ছাত্র জীবনে একটা শ্লোগান শুনতাম- রুশ-ভারতের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান। ছাত্র শিবির বলতো ছাত্রলিগরে শুনিয়ে। এই অভিযোগের কারণ হল মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করার জন্য তাদের পাকিস্তানের দালাল বলা হতো। সেটার পাল্টা শ্লোগান ছিলো এটা। পরে জানলাম এটা শিবিরের ধার করা শ্লোগান যার আসল মালিক সর্বহারা এবং জাসদ। চরমপন্থী ডানেরা চরমপন্থী বামেদের কিভাবে অনুকরণ করে এই বিস্ময়বোধ আমার বরাবরই। তবে কাঠামোগতভাবে ডান ও বামের সাংগঠনিক বিন্যাসটা হুবহু একইরকম। তাছাড়া দুপক্ষই বিদেশী পুথি নিয়ে রাজনীতি করে। ডানরা দেখে ইরানী স্টাইলে বিপ্লবের স্বপ্ন এবং বামরা চাইনিজ (খেতে যত ভাল, নেতা হিসেবে জঘন্য)। ব্লগে গত কদিন ধরে এই দুপক্ষকে বেশ গলা গলায় ভাব নিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে। পারষ্পরিক এই পিঠ চাপড়াচাপড়ি বেশ আমোদ দিচ্ছে সবাইকে। এই মিল এমনই জায়গায় পৌছেছে যে কমরেড চারু মজুমদারের স্বাক্ষাত অবতার পাগলা জগাই নামের এক ব্লগার সেদিন দেখলাম কাকে কমেন্ট করেছেন- আপনি মানুষ না আওয়ামী লীগ। এই ডায়লগ এক সময় ত্রিভুজ, মুক্তি, আশরাফ রহমান নামের হাইপ্রোফাইল ছাগুরা দিত। যদি ভাবেন পাগলা জগাই নামে শিবিরের কোনো রোকন আসলে কমিনিস্ট পার্টি সেজেছে তা হবে ভুল। তাহাদের আসলেই গলায় গলায় ভাব। একটু বিপরীত মত দিয়েছেন তো আপনি আওয়ামী লীগের দালাল, ভারতের দালাল, আমেরিকার দালাল, বিএনপির দালাল। আসুন দেখি তাহলে দালালি বিষয়টা আসলে কাদের মজ্জাগত।
ইরানের শিয়া ধর্মগুরু কিভাবে তেহরানের মসনদ চালাবেন সেটা তার ব্যাপার। সেটা যাদের ভালো লাগে তারা ইরানে গিয়ে নাগরিকত্ব নেয় না। আমাদের দেশকে ইরান বানাতে চায়। চিনপন্থীদেরও একই দশা। দুর্গম গ্রামের টহল পুলিশ মেরে চিনাদের মতো বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে তারা। এই প্রচারটাই হচ্ছে দালালি। দালাল একজন মধ্যস্বত্ব ভোগী যে কোনো ব্যবসায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীর লেনদেনে সহায়তা করে। আর এই দালালরা মীর জাফরের মতো দেশের রাজনীতিটাও তুলে দিতে চায় বিদেশীদের কাছে। ক্ষমতায় গেলে ইরানের আধ্যাতিক নেতা হবে আমাদের নেতা। চিনের চেয়ারমেন হবেন আমাদের চেয়ারমেন। তাদের সংবিধানের মতো হবে বাংলাদেশের সংবিধান। ৯/১১ পর ইসলামীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হয়ে এসেছে চিন। তাই ইরান-চিন ভাই ভাই হতে দোষ নেই। ব্লগেও সরকার ডালিম আর পাগলা জগুলুলের এক শ্লোগানে বাধা নেই।
তারা আবার বলে মার্কিন সামাজ্যবাদের বিরুদ্বে লড়াইয়ে একই প্লাটফর্মে এই একতা এসেছে। বলিভিয়া, ইরান হচ্ছে আমাদের জন্য আদর্শ। আমেরিকা, ভারত আমাদের শত্রু। নেপথ্য কারণ ওই ব্যবসা। আমরা ভোক্তা। আমাদের ঋণ দিয়ে দিয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া হয়। এরপর আমরা ইন্টানেট ব্যবহার করি, সফটওয়ার কিনি। গাড়ি কিনি। এই ঋন দেয়া, সুদ নেয়া, ব্যবহার্য জিনিসের পার্টস সাপ্লাই আর সেজন্য নির্ভরশীল করে রাখার জন্য লড়ছে আমেরিকা, চিনের মতো বেনিয়ারা। আর সেই সুযোগটা করে দিতে তারা পাবলিককে বোঝাচ্ছে এই দোকান ভালো না, ওই দোকানেরটা ভালো। ভারতকে রাস্তা দেয়া ঠিক না, বার্মাকে দিলে কাজ হবে, মার্কিন কোম্পানি তাড়াও চিনা কোম্পানি পয়সা কম নিবে। জনগনের সম্পদ বলে যে জিনিসগুলি বেচে বা লিজ দিয়ে সরাকারি কোষাগার ভরে তাতে কোন কালে জনগন ভাগ পেয়েছে? জনগনের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় আর বিদেশী মালিকের সেবাদাসরা আমাদের কাছে রাজনীতির নামে তাদের প্রভুদের গুন গাচ্ছে। এরপর হয়ত সত্যি নভেম্বর বার্মা আমাদের দেশ আক্রমণ করে বসবে, সত্যিই হয়ত গোলাম আজমের ছেলে ক্যু করে বসবে, আমরা ডানবাম মহোজোটের সরকার দেখব। আর দেখব রক্তের বন্যা। ইরানি আর চাইনিজ দুই বিপ্লবেই প্রচুর খুনাখুনি। অন্য রাজনীতির দালালরা যখন খাটি বাঙলাদেশের রাজনীতি করাদের দালাল বলে তাদের জন্য করুনাই হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


