somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শবে বরাত এবং হালুয়া-রুটির আনন্দ

২৫ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(১)
আমি তখন স্কুলে পড়ি। প্রতিবছর ঈদের দিনের মতো শবে বরাতের দিনটির অপেক্ষায় থাকি।অনেকক্ষেত্রে দিনটি ঈদের চাইতে বেশি আনন্দের মনে হতো। দাদি-মা-বোন সকাল থেকে রুটি বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজেদের খাওয়ার জন্য এবং প্রতিবেশী-আত্নীয় স্বজনদের বিলি করার জন্য চালের রুটি। আর গরীবদের বিতরনের জন্য আটার রুটি। ঘরে বানানো হতো রকমারি স্বাদ ও ডিজাইনের হালুয়া। হালুয়াতেও ছিল ধনী-দরিদ্র বৈষম্য। সকাল থেকেই মায়ের কাছে বসে হালুয়া-রুটি বানানো দেখতাম। ইচ্ছে হলেই নিয়ে খাওয়া শুরু করতাম। যতো খুশি ততো, কোন মানা ছিল না। কোন ভিক্ষুক দরজায় কড়া নাড়লেই হালুয়া-রুটি নিয়ে ছুটে যেতাম বিলি করতে। বিকেল প্রতিবেশী-আত্নীয় স্বজনদের বাসা থেকে হালুয়া-রুটি আসা শুরু হতো। বাড়ীর সিনিয়র ছেলে সদস্যদের উপর দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন বাড়িতে হালুয়া-রুটি পৌঁছে দেওয়া। নিজেদের ও বিভিন্ন বাসা থেকে আসা হালুয়া-রুটি খেতে খেতে মুখটা একেবারে মিষ্টি মিষ্টি হয়ে যেত।
(২)
আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি । হল জীবনের প্রথম শবে বরাত। মনের মধ্যে চাপা কষ্ট। হালুয়া-রুটি খেতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু কোথায় পাই? বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজারে ছুটে গেলাম। কিন্তু নাহ, এ বস্তু কোথাও বিক্রি হয়না। অনেক দূরে মা হালুয়া-রুটি বানাচ্ছে আর চোখ মুছছে। আদরের ছেলেটি এবার হালুয়া-রুটি খেতে পারবে না। সন্তানের জন্য ফ্রিজে সকল ধরনের হালুয়া রেখে দিলেন। ছেলে আসলে চালের রুটি বানিয়ে দিবে। এ বছর মায়েরও হালুয়া-রুটি তেমন খাওয়া হয়নি। ছেলে ফিরলে একসাথে খাওয়া যাবে।
(৩)
গতকাল ছিল শবে বরাত। সকালেই স্ত্রী জানাল সে হালুয়া-রুটি বানাতে পারবে না। অবাক হইনি। কয়েকবছরই এমনটি হচ্ছে। তাকে দোষও দিচ্ছি না। বেচারা বিজনেস ও সংসার নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া হালুয়া-রুটির কালচারেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিকেলে স্ত্রী হাইওয়ে সুইটস হতে রেডিমেট হালুয়া সেই সাথে মিষ্টি, সন্দেশ কিনে আনল। আমার কোন সমস্যা হয়নি। নতুন কালচারে দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। তবে মাঝে মাঝে সন্তানের কথা মনে পড়ে। শবে বরাতে হাতে তৈরি হালুয়া-রুটির আনন্দ সে দেখল না। কিংবা কে জানে! এই জেনারেশনের ছেলে হয়তো তৈরি খাবারের চাইতে রেডিমেট খাবারই বেশি পছন্দ করে।
পূনশ্চঃ আমি জানি মা এবছরও আমার জন্য হালুয়া ফ্রিজে রেখে দিবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্কাইভ থেকে: ঈশ্বর ও ভাঁড়

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১০




বিরাট কিছু চাইনি। পরিপাটি দেয়ালে আচানক লেগেছিলো একরত্তি দাগ। কোনও ঐশী বলে মুছে যেতো যদি—ফিরে পেতাম নিখুঁত দেয়াল। তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো কার! (সে দাগ রয়ে গেছে!)

পাখিদের মতো উড়বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×