সে অনেক আগের কথা। তখন এলাকায় আমার একটা গ্রুপ ছিল। আমি ছিলাম ক্লাস সেভেন এ, আমার সমান বয়সী ক্লাসমেট ঝুমা ও ছিল এই গ্রুপের সদস্য। বাকিরা আমার চেয়ে ছোট ক্লাসের।গ্রুপের বিভিন্ন বয়সী সদস্যরা হল : নাহার, টুকু, রিনা, সাওলিন, শেফা ও সেতু। এরা ছিল পার্মানেন্ট গ্রুপ সদস্য। এর বাহিরে ও মাঝে মাঝে কিছু পার্ট-টাইম সদস্য জুটে যেত কখনও সখনও। বিকাল হলেই আমরা বাসার সামনের মাঠে জড়ো হইতাম এবং তারপর বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আড্ডা মারতাম। আড্ডার প্রধান একটা টপিক ছিল "তিলক গবেষনা" । আমরা বিশ্বাস করতাম - যার হাতে তিল থাকবে তার রান্না অনেক মজার হবে। এই প্রসঙ্গ এলেই আমি আমার বাম হাতটা সবাইকে গর্বের সহিত দেখিয়ে বলতাম যে আমার রান্না করা খাবার দারুন হবে। কেউ কেউ এই ব্যাপাটায় আমাকে ঈর্ষা করতো যদিও তখন রান্না ঘরে ভালো মতো প্রবেশ করা হয় নি। তারপর, গলা বা ঘাড় এর বিষয়ে বিশ্বাস ছিল : যার গলায় বা ঘাড়ে তিল থাকবে তার মৃত্যু হবে শহীদ হয়ে কিংবা ফাসী হয়ে। এই তিলক বিশ্বাসটায় প্রায়ই আমার মধ্যে ঘুম হারাম হবার অবস্থা হতো। একা মনে ভাবতাম "আমার কি তবে ফাসী হবে? না,না ... হে আল্লাহ, আমাকে তুমি শহীদ হওয়ার সোভাগ্য দিও"। আমাদের গ্রুপের টুকুর পায়ে ছিল বিশাল তিল। তারমানে সে সারা জীবনই থাকবে অসুস্থ থাকবে। টুকুর ছিল এই বিশ্বাসটায় দারুন আপত্তি। যুক্তি খন্ডনের মতো করে বলার চেষ্টা করতো যে তার কোন অসুখ নাই। কিন্তু আমরা কি সহজে ছাড়িবার পাত্র? আমরা জোর গলায় বলতাম যে এখন না হোক, একটু বয়স হলে ঠিক ই অসুখ ধরবে তাকে (টুকু কে)। প্রতিদিন আমরা তিলক সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও তিলক এ আক্রান্ত মানুষের উদাহরন আড্ডায় উপস্থিত করতাম। সব চেয়ে কঠিন এবং ভয়াবহ তিল ছিল "ঠোটের" তিল। যার ঠোটে তিল থাকবে সে নির্ঘাত প্রেম করে বিয়ে করবে যদিও প্রেম সম্পর্কে ধারনাটা তখনও পাকা-পোক্ত ছিল না। তবে প্রেমে পড়াটা যে এই পৃথিবীর সব চেয়ে খারাপ কাজ সে বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোন দ্বিমত ছিল না। সাওলিনের ছোট খালার ঠোটে নাকি একটা তিল আছে । তো সেটার কারনে ওর খালামনিকে নিয়ে আমাদের মধ্যে বিস্তর সন্দেহ ছিল যদিও সেই সব সন্দেহ সাওলিনের সামনে আমরা প্রকাশ করতাম না। শত হোক, বেচাররি খালা তো, এই সব শুনলে কষ্টতো সে একটু পাবে ই। এভাবে ই দিনের পর দিন আমাদের তিলক সংক্রান্ত জ্ঞান ও গবেষনা বেড়েই চলছিল। তারপর অনেক দিন পর আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে আবিষ্কার করলাম যে আমার নিচের ঠোটের বাম দিকে অস্পষ্ট একটা তিল। ভূত দেখলেও বোধ হয় এতো ভয় পেতাম না সেদিন যেই ভয়টা পেয়েছিলাম। ভয়ে, লজ্জায় মরে যাওয়ার মতো অবস্থা আমার। কপাল ভালো যে তিলটা অস্পষ্ট ছিল এবং কাউকে মেনশন না করলে উহাতে কারো নজর পড়তো না। সেই দিন থেকে তিলক গবেষনা বন্ধ করে দিলাম। কোন স্বউৎসাহী সদস্য এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অন্য বিষয়ে গল্প করা শুরু করতাম। মনের মধ্যে তখন ভয় ছিল কারো নজরে যদি আমার ঠোটের তিলটা পড়ে যায়। ধীরে ধীরে তিলক গবেষনা তার ব্যাপ্তি হারাতে থাকলো এবং আমিও হাফ ছেড়ে বাচলাম। সেই থেকে আর কোন দিন তিলক গবেষনায় অন্তর্ভুক্ত হয় নি । এবং এই অস্পষ্ট তিলকের কার্যকারিতা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ হয় নি। প্রকাশ না পেলেই বাঁচি ...
তিলক গবেষনা
ছবি ব্লগ
আমার ভালোলাগা কিছু ছবি নিচে শেয়ার করা হলো। একটা আায়াত জানলেও তা অপরের কাছে পৌঁছে দাও(আল-হাদিস

আপনার বেঁচে আছে?
আপনার মা/বাবা বেঁচে থাকলে আপনি এখনো সৌভাগ্যবান -এরকম ভাবনা হয়তো ৯৮ ভাগ মানুষ ভাবে। মা/বাবা নিয়ে মানুষের ইমোশন, সংগ্রাম নিয়ে সবাই কিছু কিছু লিখতে পারবে, বা মুখে বলতে পারবে। গোর্কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."
জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপার কারণে দিদি হেরেছন

আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন
লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।
এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।