somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক স্ক্যাম ও তার প্রতিকার

০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিছিদ্য অংশ, বিশেষ করে তরুন সমাজের কাছে । আমাদের ব্যক্তিত্বের অনেকাংশই প্রকাশ পায় আমরা নিজেদেরকে এইসব সোশাল মিডিয়াতে কিভাবে উপস্থাপন করি । ব্যক্তি ইমেজও অনেকাংশেই তাই এর উপর নির্ভরশীল ।

সোশাল মিডিয়ার মধ্যো ফেসবুক নিসন্দেহে সবচেয়ে জনপ্রিয় । বাংলাদেশে এখন প্রায় ২ লক্ষ ফেসবুক ব্যাবহারকারী রয়েছেন । ফেসবুকে ফেন্ডলিস্টে বন্ধু বান্ধব, অফিসের কলিগ, শিক্ষক এমনকি বাবা মা পর্যন্ত থাকেন । ফলে আমরা ফেসবুকে কি করছি বা কি পোস্ট করছি তা সবার নজরে পড়ছে । অনেকের ফেসবুক ওয়ালে পাবলিক অ্যাকসেস থাকে, ফলে সবাই তার ওয়াল পোস্ট দেখতে পারছে । তাই আপনার যে কোন পোস্টের জন্য আপনি বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন বা অসন্মানিতবোধ করতে পারেন । ইদানিং ফেসবুকের কিছু আপত্তিকর পোস্টের কারনে অনেককেই বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হয়েছে । দিনে দিনে এই ধরনের স্পামিংয়ের ঘটনা কিন্তু বাড়ছেই । দেখা যায় ইটালীয়ার টিভি হোস্টের ভিডিও, ওসামা বিন লাদেনের ভিডিও বা বিভিন্ন টিম্পটিং ভিডিওর মাধ্যমে এই ধরনের স্পামগুলো ছড়িয়ে থাকে । একজন ব্যবহারকারী যখন এই ভিডিওটিতে ক্লিক করেন তখন সেটি পোস্ট আকারে অন্য ফ্রেন্ডদের ওয়ালে শেয়ার হয়ে যায় ।
এই ধরনের স্পামিংকে আমরা সাধারনত কয়েক ভাগে ভাগ করতে পারি,

১. ক্লিক জ্যাকিং
২. লাইক জ্যাকিং
৩. ম্যালেশিয়াস কোড
৪. ম্যালেশিয়াস ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন:

১. ক্লিক জ্যাকিং

ক্লিক জ্যাকিং হলো কোন লুকানো লিংকের উপর অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্লিক করা । সাধারণত HTML / CSS এর ট্রিক ব্যবহার করে একটা পেজের উপর আরেকটা পেজ লোড করা হয় বা অথবা কোন ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে লুকিয়ে অন্য লিন্ক দিয়ে দেয়া হয় । এর ফলে ফেসবুক ব্যবহারকারী কোন কিছুতে ক্লিক করলে প্রকৃতপক্ষে তা অন্য কিছুতে ক্লিক হয়ে যায় । আমি কয়েকটি উদাহরনের মাধ্যমে ক্লিক জ্যাকিং দেখানোর চেষ্টা করবো,

নিচের ছবিটা আমরা ইদানিং প্রায়ই দেখছি,


যদিও লিন্কটিকে YouTube লিন্ক বলে মনে হয় । কিন্তু আসলে এটি একটি থার্ডপার্টি লিন্ক । নিচের ছবিতে হাই লাইটেড আংশটি লক্ষ করুন ।


যখন কোন ইউজার এই লিন্ককে ক্লিক করেন তখন সে http://kuskaduska.blogspot.com/ এই পেজ রিডাইরেক্ট হবেন । তখন তাকে একটি ম্যালেশিয়াস প্লাগিন ইনস্টল করতে বলবে যার মাধ্যমে হ্যাকররা তার তথ্য চুরি করতে পারবে ।
আরেক ধরনের আক্রমন হতে পারে ইউজারকে একটা সার্ভে পেজে রিডাইরেক্ট করবে । এর মাধ্যমেও হ্যাকররা তার তথ্য চুরি করে থাকে ।


লুকানো লাইক বা শেয়ার বাটনটি সাধারনত কোন ছবির নিজে লুকানো থাকে ফলে সাধারন ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা বেশ কঠিন । আনেক সময় দেখা যায় ব্যবহারকারীকে একটা ক্যাপচা পূরন করতে দেয়া হয় ।


প্রকৃত পক্ষে এই ক্যাপচাটির পিছনে একটা কমেন্ট বক্স হাইড করা আছে । ফলে কেউ যদি কোন কারনে সাবমিট বাটনে ক্লিক করেন তাহলে তা অন্যের ওয়ালে এই লিন্ক সহ আপনার কমেন্ট (হ্যাকারের দেয়া) সহ ফিড হবে ।



এরকম আরো বহুভাবে হ্যাকররা আপনার অনিচ্ছাকৃত ক্লিককে ব্যাবহার করতে পারেন । যা কিনা আপনাকে সামাজিকভাবে বিব্রতকর আবস্থায় ফেলতে পারে । সুতরাং এ ব্যাপারে সবারই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ।

২. লাইক জ্যাকিং

লাইক জ্যাকিং, ক্লিক জ্যাকিংয়ের মতোই যেখানে ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই বা কোন ক্লিপ দেখার জন্য জোরপূর্বক লাইক দিয়ে থাকেন । কারন হ্যাকাররা ব্যবহারকারীকে লাইক না দিলে ভিডিওটি দেখতে দেয়না । সাধারন ব্যাবহারকারী তখন বধ্য হয়ে ক্লিক করেন ভিডিওটি দেখার জন্য ।


ব্যবহারকারী লাইক দিলে তা অন্যের ওয়ালে তা ফিড আকারে চলে যায় ।


যেসব ওয়েবসাইটে এফবি লাইক বাটন আছে সেসব সাইট থেকেও এই ধরনের আক্রমন করা সম্ভব । লাইক জ্যাকিং আনেক সময় অনেক চাতুর্যের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে । হ্যাকাররা “লাইক বাটন” টির উপরে একটি স্বচ্ছ লেয়ার দিয়ে দেয় এবং এই লেয়ারের সাথে মাউস পয়েন্টার লাইক বাটনের লিন্ক কর দেয় । সুতরাং যখন কেউ কোন ক্লিপে প্লে বাটনে ক্লিক করেন তখন সাথে সাথে লাইক বাটনেও ক্লিক হয়ে যায় ।

৩. ম্যালেশিয়াস ইস্কিপ্টিং

এটা আরেক ধরনের স্পামিং যা কিনা এফবি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়ে থাকে । ম্যালেশিয়াস ইস্কিপ্টিংয়ে, হ্যাকারা ব্যাবহারকারীকে সাধারনত আর্ষনীয় বা লোভনীয় আফারসহ একটি লিন্ক দিয়ে থাকে । যখন ব্যবহারকারী ঐ লিন্কটি ব্রাউজ করেন, ম্যালেশিয়াস ইস্কিপ্টিটি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের কন্ট্রল নিয়ে নেয় । এই স্কিপ্টটি মেসস পাঠানো, ভিকটিমের ওয়ালে লেখা, ফ্রেন্ডের ওয়ালে লেখাসহ বিভিন্নভাবে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসী ও ইন্টিগ্রেটি ভঙ্গ করতে পারে ।


৪. ম্যালেশিয়াস ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন:

ইদানিং ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বারছে । বিশেষ করে অনেকেই এখন ফেসবুকে বিভিন্ন গেম খেলে থাকেন, এর মধ্যে ফার্মভ্যালী, সিটি ভ্যালী, জিঙ্গা খুবই জনপ্রিয় । হ্যাকারা সাধারন মানুষের এই আসক্তিকে বা ভালো লাগাকে কাজে তাদের অনেক তথ্য চুরি করে নিয়ে যায় । ফেসবুকে আনেক থার্ডপার্টি ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন আছে যা কিনা সিকিউরিটি ও প্রাইভেসী স্টান্ডর্ড মেনে তৈরী করা হয় না । এই নিরাপত্তা ছিদ্র টিকে ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে নেয় ।



প্রতিকার :

১. প্রথমত নিজেকে এই ধরনের লিংন্কে ক্লিক করা থেকে বিরত রাখতে হবে । আর্থাৎ যা কিছু সন্দেহজনক মনে হবে তা থেকে বিরত থাকতে হবে । এক্ষেত্রে নিজের কমন সেন্স ব্যবহার হলো প্রাথমিক ও সবচেয়ে কর্যকরী প্রতিকার ্
২. আপনি যদি ফায়ারফক্স ব্রাউজার ব্যবহার করেন তবে NoScript add-on টি ইন্সটল করে নিতে পারেন । আপনি যদি ওপেরা বা ক্রোম ব্যবহার করেন তবে আপনি NotScripts চেষ্টা করে দেখতে পারেন । আপনি যদি NoScript add-on টি ব্যবহার করেন তবে ক্লিক জ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে নিচের মতো ওয়ার্নিং দেখতে পাবেন ।


৩. যদিও আমি নিজে খুব একটা সুফল পাইনি তার পরও ফেসবুক যেহেতু রিকমেন্ড করেছে তাই Web of Trust (WOT)(http://www.mywot.com) ব্যবহার করা যেতে পারে ।
৪. যদি আপনি কোন সন্দেহজনক লিন্কে ক্লিক করতে চান তাহলে, ব্রাউজারের প্রাইভেট ব্রাউজিং আপশনটি ব্যবহার করুন । এখন প্রায়সব জনপ্রিয় ব্রাইজারেই প্রাইভেট ব্রাউজিং আপশনটি আছে । কিন্তু মনে রাখবেব সন্দেহজনক লিন্কে ক্লিক করার সময় যাতে কোনভাবেই আপনি ফেসবুকে লগিন করা না থাকেন ।


মজিলা ফায়ার ফক্স প্রাইভেট ব্রাউজিং আপশন


গুগল ক্রোম প্রাইভেট ব্রাউজিং আপশন
৫. আপনার ব্রাউজারটি নিয়মিত আপডেট করুন, যাতে আপনি ব্রাউজার সম্পর্কিত ভারনাবিলিটি বা নিরাপত্তা দুর্বলতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন ।
৬. ফেসবুকে কোন সন্দেহজনক লিন্ক, ক্লিপ, অ্যাপ্লিকেশন দেখলে তা ফেসবুকে রিপোর্ট করুন (Report/Mark as Spam )


আশা করি আর্টকেলটি পাইকের উপকারে লাগবে । ধন্যবাদ ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:০২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×