
এ দেশে সবচেয়ে সহজ কাজ হল অন্যের টাকা মেরে দেয়া! আমার মনে হয় এর চেয়ে সহজ কোন কাজ এ দেশে থাকতে পারে না। এর প্রধান কারণ হল ছোট থেকে বড় কোন অর্থ কেলেঙ্কারির বিচার এ দেশে কখনও হয়নি। পাড়া মহল্লার সমিতি থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যাংক,কোম্পানি পর্যন্ত হাজার কোটি টাকা খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছে, উধাও হয়ে গিয়েছে। কিছুই হয়নি।
অর্থ আত্মসাতের নেশাটা হল মাদকের মত। একবার যে বিনাশ্রমে টাকা কামানো শিখে যায় তাকে আর কোন ভাবে পরিশ্রম করে উপার্জনে ফেরানো যায় না! সারা জীবন সে অন্যের টাকা মারার ধান্ধায় থাকে। তার এক হাত সব সময় অন্যের পকেটে থাকে !!
এটাই নিয়ম। রাষ্ট্র যখন ছোট অনিয়মগুলোর বিচার করে না, তখন এরা পরের ছকটি আরও বড় করে আঁটে। তাদের বিজনেস, কর্মই এটা। বাংলাদেশে টাকা মেরে দেয়ার জবটা প্রফেসনাল পর্যায়ে চলে গেছে!
যুবক দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর ডেসটিনি, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, শেয়ার বাজার হয়ে অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন তাদের মূখর পদচারনা! কি অগ্রগতি। এবারের প্ল্যান নিশ্চই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কে ঘিরে! দেশীয় এ শিল্প এখন জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে!
আইটি বিশেষজ্ঞগন বলছেন এ ছক দীর্ঘ দিনের। তাদের ধারনা, ব্যাংকের অভ্যন্তরের লোক জড়িত না থাকলে সুইফট কোড জানা ও ব্যাংকের সার্ভার দখল করা সম্ভব নয়। যে পেমেন্ট অর্ডার পাঠিয়ে টাকা সরানো হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের কিছু বড় প্রকল্পের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। এর আগে এটিএম জালিয়াতিতেও দেখা গেছে ব্যাংকের অভ্যন্তরের লোক জড়িত ছিল।
ব্যাপারটা হল- আমাদের দেশে অর্থ আত্মসাতের এ কর্মটি এতোটাই প্রফেসনাল পর্যায়ে পৌছে গেছে যে এর খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ছড়িয়ে গেছে। তারা জেনে গেছে, এখানে টাকা মেরে দিলে কোন বিচার হয়না। আর একটু আধটু রাজনৈতিক জোগসাজ থাকলে তো কথাই নেই।
আজকের এ পর্যায়টা একদিনে তৈরী হয়নি। একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝবেন, এরা প্রথম বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানির নাম করে পাবলিকের টাকা মেরেছে, কিছু হয়নি। শেয়ার বাজারের টাকা লুটেছে, কিছু হয়নি। ব্যাংক লোনের নাম করে ব্যাংকের টাকা লোপাট করেছে, তাতেও কিচ্ছু হয়নি। বরং বেসিক ব্যাংকের জন্য বাজেটে আলাদা করে অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে!
এটিএম জালিয়াতিটা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের এক্সপেরিমেন্ট! এবার বাংলাদেশ ব্যাংক লোপাট হল। তবে কি, এ ঘটনায়ও কিচ্ছু হবেনা।
মজার ব্যাপার কি জানেন- ফিলিপাইন নিজেদের রিজাল ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো কে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপই গ্রহন করতে পারেনি। পদত্যাগ দিয়ে কোন রহস্য উদঘাটন হয়না। বরং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভির জোহা যখন ভেতরের খবর বলে দিচ্ছিলেন তখন তাকেই গুম করে ফেললো!
ভাবছেন প্রতিটা আলাদা ঘটনাকে এক করে ফেললাম কেন? একটার সাথে তো আরেকটার জোগসাজ নাও থাকতে পারে?
আছে !
গভীর জোগসাজ আছে !!
প্রতিটা ঘটনার ক্রিমিনালরা ভিন্ন হলেও, প্রতিটা ঘটনা আলাদা হলেও, মানসিক ভাবে এরা সবাই এক! যে যার অবস্থান থেকে একই কাজ করে যায়। গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষন করে প্রতিটা ঘটনা।
আতংকের বিষয় হল- এ ব্যাপারটিতে বাংলাদেশ যদি কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে ব্যর্থ হয় তবে এর পরের আক্রমনটি হয়তো সার্বভৌমত্ব নিয়ে টান দিবে! এরা টাকার জন্য দেশকে ও বিকিয়ে দিতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



