somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রসফায়ারের (পড়ুন গুলি করে হত্যার) সত্যিকার প্রেসনোটে কি সমস্যা?

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়িয়া যিনি পটল তুলেন, তিনিই ক্রসফায়ারে হত বলিয়া শাস্ত্রে সিদ্ধ। কিন্তু এই বঙ্গদেশে ইহা কদাচিত অর্ধসিদ্ধও নয়- ভাজাপোড়ার নিমিত্ত। ইংরেজি পত্রিকার এনকাউন্টার কিঙবা বাংলা পত্রিকার ক্রসফায়ারের নামে অস্ত্র তল্লাশীর সময় সহযোগী কতৃক আক্রান্ত হইয়া আসামীর মৃত্যু অথবা গোপন বৈঠকে পুলিশী হানার মুখে হামলা জাতীয় গৎবাধা বিবৃতি অনেক হইয়াছে। চলুন একখানা সত্যিকার প্রেসনোট পড়া যাক]

রাত ১২টার সময় আসামী অমুককে লইয়া রাবের মাইক্রোবাসটি একটি নির্জন স্থানে থামে। দরজা খুলিয়া প্রথমে নামেন হাবিলদার তমুক। ভিতরে বসা আসামীকে লাথি মারিয়া দরজা দিয়া মাটিতে ফেলেন সুবেদার তমুক। হাবিলদার তমুক তাহার চুলের মুঠি ধরিয়া দাড় করান। ড্রাইভারের পাশের দরজা খুলিয়া ক্যাপ্টেন অমুক নামিয়া আরমোড়া ভাঙ্গেন। তিনি নতুন হোলস্টার কিনিয়াছেন। আসামীর চোখ ভালো মতো বাধা কিনা দেখা হয় এবং হাতকড়া পিছনে লইয়া নতুন করিয়া বাধা হয়। আসামীর ঠোট বাকা দেখিয়া বোঝা যায় সে কাদিতেছে। এর আগে সে বহু টাকাপয়সা সাধিয়াছে তার প্রাণ ভিক্ষা দিতে। কিন্তু রাষ্ট্রের সত কর্মচারীরা তাহাতে কান দেন নাই। ক্যাপ্টেন অমুক সবসময়ই লক্ষ্যভেদে ওস্তাদ বলিয়া তাহাকে শুরুতে গুলি করিতে দেওয়া হয় নাই। হাবিলদার তমুক ৫ফুট দূর হইতে ৩টি গুলি মিস করিয়া একটি গুলি আসামীর বাম বাহুতে বিদ্ধ করিতে সমর্থ হন। সুবেদার অমুক দুইটি গুলি করেন। একটি আসামীর লুঙ্গির মধ্যে দিয়া মাটিতে বিদ্ধ হয়, অন্যটি পেটে। অত্পর ক্যাপ্টেন সাহেব তাহার অতুলনীয় দক্ষতায় যে তিনটি গুলি ছুড়েন তাহার তিনটিই আসামীর বক্ষস্থলে বিদ্ধ হয়। এর মধ্যে একটি সরাসরি হৃদপিন্ডে আঘাত হানে যা তাহার প্রাণনাশের কারণ। তবুও নিশ্চিত হইতে ক্যাপ্টেন তমুক আসামীর কানের পাশে ব্যারেল ঠেকাইয়া আরেকটি গুলি করেন। এরপর হাবিলদার ও সুবাদার আসামীর বুকে আরো দুইটি গুলি করেন, এইবার তারা লক্ষ্য মিস করেন নাই। প্রকাশ থাকে আসামী দাগী ছিনতাইকারী অথবা সন্ত্রাসী অথবা চরমপন্থী অথবা জঙ্গী বলিয়া চিহ্নিত। মৃত্যুর পর তাহার পদবী অনুযায়ী লাশের পাশে একটি পাইপ গান অথবা একটি রিভলবার ও কিছু রাইফেলের গুলির খোসা অথবা একটি গাদা বন্দুক ও কিছু রিভলবারের গুলি অথবা একটি কাটা বন্দুক ও কয়েকটি এলএমজির গুলি ফেলিয়া রাখা হয়। এইসব আলামত পরবর্তীতে ব্যবহার করার জন্য এরপর যত্ন করিয়া প্যাকেটবন্দী করা হয়।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×