somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দালাল দালালী করে, নেতা নেতাগিরি

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাত্র জীবনে একটা শ্লোগান শুনতাম- রুশ-ভারতের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান। ছাত্র শিবির বলতো ছাত্রলিগরে শুনিয়ে। এই অভিযোগের কারণ হল মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করার জন্য তাদের পাকিস্তানের দালাল বলা হতো। সেটার পাল্টা শ্লোগান ছিলো এটা। পরে জানলাম এটা শিবিরের ধার করা শ্লোগান যার আসল মালিক সর্বহারা এবং জাসদ। চরমপন্থী ডানেরা চরমপন্থী বামেদের কিভাবে অনুকরণ করে এই বিস্ময়বোধ আমার বরাবরই। তবে কাঠামোগতভাবে ডান ও বামের সাংগঠনিক বিন্যাসটা হুবহু একইরকম। তাছাড়া দুপক্ষই বিদেশী পুথি নিয়ে রাজনীতি করে। ডানরা দেখে ইরানী স্টাইলে বিপ্লবের স্বপ্ন এবং বামরা চাইনিজ (খেতে যত ভাল, নেতা হিসেবে জঘন্য)। ব্লগে গত কদিন ধরে এই দুপক্ষকে বেশ গলা গলায় ভাব নিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে। পারষ্পরিক এই পিঠ চাপড়াচাপড়ি বেশ আমোদ দিচ্ছে সবাইকে। এই মিল এমনই জায়গায় পৌছেছে যে কমরেড চারু মজুমদারের স্বাক্ষাত অবতার পাগলা জগাই নামের এক ব্লগার সেদিন দেখলাম কাকে কমেন্ট করেছেন- আপনি মানুষ না আওয়ামী লীগ। এই ডায়লগ এক সময় ত্রিভুজ, মুক্তি, আশরাফ রহমান নামের হাইপ্রোফাইল ছাগুরা দিত। যদি ভাবেন পাগলা জগাই নামে শিবিরের কোনো রোকন আসলে কমিনিস্ট পার্টি সেজেছে তা হবে ভুল। তাহাদের আসলেই গলায় গলায় ভাব। একটু বিপরীত মত দিয়েছেন তো আপনি আওয়ামী লীগের দালাল, ভারতের দালাল, আমেরিকার দালাল, বিএনপির দালাল। আসুন দেখি তাহলে দালালি বিষয়টা আসলে কাদের মজ্জাগত।
ইরানের শিয়া ধর্মগুরু কিভাবে তেহরানের মসনদ চালাবেন সেটা তার ব্যাপার। সেটা যাদের ভালো লাগে তারা ইরানে গিয়ে নাগরিকত্ব নেয় না। আমাদের দেশকে ইরান বানাতে চায়। চিনপন্থীদেরও একই দশা। দুর্গম গ্রামের টহল পুলিশ মেরে চিনাদের মতো বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে তারা। এই প্রচারটাই হচ্ছে দালালি। দালাল একজন মধ্যস্বত্ব ভোগী যে কোনো ব্যবসায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীর লেনদেনে সহায়তা করে। আর এই দালালরা মীর জাফরের মতো দেশের রাজনীতিটাও তুলে দিতে চায় বিদেশীদের কাছে। ক্ষমতায় গেলে ইরানের আধ্যাতিক নেতা হবে আমাদের নেতা। চিনের চেয়ারমেন হবেন আমাদের চেয়ারমেন। তাদের সংবিধানের মতো হবে বাংলাদেশের সংবিধান। ৯/১১ পর ইসলামীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হয়ে এসেছে চিন। তাই ইরান-চিন ভাই ভাই হতে দোষ নেই। ব্লগেও সরকার ডালিম আর পাগলা জগুলুলের এক শ্লোগানে বাধা নেই।
তারা আবার বলে মার্কিন সামাজ্যবাদের বিরুদ্বে লড়াইয়ে একই প্লাটফর্মে এই একতা এসেছে। বলিভিয়া, ইরান হচ্ছে আমাদের জন্য আদর্শ। আমেরিকা, ভারত আমাদের শত্রু। নেপথ্য কারণ ওই ব্যবসা। আমরা ভোক্তা। আমাদের ঋণ দিয়ে দিয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া হয়। এরপর আমরা ইন্টানেট ব্যবহার করি, সফটওয়ার কিনি। গাড়ি কিনি। এই ঋন দেয়া, সুদ নেয়া, ব্যবহার্য জিনিসের পার্টস সাপ্লাই আর সেজন্য নির্ভরশীল করে রাখার জন্য লড়ছে আমেরিকা, চিনের মতো বেনিয়ারা। আর সেই সুযোগটা করে দিতে তারা পাবলিককে বোঝাচ্ছে এই দোকান ভালো না, ওই দোকানেরটা ভালো। ভারতকে রাস্তা দেয়া ঠিক না, বার্মাকে দিলে কাজ হবে, মার্কিন কোম্পানি তাড়াও চিনা কোম্পানি পয়সা কম নিবে। জনগনের সম্পদ বলে যে জিনিসগুলি বেচে বা লিজ দিয়ে সরাকারি কোষাগার ভরে তাতে কোন কালে জনগন ভাগ পেয়েছে? জনগনের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় আর বিদেশী মালিকের সেবাদাসরা আমাদের কাছে রাজনীতির নামে তাদের প্রভুদের গুন গাচ্ছে। এরপর হয়ত সত্যি নভেম্বর বার্মা আমাদের দেশ আক্রমণ করে বসবে, সত্যিই হয়ত গোলাম আজমের ছেলে ক্যু করে বসবে, আমরা ডানবাম মহোজোটের সরকার দেখব। আর দেখব রক্তের বন্যা। ইরানি আর চাইনিজ দুই বিপ্লবেই প্রচুর খুনাখুনি। অন্য রাজনীতির দালালরা যখন খাটি বাঙলাদেশের রাজনীতি করাদের দালাল বলে তাদের জন্য করুনাই হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×