
প্রবৃত্তি হল, মানব স্বভাব তার জন্য যা প্রয়োজন ও উপযোগী তার প্রতি ঝুকে পড়া। মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই আল্লাহ মানুষকে এ ধরনের নফসের চাহিদা বা প্রবৃত্তি দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। অন্যথায় মানুষের যদি কোন চাহিদা না থাকতো তাহলে তারা দুনিয়ার জীবনের প্রতি কোন আগ্রহ থাকত না। প্রবৃত্তিই মানুষের চাহিদাকে জাগিয়ে তোলে। রাগ বা ক্ষোভ যেভাবে একজন মানুষ থেকে কষ্টদায়ক বস্তুগুলো প্রতিহত করে, অনুরুপভাবে নফস্ বা মানাবাত্মা যা চায় তা পূরন করার জন্য মানুষের প্রবৃত্তি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রবৃত্তি ও নফস মানবজাতির জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। মানবজাতি কখনোই এর বাহিরে থাকতে পারে না এবং সে তার প্রবৃত্তি মুক্ত হতে পারে না। আল্লাহ মানবজাতিকে নফস্ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ মানেই তার মধ্যে প্রবৃত্তি থাকবে, নফস থাকবে এবং চাহিদা থাকবে। এটি মানবজাতির জন্য কোন দোষনীয় বিষয় নয়। মানবজাতিকে শুধু তার নফস বা প্রবৃত্তির উপর কখনোই শাস্তি দেয়া হবে না। মানুষ যখন কোন কিছু চায় বা পছন্দ করে তা তার জন্য কোন অপরাধ নয় যে, তাকে এ কারনে তার উপর শাস্তি দিতে হবে । তবে কখন মানুষকে তার প্রবৃত্তির কারনে শাস্তি দেয়া হবে?! এটি একটি যুগান্তকারী প্রশ্ন।
এছাড়া আরেকটি প্রশ্ন হল, একজন মানুষ তার অন্তর বা আত্মা থেকে প্রবৃত্তি বা নফসের চাহিদাকে একেবারে সম্পূর্ণভাবে বের করে দিতে বা তা ফেলে দিতে নির্দেশিত কিনা? নাকি তার জন্য কিছু নিয়ম আছে?
এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সমাধানের বিষয়। যুগে যুগে মানুষের মাঝে এ ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ইসলামের বড় বড় মনীষীরাও যুগ যুগ ধরে এ সব প্রশ্নের যথার্থ সমাধান দিয়েছেন।
ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, মানবজাতিকে শুধু তার নফস বা প্রবৃত্তির উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেয় হবে না। তাকে শাস্তি দেয়া হবে, প্রবৃত্তি ও নফসের অনুকরন ও অনুসরণ করার উপর। যখন মানব আত্মা কোন কিছু আকাঙ্খা করে, কিন্তু সে তা না করে মানবাত্মা কে তা থেকে বিরত রাখে, তাহলে তাকে কোন প্রকার শাস্তি পেতে হবে না, বরং তার জন্য এ বিরত থাকা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদত ও ইসলামী শরীয়তের নেক আমল বলে পরিগনিত হবে।
এ হল একজন সত্যিকার মুসলিমের অবস্থা। সর্বদা তার নফস তাকে বিভিন্ন খারাপ ও মন্দ কাজের নির্দেশ দিতে থাকে। আর সে তার নফসের সাথে যুদ্ধ করতে থাকে এবং নফসের নির্দেশ অমান্য ও বিরোধীতা করে আল্লাহকে ভয় করতে থাকে, যার মধ্যে এই ধরনের গুন পাওয়া যাবে সে ব্যক্তিই হল সত্যিকার ঈমানদার ও প্রকৃত মুমিন। আর এই ধরনের ঈমানদারের জন্য রয়েছে জান্নাত ও উত্তম প্রতিদান।
ফেইজবুকে লেখা গুলো পড়তে Hossain Miraz এখানে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




