোটা দশে। তবে এখন মিনিভ্যান আছে। মিনিভ্যান গুলো অনেকটা বাংলাদেশের মাইক্রোবাসের মতো। সিটগুলো দুই সারিতে ভাগ করা, তবে কিছুটা অপ্রসস্থ। এ কারণে আমি মিনিভ্যানের বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী ছিলাম না, বড় বাসের জন্য অপেক্ষা করা শ্রেয় মনে করলাম। কয়েক কাউন্টার ঘুরে তিনশ বাথ দিয়ে টিকেট কিনলাম । বলে দিল প্ল্যাটফর্ম ১৫ থেকে বাস ছাড়বে।


প্লাটফর্মে বাস

এখানে যাত্রিকে বাস খুঁজে বেড়াতে হয় না। বাস স্ট্যান্ডে অনেক গুলো প্লাটফর্ম থাকে, নির্ধারিত জায়গা থেকে বাস ছাড়বে। প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত বসার জায়গা আছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি (সবসময় না), যে, বাস প্লাটফর্মে আসার আগেই ইউনিফর্ম পরা বাস কোম্পানির একজন কর্মচারী প্লাটফর্মে এসে দাঁড়ায় এবং যাত্রিদের উঠতে সাহায্য করে। প্লাটফর্মে বাস দেখে আমার প্লাটফর্মে দাঁড়ানো ভদ্রমহিলা কে জিজ্ঞাসা করলাম- দুবার- এটাই আমার বাস কি না। বলল -একটু পরে আসছে। তৃতীয়বার বাস আসতে আমি যাওয়ার আগেই আমাকে ইশারা করলে আমি বাসে উঠে পড়লাম। মাত্র দু-তিন মিনিটের মধ্যেই বাস ছেড়ে দিলো। টিকেটে নম্বর দেয়া আছে, আমি নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসলাম।

বাস ছাড়ার পরপরই একজন কন্ডাকটার টিকিট চেক করা শুরু করলো। সবাইকে জিজ্ঞাসা করছে কোথায় যাবে। আমার সামনে সবাই বলল চ্যানথাবুরি! আমি যাব ট্রাট। গুলিস্তানে দেখেছি মাওয়ার প্যাসেঞ্জারকে চ্যাংদোলা করে মুন্সীগঞ্জের গাড়িতে তুলে নিতে। এখানেও এরকম কিছু হলো কি না ভয় লাগছে X(( । আমার কাছে আসলে বললাম ট্রাট। আমাকে পাল্টা জিজ্ঞাসা করলো ট্রাট না চ্যানথাবুরি? আমার আতঙ্ক একটু বেড়ে গেল। বললাম এটা ট্রাট যাবে না ? বেটি মনে হয় আমার কথা বুঝলো না। বললো -বসে থাকো। আমি মোটামুটি আতঙ্ক নিয়ে বসে থাকলাম।

অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাংকক শহরের জ্যাম ছাড়িয়ে বাস শহরের বাহিরে এসে পড়লো। রাস্তার দু'ধারে খালি সবুজ আর সবুজ, আর কিছুক্ষণ পরপর জলাভূমি। দেখতে দেখতে চোখ জুড়িয়ে যায় তবে; খানিকক্ষণ পর বোরিং লাগতে থাকে। বেলা দুইটার দিকে রাস্তার ধারের রেস্টুরেন্টের মতো জায়গায় বাস থামল। এখানে জোহরের নামাজের পরে খুজলাম খাবার কি পাওয়া যায় । ডাব খেলাম ৫০ বাথ দিয়ে। সুন্দর লাল তরমুজ আছে, ভাবলাম খেয়ে দেখি। কাউন্টারের পাশে দাড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাতেই দেখি, এক বেটি শুয়োর কাটছে। আমাকে দেখে কাজ ফেলে এগিয়ে এসে হাতে গ্লাভস পরে তরমুজ গুলো টুকরো করার পাঁয়তারা করতেই থামিয়ে দিলাম। আমার তরমুজ খাওয়া লাগবেনা। চিনা বাদাম ভাজা আর সকালের পাউরুটিই সই।

সাড়ে চার ঘন্টার রাস্তা আর শেষ হয়না। বিকেল পাঁচটা বাজে। গুগল ম্যাপে দেখাচ্ছে এটা চ্যানথাবরির কাছে। আরও দেড় ঘন্টা লাগবে। এর মধ্যে এসে থামল এক জায়গায়। সবাই নেমে গেল । বুঝলাম বাটুর পাল্লায় পড়েছি। এখন আর ট্রাটের বাস পাবোনা, রাতে এখানেই থাকতে হবে । ভাগ্যকে মেনে নিয়ে কাছাকাছি কম খরচে কোন হোটেল আছে কিনা তা booking.comএ খোঁজা শুরু করলাম । বাসে আমার মত আরো দুজন মদন বসে, আছে তবে ওদের চেহারা আমার মত উদ্বিগ্ন না। এখান থেকে চারজন নতুন যাত্রি উঠলো। বাস আবার যাত্রা শুরু করলো। এবারের গন্তব্য আসলেই ট্রাট। বেশ কয়েকটা কোম্পানির বাস চ্যানথাবুরি হয়ে ট্রাট যায়, আগে জানা ছিলো না বলেই এই টেনশন।


কোহ চ্যাঙ ম্যাপ

আগেই বলেছি আমার ট্রাটে থাকার ইচ্ছে নেই। আমার ইচ্ছে কোহ চ্যাঙ দ্বীপ যাওয়া। ট্রাট শহর থেকে ফেরি জেটি, সেখান থেকে ফেরিতে কোহ চ্যাং যেতে হবে।গুগুল বলছে, শেষ ফেরি ছাড়ে সন্ধ্যা ছটায়। আমার শহরে পৌছাতে সাড়ে ছটা পার হয়ে যাবে, জেটিতে যেতে আরো আধা ঘন্টা। কাজেই আজ ট্রাটেই থাকতে হবে। বাসেই আসর পড়ে নিলাম।

সাড়ে ছটায় ট্রাট বাস স্ট্যান্ড পৌছালাম। থাইল্যান্ডে দেখেছি বাস স্ট্যান্ডগুলো শহর থেকে একটু দূরে, শহরের সাইজ অনুসারে ১ থেকে ৫ কিলোমিটার মতো দূরে। ট্রাটও এর ব্যতিক্রম না। এখান থেকে টেম্পোতে করে দু-কিলোমিটার দূরে শহরে চলে এলাম, ভাড়া ৫০ বাথ। আমি একাই যাত্রী বলে মনে হয় এত ভাড়া লাগলো। এখান থেকে ফেরি জেটি আরও আধা ঘন্টার রাস্তা, গুগুল অনুসারে কাল সকালের আগে কোন ফেরি নেই। কাজেই আজ রাতে ট্রাটেই থাকতে হবে ।


ডাল সিজন, কাজেই হোটেল পাওয়া কোন সমস্যা না। একই কারণে কোহ চাঙেয় কোন হোটেল বুকিং দেইনি। booking.com এ সবচেয়ে সস্তা হোটেল ২৫০ বাথ। পপ গেস্ট হাউস ঠিক সিটি সেন্টারের মেইন রোডের সাথে, রিভিউ স্কোর ৮.১, বান জাইদে গেস্ট হাউজ সিটি সেন্টার থেকে তিন মিনিটের হাঁটা পথ, রিভিউ স্কোর ৯.২।তবে booking.com এটাও বলছে যে প্রথম গেস্ট হাউজের পাশে একটা বার থাকায় একটু নয়জি। আমার রাতে ঘুম দরকার, কাজেই একটু হেঁটে দ্বিতীয় টায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।











হোটেল- আমার রাতে তোলা ছবি ভালো ওঠে নি, এখানের ছবি হোটেলের ওয়েব পেজ থেকে নেয়া।

যেয়ে দেখি রিসিপশনে কেউ নেই, কিন্তু একটা কাগজে বড় করে লেখা আছে- রিসিপশনে কেউ না থাকলে রেজিস্ট্রি খাতায় এন্ট্রি করে চাবি নিয়ে রুমে চলে যেতে। হবে খাতায় নাম এন্ট্রি করতে করতেই দেখি ঋজু, মিলিটারি চেহারার একজন ভদ্রমহিলা চলে আসলেন । সাথে তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে। আমার জন্য কোন রুম এপ্রোপ্রিয়েট দেখিয়ে বললেন আড়াইশো বাথ । আমি বললাম সকালেই চলে যাব কিছু ডিসকাউন্ট দাও। ভদ্রলোকের এক কথা (বা ভদ্রমহিলার এক বয়স), আড়াইশো। স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম- খুকি তোমার নাম কি? কোন ক্লাসে পড়ো? বাহ, খুব সুন্দর ইংরেজি বলতো !
-ঠিক আছে ২৩০ দিও
-লেবেঞ্চুস খাবে খুকি ? এই নাও ।
পকেটে থাকা তিনটা লেবেঞ্চুস থেকে একটা বের করে ২২০ বাথ দিয়ে খাতায় সই করে চাবি নিয়ে রুমে চলে গেলাম। খুব পরিচ্ছন্ন, চমৎকার রুম।


প্রায় সাতটা বাজে। মাগরিবের সময় শেষের দিকে। দ্রুত নামাজ পড়ে শহর দেখার জন্য বের হয়ে গেলাম। বের হবার মুখেই মিলিটারি মালিকের সাথে দেখা। হাতে একটা ম্যাপ ধরিয়ে দিলো, সাথে মূল গেটের চাবি। বললো বাইর থেকে ফেরার সময়ে দরজা লাগিয়ে দিতে, সকালে কোন জায়গা থেকে ফেরি জেটি যাবার টেম্পু ধরবো ম্যাপে তাও দেখিয়ে দিলো। বললো সকালে দরজা খুলে রিসিপশনে চাবি রেখে বেরিয়ে যেতে।

মূল সড়কের পাশেই একটা নাইট মার্কেট থাকার কথা। এই নাইট মার্কেটের বিষয়টা আমার কাছে অনেকটা ভাঁওতাবাজির মতো মনে হয়, তবে ওভারঅল টুরিস্টরা বেশ পছন্দ করে। ঢাকা শহরের ফুটপাথে, বা মূল সড়কে সারাদিন যে রকম হকার রা বসে কেনাবেচা করে, তার একটা অন্য ভার্সন হলো নাইট মার্কেট। টাউন কাউন্সিল কিছু জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে, এই জায়গায় নির্ধারিত সময়ে দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসে পড়ে। খাবার আর কাপড়ের দোকানই বেশি। আর আছে বিউটি সেলুন। বিউটিশিয়ানরা বসে আছে একটা টেবিল নিয়ে। ম্যানিকিউরের কাস্টোমার বেশি, চুল বা আরো কিছু কাজও করে দ্খেছি। খাবারের দোকানের বৈচিত্র অনেক বেশি ।










নাইট মার্কেট- সব ছবি টাউন কাউন্সিল বা এরকম ওয়েব পেজ থেকে নেয়া। রাতের আলোয় আমার ফোনে ছোলা ছবি খুব খারাপ এসেছিল।

ডাল সিজন, তার উপর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। থাইল্যান্ডের অন্যান্য জায়গার মতো এখানে গোটা মার্কেটে বিক্রেতার ১০ শতাংশের কম পুরুষ, প্রায় সবাই ই মেয়ে। সাড়ে সাতটার মধ্যে বেশির ভাগ দোকানই বন্ধ করে ফেলছে। একটা খাবারের দোকানে হালাল লেখা দেখে এগিয়ে গেলাম। মহিলা পরিস্কার ইংরেজিতে বলল ক্লোজড। আজ রাতে মনে হয় হরি বাসর হবে।

সিটি সেন্টার এলাকায় বিশেষ কিছু দেখার নেই। আমি উদ্দেশ্যহীনভাবে এ গলি ও গলিতে হাঁটতে থাকলাম। পরিষ্কার বোঝা গেল রাত নটার মধ্যে এই এলাকাটা প্রায় ভুতুড়ে হয়ে যাবে। মূল সড়কের পাশে পপ গেস্ট হাউজের নিচে একটা বার। বারে দূর থেকে তিনজন সাদা চামড়ার লোক বসে, আছে স্থানীয় কোন কাস্টমার দেখলাম না। আমার হোটেলের দিকে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার দু'ধারে লক্ষ্য করলাম বেশ কিছু দোকান, কোনোটাতেই কাস্টমার নেই। দু-একটা এখনই বন্ধ করছে, অনেকগুলো বন্ধই ছিলো।

গুগল ম্যাপ অনুসারে আমার হোটেল পেরিয়ে আর ৩-৪ মিনিট হাটলে একটা সেভেন ইলেভেন । ওটাতে পৌছে গেলাম। হাতে অখন্ড সময়। দেখা যাক খাবার কিছু মেলে কি না। একটা শপিং বাস্কেট নিয়ে তাতে জলের বোতল আর বাদাম ভরে এগিয়ে গেলাম ফ্রোজেন ফুড এর কাউন্টারের দিকে। একই কপাল খুব ভালো, একটা প্যাকেটে দেখি কিছু ভাত আর মাছের তরকারি, লেখা আছে হালাল, দাম ৪৫ বাথ। ভাতের যা পরিমান তাতে অন্নপ্রাশনের সময়ে বাচ্চার হয়ে যেতে পারে। আমার এরকম অন্তত চারটা ভাত লাগবে। খুঁজে দেখি একই কোম্পানির ভাতের কৌটো আছে, ১৫ বাথ করে। একটা মাছ-ভাত আর তিন প্যাকেট ভাত নিলাম। দেখি রসগোল্লা আর সেমাইয়ের মতো একটা ডেজার্ট, ওটাও নিলাম।

পানি, বাদাম, কলা সহ দাম পড়লো ১৬০ বাথ। কলার খুব দাম, একেকটা ৯ বাথ, বাংলাদেশের টাকায় ২৫ টাকার বেশি। সেভেন ইলেভেন বা টেসকোতে ফ্রোজেন খাবার নিলে ওদেরকে বললে অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ওরা খাবার গরম করে দেয়। গরম খাবার সহ হোটেলে চলে এলাম। খাবার আগে চান সেরে নিতে চাই।

হোটেলে বাথ রুম গন। তবে আমিই এক মাত্র বোর্ডার। কাজেই বাথরুম আসলে শেয়ার করতে হবে না। আমি হোটেলের টাওয়েল সাধারণত ব্যবহার করতে সাচ্ছন্দ বোধ করি না, তবে এই হোটেল এত পরিচ্ছন্ন যে কোন দ্বিধা ছাড়াই হোটেলের টাওয়েল ব্যবহার করলাম। খুব আরামের সাথে চান সেরে নিয়ে খাবারের উপর হামলে পড়লাম।


রসগোল্লা


মাছ ভাত

আজ তিন দিন পরে পেটে ভাত ঢুকছে (স্টিকি রাইস গোনায় ধরি না)। মাছের ঝোলে বুঝলাম লেমন গ্রাস দিয়েছে, কিছুটা চিনিও আছে। মাছটা ফেলে দিয়ে ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে ফেললাম। সাথে একটা কলা। ঝোল খুব সুস্বাদু ছিলো। আরেকটু ভাত হলে ভালো হতো, কিন্তু আগেই বলেছি, আমার অত খাই খাই নেই। রসগোল্লা টাইপের খাবারটা জঘন্য, তবে সেমাইটা সুস্বাদু না হলেও খাওয়া যায়। কাল কোহ চ্যাঙে থাকার হোটেল বুক করে ফেললাম। এশার নামাজের পর শুয়ে পরের দিনের প্ল্যান করতে করতে কখন ঘুমিয়ে গেলাম জানি না।


ট্রাট শহর

সকালবেলা উঠে তৈরি হয়ে, তালা খুলে চাবি নির্ধারিত জায়গায় ঝুলিয়ে রেখে বেরিয়ে পড়লাম। চার মিনিট হাঁটতেই টেম্পু স্ট্যান্ড। দালাল দাড়িয়ে আছে। বললো যে হ্যাঁ, জেটিতে যাবে, ৫০ বাথ ভাড়া , দাড়াও টেম্পো ভর্তি হলে ছাড়বে। বসে আছি, আর কেউ আশে পাশে নেই, টেম্পু ভরে না। একটু পরে একটা খালি টেম্পো চলে আসলো। আমাকে দালাল এটাতে উঠে পড়তে ইশারা করলো, এর পর বললো ভাড়া দিয়ে দাও। থাইল্যান্ডে দেখেছি অনেক ক্ষেত্রে দালালই ভাড়া নিয়ে নেয়। আমি বললাম -না, ড্রাইভারকে ভাড়া দেবো। বললো- না , আমাকে ভাড়া দাও। ড্রাইভারকে জানিয়ে রেখে আমি ভাড়া দিয়ে দিলাম। খুচরা না থাকায় ষাট বাথ দিয়ে দশ বাথ ফেরৎ চাইলাম। দালাল বললো, এটার ভাড়া ৬০ বাথ। তুমি যদি ৫০ বাথে যেতে চাও তাহলে বসে লাইনে অপেক্ষা করো, টেম্পু ভরলে যেতে পারবে।

থাইল্যান্ডে টেম্পু নিয়ে অনেক রকমের দুই নম্বরি আছে। আমার ফেরি ধরতে হবে। দশ বাথের জন্য চেঁচামেচি না করে নিয়তি মেনে নিয়ে রওনা দিয়ে দিলাম। শহর থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে জেটি (পরে জেনেছি, কয়েকটা জেটি, দূরের টা ত্রিশ কিলো মিটার দূরে)। টেম্পু ড্রাইভার এত জোরে চালাচ্ছে, মনে হলো বউ তাড়া করেছে। ফোনের অ্যাপ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখলাম, কোন কোন জায়গায় ঘন্টায় অষ্টআশি কিলোমিটার বেগে পর্যন্ত টেম্পো চালাচ্ছিল।

যাহোক খানিকক্ষণের মধ্যে জেটিতে এসে পৌছালাম। গুগুল বলছে টিকেট কাউন্টার থেকে রিটার্ন টিকিট কাটার জন্য চাপাচাপি করে। তবে আমার ক্ষেত্রে এরকম দেখলাম না । ওয়ান ওয়ে টিকেট কিনে নিলাম আশি বাথ দিয়ে। যদি কেউ গাড়ি নিয়ে যেতে চায়, গাড়ির জন্য আলাদা টিকেট কিনতে হয় অতিরিক্ত একশ বাথ দিয়ে। টিকিট কাউন্টার থেকে ফেরি জেটি বেশ কয়েকশো গজ রাস্তা, ছোট গাড়িতে করে যেতে হয়। তবে ফেরি ভাড়া আশি বাথের মধ্যে এই ট্রান্সফার ইনক্লুড করা আছে।


ফেরি জেটি



ফাঁকা ফেরি

ফেরি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে দিল। ফেরিতে মাত্র সাত জন যাত্রী। আমি আর একটা টুরিস্ট পরিবার। স্বামী-স্ত্রী, দুজন বাচ্চা, একজন ন্যানি। স্বামী আমেরিকান, মহিলা থাই , ন্যানিও থাই। এর বাহিরে আছে একটা ট্রাক আর তার ড্রাইভার। সিজন ডাল, কিন্তু এতোখানি ডাল ভাবি নি। ৪৫-৫০ মিনিটের মধ্যে কোহ চ্যাঙ চলে আসলাম।




ফেরি থেকে দেখা কোহ চ্যাঙ




পরে জেনেছি এরকম আরো দুটো ফেরি জেটি আছে। ব্যাংকক থেকে আমি টিকিট কাটতে ভুল করেছি। বাসের টিকিট কাটার সময় যদি সরাসরি ফেরি জেটি পর্যন্ত মিনি ভ্যানের টিকেট কাটতাম, তাহলে গতকালকে বিকেলেই এখানে পৌঁছে যেতে পারতাম। বাসগুলো অনেক ঘুরে আসে বলে অনেক বেশী সময় লাগে। মিনিভ্যানে অনেক কম সময় লাগে। আর যথারীতি গুগুল ভুল তথ্য দিয়েছে, ফেরি চলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত (শেষ ফেরির শিডিউল আগে জানলেও কাজে লাগাতে পারতাম না, সাড়ে ছটায় শহরে নেমে সাড়ে সাতটার ফেরি ধরা কঠিন হতো)।




ফেরি টাইম টেবল

ফেরি থেকে নামার পরেই ফিরতি ফেরির সিডিউল দেখতে লাগলাম। কাউন্টারের লোককে জিজ্ঞাসা করে নিলাম, বোর্ডে প্রিন্ট করা টাইম টেবল আপডেটেড কি না। কোহ চ্যাঙ বেশ বড় দ্বীপ, থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম, ২০০ বর্গ কিলোমিটারের চেয়ে একটু বড়। আমাদের কক্সবাজারের মতো একটানা বিচ নেই, তবে ছোট ছোট অনেকগুলো বিচ আছে। বিচ গুলোর আলাদা আলাদ নাম আছে, ঐ নামেই আশপাশের এলাকা পরিচিত। আমার হোটেল লোনলি বিচ এলাকায়। কাউন্টারে দ্বীপের ফ্রি ম্যাপ রাখা আছে, কিরপিন অবশই ফ্রি ম্যাপের একটা নেবে।

হোটেল যাবার সহজ উপায় হলো টেম্পু। আর আছে মোটর সাইকেল। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি খুব সস্তায় সারাদিনের জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। ভাড়া ১৫০ বাথ থেকে শুরু (তেল নিজের)। মোটরসাইকেল সম্পর্কে আমার ধারণা কম। পরে ছবি দেখে আমার সহকর্মী বলেছিলেন- এগুলো মোটরসাইকেল না, স্কুটি। পার্থক্য কি আমার জানা নেই। আমার মোটরসাইকেল চালানোর জ্ঞান নেই টেম্পুই ভরসা।

টেম্পু ওয়ালার সাথে দরাদরি করলাম। সে বলে ১০০ বাথ, আমি ৮০। অবশেষে সে চার্ট বের করে দেখালো লোনলি বিচের ভাড়া ১০০ বাথ। আমি টেম্পুতে উঠে বসলাম। টুরিস্ট ফ্যামিলিও উঠে বসলো। সবমিলিয়ে ৬ জন লোক। ১২ জন না হলে টেম্পু ছাড়বে না। আধা ঘন্টা বসে থাকার পর দেখি পরের ফেরিতে কোন লোক নেই। টেম্পু আলা বলল আরেক জেটিতে যেয়ে দেখি, ওখানে যদি লোক পাওয়া যায়। ওখানে যাওয়ার পরেও কোন লোক পাওয়া গেল না।

টেম্পু ওআলা বলল, আমাদের সে নিয়ে যেতে পারে, তবে ডাবল ভাড়া দিতে হবে। আমেরিকায় ব্যাটা আমার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকাল। একশো বাথ নিয়েই আমি দরদাম করেছি, দুশো বাথে কি যাবো? আমি রাজি না হলে টেম্পু যাবে না। উপায় নাই, আমি রাজি হয়ে গেলাম।



কোহ চ্যাঙে স্বাগতম। মে থেকে অক্টোবর আবহাওয়া খারাপ বলে টুরিস্ট কম। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝে তোলা ছবি।

দ্বিতীয় জেটির খুব কাছেই মূল শহর। অনেকগুলো হোটেল ইন্ডিয়ান খাবারের দোকান দেখলাম, কিছু হালাল খাবারের দোকানও আছে। এই এলাকাটা জমজমাট। তবে যারা নির্জনতা পছন্দ করেন তারা একটু ভেতরের দিকে চলে যাবেন। আমার এত কিছু জানা ছিলনা । দাম দেখে হোটেল ঠিক করেছি। হোস্টেল ভাড়ার চেয়ে যে সেখানে যাওয়ার খরচ বেশি হবে বুঝি নি । টুরিস্ট দম্পতি একটা মাঝারি মানের রিসোর্টে নেমে গেল।


বি বি লোনলি বিচ হোস্টেল

লোনলি বিচে নেমে পনেরো সেকেন্ড হেঁটে আমার হোস্টেলে চলে এলাম। হোস্টেল/ হোটেলের নাম বি বি লোনলি বিচ। ভাড়া ৮০ বাথ, বাংলাদেশের টাকায় আড়াই শ টাকার কিছু কম (গতকাল চেক করলাম, পিক সিজনে এই ভাড়া তিন গুন বেশি)। রিসপশন বলতে কিছু নেই, একটা বার আছে, বারম্যানই রিসিপশনিস্টের কাজ করে। হোটেলের চেক ইন টাইম দুপুর একটা হলেও এরা সকাল দশটায় চেক ইন করতে দিলো। ছেলেটাকে বলতেই খাতা বের করে আমার নাম এন্ট্রি করে নিল । তবে চাবির জন্য অতিরিক্ত ১০০ বাথ ডিপোজিট করতে হলো, থাইল্যান্ডে এটা প্রায় সব জায়গায়ই দিতে হয়। হোটেলে ব্যাগ রেখে খুব দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম । আমার সর্বোচ্চ দুই দিন থাকার ইচ্ছে। এর মধ্যে যা দেখার দেখে নিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৫
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নাবাতিয়ান লাল পাথর

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২৬



আরব সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তনের সময়কার কথা । সেই সময়টিতে ছিল নাবাতিয়ান নামক এক যাযাবর জাতির দৌরাত্ম্য। তবে ইতিহাসবিদদের কাছে নাবাতিয়ানদের সম্পর্কে খুব একটা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের কথা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৪০



ছোটবেলা থেকেই আমি কিছু হতে চাই নি।
এই জন্য জীবনে কিছু হতে পারি নি। ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা কত কিছু হতে চায়- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, শিক্ষক, পুলিশ ইত্যাদি কত কি। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের প্রকাশিত বই: বইমেলা-২০২০

লিখেছেন হাবিব স্যার, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৫৮



দেখতে দেখতে আবারো চলে এলো একুশে বইমেলা। সপ্তাহ খানিক বাদেই বই প্রেমিদের প্রাণের আসর বইমেলা বসবে। লেখক-পাঠকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে মেলা প্রাঙ্গন। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ব্লগারদের বই নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গবেষণা ও উন্নয়ন: আর কত নিচে নামলে তাকে নিচে নামা বলে???

লিখেছেন আখেনাটেন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৬


আমরা বেশির ভাগ বাংলাদেশীরা কঠোর প্রেমিক। তাই প্রেমের চেতনা কিংবা যাতনায় প্রেমিকার ‘কাপড় উথড়ানো’র জন্য আমাদের হাত নিশপিশ করে। কীভাবে বাংলাদেশ নামক প্রেমিকাকে ছিড়ে-ফুঁড়ে সর্বোচ্চ লুটে নিব এই ধান্ধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই অবস্থা চলতে থাকলে 'বিয়ে' ব্যবস্থাই উঠে যাবে...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০১



১. আমার কোম্পানীতে এক বেলচাওয়ালা শ্রমিক(বিষয়ের মর্ম বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করলাম) আছে যে দেশে ২০ হাজার টাকার মত পাঠাতে পারে। তার মেয়ে বিবাহযোগ্যা। শুনলাম একটা ছেলের সাথে বিয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×