somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী যেভাবে বন্দী হলো

০১ লা মে, ২০২১ রাত ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানব সভ্যতার ঊষালগ্নে মাতৃতান্ত্রিক পরিবারই প্রথম দেখা যায়, তখন বিয়ের ব্যবস্থা না থাকায় একজন নারী গোষ্ঠীর অনেকের সাথেই শারীরিক মেলামেশা করতো, এতে করে শিশুর বাবা কে শনাক্ত করা মুশকিল ছিল। জন্মের পর মায়ের পরিচয়েই শিশুটি সমাজে পরিচিতি লাভ করতো। একজন মায়ের একাধিক সন্তান নিয়ে একটি গোষ্ঠী গড়ে উঠতো আর সেই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতো প্রবীণ নারীটা। এভাবেই প্রথম মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।

যাক এবার আসল কথায় আসি, কেন আজ নারীরা সমাজে অবহেলিত,নির্জাতিত, ধর্ষিতা, পতিতা! প্রাচীনকালে নারীর দুর্বল শরীর, রুপ এবং পশু শিকারে অক্ষমতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শক্তি সামর্থ্যবান পুরুষেরা শিকার করে আনা পশু দেখাশুনার দায়িত্ব পড়লো নারীর কাদে। এছাড়াও কিছু দুর্বল পুরুষও নারীদের সাথে বসবাস করতে লাগলো। এভাবে নারী হল গৃহিণী, যৌনদাসী আর দুর্বল পুরুষগণ হল কৃতদাস। সমাজ পরস্পর দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত হল, একটি মালিক তথা শাসক শ্রেণী অপরটি দাস তথা প্রজা শ্রেণি। বিশাল আলোচনার বিষয়, আমি নারীদের নিয়ে সামান্য কিছু লিখেই সমাপ্ত দিবো।

তারপর থেকে এই নারীদের নিয়ে নাটকের শেষ নেই, ধীরেধীরে নারীদেরকে সমাজের একটি ভোগ্যপণ্য রুপে পরিণত করলো। একেকজন পুরুষে কয়েকজন যৌনদাসী ভোগ করতে লাগলো! নারীতন্ত্র পুরুষের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে কায়েম হল পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। এদিকে সবলদের সম্পদ রক্ষার নামে তৈরী করলো রাষ্ট্র নামক আরেক জিঞ্জিরা। সেখানে শুধু নারী নয় সর্বহারাদের কন্ট্রোল করার জন্য তৈরী করলো নানা কলাকৌশল। সময় থেমে থাকেনি ধীরেধীরে এগিয়ে আসছিলো আধুনিক সভ্যতার দিকে। আমি আগেই বলেছি এই নারী অনেক বড় একটা ইতিহাস। কলমের মোড় বিভিন্নদিকে ছোটাছুটি শুরু করে দেয় নারীদের নিয়ে লিখতে বসলে।

এইভাবে কিছুকাল চলার পর, সমাজের সবচেয়ে চালাক ব্যক্তিটি নিজেকে ঈশ্বরের অবতার বলে ধর্ম প্রচার করতে থাকে। এবার পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় হঠাৎ দেখা দিল আরেক ঠকবাজ, নারী তখন পুরুষের খাদ্যবস্তু প্রায়। সমাজে নারী নিধন শুরু হয়ে গেছে, ইজ্জতের ভয়ে কন্যা সন্তানদের মেরে ফেলা হত। এভাবে নারী সংকট দেখা দেয়। ধর্ম নারীকে একেবারে বিলুপ্ত হতে দেয়নি, কারন ঈশ্বরের অবতার নামক চালাক পুরুষের খুব ভাল করেই জানা ছিল নারীছাড়া মানবসমাজ টিকবেনা। নারীকে তোষামোদ করে ঈশ্বরের ভয় দেখিয়ে আবারো বাচতে দিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। এই ধর্মের খপ্পরে শুধু নারী নয়, শক্তিশালী পুরুষরাও হল বলির পাটা।

মানবসমাজের দীর্ঘদিনের এই নাটক চলাকালীন সময়ের ফাঁকেফাঁকে, একশ্রেণী সমাধিকার ও নারীদের পক্ষে কথা বলে আসছে। আজ তাদেরই আন্দোলনের ফলাফল স্বরুপ কিছু দেশে নারীনেতৃত্ব চলছে। নারীদের পক্ষে সচেতন পুরুষরাই বেশি কথা বলে আসছে, দুঃখের ব্যাপার নারী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ খুব কম। সামান্যকিছু নারী ব্যতিত বাকি সব নারী আজও গৃহবন্দী,তারা নিজেরাও জানেনা নারী অধীকার বলতে আসলে কি? অনেক মেয়ে ঠিকমতো ভরণপোষণ আর প্রতিষ্ঠিত বর পেয়ে মহাখুশি, ভাবটা এমন যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে।

ইদানীং সমাজের কিছু স্বেচ্ছাচারী মহিলা স্বামীর অবর্তমানে পরপুরুষদের সাথে মেলামেশা করে। যৌবনে ভাটা পড়লে পরে দেখা যায় খুব হীনমন্যতায় ভুগে, মনেমনে ভাবে বিশাল কোন পাপ করে ফেলেছে। ঈশ্বরের কাছে কপাল ঠুকতে ঠুকতে কপালে কালো টিপ পড়ে যায়,পাশাপাশি প্যারাসিটেমল তিনবেলা খেয়ে শরীরের ব্যথা কমায়। অথচ একবারো তাদের মনে সমাধিকারের চিন্তা আসেনা। আমার মতে নারীদের সমাধিকার বলতে শুধুমাত্র যৌনচাহিদা নয়,সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে পুরুষের মত অধিকার আদায় করা। একজন পুরুষ যখন নারীকে চড় দিবে তখন এর জবাবে থাপ্পড় দিতে হবে। নারী না ভেবে একজন মানুষ হিসেবে তার যতটুকু পাওনা ঠিক ততটুকুই দিতে হবে। এটা তার ন্যায্য পাওনা।

নারীদের উদ্দেশ্যে আমার সর্বশেষ কথা হল। মানুষ হিসেবে একজন পুরুষের যে অধিকার একজন নারীর ঠিক ততটুকুই অধিকার। এরপর সন্তানধারণ এবং লালনপালনের জন্য নারীকে এক্সট্রা সম্মান করতে হবে ! মা,বোন,স্ত্রী সবাইকে আমার অনুরোধ প্রচলিত সমাজের মুখে লাথি মেরে বেরিয়ে আসুন। আপনার অধিকার আদায় করুন, মনে রাখবেন পুরুষ স্বেচ্ছায় আপনাকে মুক্তি দিবেনা,অধিকার দিবেনা। কেউ গৃহপালিত গাভীকে ছেড়ে দিতে শুনেছেন কখনো? আপনার পাওনা আপনাকেই আদায় করে নিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০২১ রাত ৩:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×