জন্মটা বৎসরের শেযের দিকের কোন এক সকালে। বাবা মা-র প্রথম সন্তান তাই অনেক আদরের। এক এক জন এক এক নামে ডাকে। দাদার পরিবারে সকলের ছোট, আর নানার পরিবারে প্রথম নাতি। তাই কোন দিক থেকেই আদরের কমতি নেই।
দাদার পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা নেই। দাদা-দাদীও নেই। তাই নানার পরিবারই হয় পার্থের স্থায়ী নিবাস। নানার পরিবারে কোন কিছুর কমতি নেই। তাই যা চায়, তাই পায়। শুধু মুখে উচ্চারণ করলেই হাজির। অনেক কিছু না চাইলেও এসে হাজির হয়। এভাবেই পার্থের বয়স যখন এক পাড় হয়ে দুই শুরু হয় তখন তার বাবা বিদেশে পাড়ি জমায়। এবারতো সচ্ছলতার চুড়ায় তার অবস্থান। যতই দিন যায় পার্থের প্রতি সবার যত্নটা আরো বাড়তে থাকে। দু্ই-তিন বৎসর বয়সেই সে তার মেধার পরিচয় দেয়ে ফেলে। পরিবারের মধ্যমণি হয়ে উঠে আরো।
এভাবে দেখতে দেখতে স্কুলে যাবার বয়স হয়ে যায় তার। প্রথম শ্রেণীর বইয়ে যেটুকু কালো লিখা আছে সেটুকু পাঁচ বৎসর বয়সেই আত্মস্থ করে ফেলে। দিনক্ষন ঠিক করে পার্থের মা নিয়ে গেল তাকে বাসার কাছের কিন্ডার গার্টেন -এ ভর্তি করাবে বলে। কেজি ওয়ানে ভর্তি করানোর ইচ্ছে থাকলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার কথায় প্রথম শ্রেনীতেই ভর্তি করাতে হল তাকে।
সাইজে অন্যদের চেয়ে ছোট হওয়াতে ক্লাসের প্রথম বেঞ্চের বাম দিকের আসনটি ছিল তার জন্য সংরক্ষিত। কে.জি. স্কুল হবার কারণে শিক্ষকের তুলনায় শিক্ষিকার সংখ্যাই ছিল বেশি। আর নিচের দিকের ক্লাস গুলোতে সাধারণত শিক্ষিকারাই বেশি ক্লাস নিয়ে থাকেন। তাই শ্রেণীশিক্ষিকার থেকে শুরু করে সবগুলো ক্লাস নিতেন শিক্ষিকারাই। স্কুলের প্রথম দিনেই শ্রেণী শিক্ষিকার পছন্দের ছাত্রে পরিণত হয় সে। বাকিদেরও মন জয় করতে দেরী হয়না বেশী। তবে শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকা নয়, তার সহপাঠিদেরও সাথেও খুব ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব হতে থাকে তার। নিজের টিফিন অন্যদের সাথে ভাগ করে খাওয়া ছিল পার্থের খুব পছন্দের। আর কেউ টিফিন না আনলেতো কথাই নেই। এভাবে মোটামুটি ক্লাসের সবাই তাকে অনেক বেশী পছ্ন্দ করতো। প্রথম শ্রেণীতে বার্ষিক পরিক্ষায় প্রথম স্থান পেয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়। এভাবে টানা প্রথম হয়ে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত চলল।
এদিকে পার্থের বাবা তার পরিবারের সকল খরচের টাকা পাঠিয়েও তার এক বন্ধুর কাছে কিছু টাকা পাঠাতেন। কারণ দেশে সেই বন্ধু ব্যবসা করতো এবং দুজনেই সমান অংশীদ্বার। যেদিন সে দেশে ফিরে আসবে সেদিন সে তার অংশ বুঝে নিবে এবং একসাথে ব্যবসা করবে।
.....চলবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


