মসজিদ নির্মানের মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহ পাককে সন্তুষ্ট করতে সঠিকভাবে এবাদাত পালনের সুযোগ তৈরি করা। বাহ্যিক কারু কার্যকরন যথাসম্ভব কমিয়ে নামাযের গুরুত্ব এবং ইসলামী শিক্ষার দিকে মনোনিবাস করা।
কিন্তু বর্তমানে মানুষ প্রচুর পরিমানে মসজিদ নির্মাণ করছে এবং নানান কারু-কার্য ও হরেক রকম ডিজাইন দিয়ে মসজিদ সাজিয়ে তুলছে।
সবাই চাইছে, আমার মসজিদটি সবার থেকে আলাদা হোক। ফলে নামাযের চেয়ে কারুকার্যের দিকেই মানুষের দৃষ্টি বেশী থাকছে।
মিডিয়াকে ব্যবহার করে তারা মসজিদগুলোর প্রচার প্রসারে লিপ্ত হয়ে আছে। (কারন, সরাসরি নামায সম্প্রচারের ফলে সারা বিশ্বের দৃষ্টি মসজিদের উপর থাকছে)
আনাস (রা. ) থেকে রর্ণিত, নবী করিম (সা. ) বলেন - কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না মানুষ ( কারুকার্য করণ) নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। ( আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজা)
সাহাবায়ে কেরাম রা. সবসময় মসজিদ সুসজ্জিত করা থেকে সতর্ক করতেন। এবাদত, আল্লাহর স্মরণ এবং দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমেই মসজিদ আবাদ করার প্রতি তাগিদ দিতেন।
ইবনে আব্বাস (রা. ) বলেন - অচিরেই তোমরা মসজিদ গুলোকে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের মত কারু কার্য করে গড়ে তুলবে। ( মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)
ইমাম বগভী রহ. বলেন - প্রাথমিক যুগে ইহুদী খ্রিষ্টানদের উপাসনালয় গুলো কারুকার্যমন্ডিত ছিল না, আসমানী কিতাব বিকৃত হওয়ার পরই তারা কারুকার্যকরণ প্রক্রিয়া শুরু করে। (ফাতহুল বারী)
খাত্তাবী রহ. বলেন - ইহুদী খ্রিষ্টানরা যখন আসমানী কিতাব বিকৃত করে ফেলে, তখনই তারা গির্জা সুসজ্জিত করণে আত্মনিয়োগ করে।
হিসেব করলে দেখবেন যে, একটি বড় ডিজাইন এবং মেহরাব কারুকার্য করতে যে টাকা খরচ হয়েছে, তা দিয়ে আরো ছোট মসজিদ এবং একটা দরিদ্র পরিবারকে অনায়াসে সাবলম্বী করা যেত।
এর মাধ্যমে মসজিদ গুলোকে দুর্বল গঠনে তৈরি করা বা সুন্দর কার্পেটে অবহেলা করা উদ্দেশ্য নয়; বরং হাদিসে সুন্দর করতে গিয়ে সীমাতিরিক্ত করে ফেলা কিংবা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠা থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
আবু দারদা রা. বলেন - যখন তোমরা মসজিদ গুলোকে ডিজাইন করবে, কোরআনের আয়াতগুলোকে কারুকার্য়মন্ডিত করবে. তখন তোমাদের ধ্বংস কাছিয়ে যাবে। ( আবু দাউদ)
facebook এ লেখাগুলো Hossain Miraz -এ ক্লিক করুন

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৫ সকাল ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




