somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্ট চিকন দড়ি, মস্ত পাহাড়ি হাতি আর আমাদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা!

০৬ ই মে, ২০২১ রাত ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বান্দরবানের কেওক্রাডং পাহাড়ে যারা চড়তে গিয়ে মুগ্ধ হয়ে লক্ষ্য করেছি, হাতি সেখানকার আদিবাসীদের জীবনে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাহাড়ের গাছ কেটে নামানো থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে হাতির মত একটি মস্ত প্রাণীকে তারা কীভাবে ব্যবহার করে সেটি দেখে অবাক হওয়া ছাড়া গতি নেই!

কেওক্রাডং পাহাড় থেকে নেমে বগালেক পাড়ায় আসার সময়ে দেখলাম একটি বিরাট মদ্দা হাতিকে মাত্র ৩ হাত চওড়া চিকন দড়ি ধরে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দূর্বল চেহারার একজন বম গোত্রীয় আদিবাসী বালক।
গাইডের কাছে শুনলাম ছেলেটা বাংলা বোঝে, তাই এগিয়ে গেলাম কথা বলয়ার জন্য।
অপরিচিত বাঙালী মেয়ের সাথে কথা বলতে প্রথমে ইতস্তত করলেও কিছুক্ষণ পর ছেলেটির সাথে আলাপ জমে উঠলো।
আমি ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করলাম, "এই ৩ হাত লম্বা চিকন দড়ি দিয়ে কিভাবে এত বড় পশুকে দিয়ে এমন কঠিন পরিশ্রম করাও?"
তার উত্তরের সারমর্ম ছিল এমন-
হাতিগুলোকে ছোট্ট অবস্থায় বম ও ম্রো আদিবাসীরা এমন ছোট্ট দড়ি দিয়েই বেঁধে রাখে। তখন হাজার চেষ্টা করলেও হাতিগুলো পালিয়ে যেতে পারে নাহ এই দড়ি ছিঁড়ে। পরে হাতিগুলো যখন বড় হয়, তখনও তাদের মস্তিষ্কে এই চিন্তাটিই রয়ে যায় যে তাদের পক্ষে এই দড়ি ছিড়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ আশেপাশের মানুষের তির্যক কথাগুলো শৈশব থেকে আমাদেরকে সেই ছোট্ট দড়িটির মত করেই একটি ক্ষুদ্র গন্ডিতে আটকে ফেলে। পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও আমরা ভুলে যাই আমাদের সক্ষমতা, হারিয়ে ফেলি আমাদের মুক্তচিন্তার ক্ষমতা, কাজে লাগাতে পারি না আমাদের সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে।
তাই আশেপাশে তাকালে সংকীর্ণ চিন্তার স্যাঁতস্যাঁতে কারাগারে আটকে পড়া প্রতিভাবান মানুষগুলোর মধ্যে আমি প্রতিনিয়ত ওই পাহাড়ি হাতির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×