বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মপালন করে সুখে-দুখে একসাথে বসবাস করে আসছে। সাধারণ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ধর্মের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তথাপি ধর্মের ব্যবহার ও ধর্মের অপব্যবহার - এই দুয়ের মাঝের সীমারেখা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে বেশ অনেকদিন।
ক্ষমতাধারীরা ক্ষমতায় থাকার জন্য আর ক্ষমতার বাইরের ক্ষমতালোভীরা ক্ষমতা পাবার জন্য ধর্মকে প্রবলভাবে (অপ)ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস যেমন হিন্দু জমিদার শ্রেণী কর্তৃক গরীব প্রজা-সাধারণের উপর সীমাহীন অত্যাচারের কাহিনী ধারণ করে আছে, তেমনি মুসলিম নামধারী কাঠমোল্লাদের বল্গাহীন অনাচারের সাক্ষী হয়ে আছে। এই দুয়ের মাঝামাঝি আবার বস্তুবাদী একদল লোক ধর্মহীনতার পতাকা উড়িয়ে চলছে; আর ভাববাদী একদল লোক সকল ধর্মের কিছু কিছু মিলিয়ে নতুন মতবাদ প্রচার করেছে, সে প্রয়াস এখনো আছে।
ইসলামে ধর্মপালনের গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত যারাই আল্লাহর আদেশ মোতাবেক ইসলামের সব বিধি-বিধান মেনে চলেন তারাই হলেন মুসলিম। মুসলিম মানে আল্লাহর প্রতি আত্নসর্মপণকারী। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেনঃ
আর তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে ও নিজে সৎকাজ করে এবং বলে, আমি তো একজন মুসলিম। [হা-মীম আস সাজদা (৪১), ৩৩]
পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে
হে ঈমানদারগণ, তোমরা পুরোপুরিই ইসলামে প্রবেশ করো এবং কোনো অবস্থায়ই শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; কেননা শয়তান হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্যতম দুশমন। [আল বাক্বারা (২), ২০৮]
আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহকে ভয় করো, ঠিক যতোটুকু ভয় তাঁকে করা উচিত, (আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ) আত্নসর্মপণকারী না হয়ে তোমরা মারা যেও না। [আলে ইমরান (৩), ১০২]
ধর্মপ্রচার তথা ইসলামের সুমহান বাণী সকলের কাছে পৌছে দেবার দায়িত্ব প্রত্যেক মুসলিমের। আল্লাহ বলেছেনঃ
(হে নবী) আহ্বান করুন (মানুষদেরকে) আপনার মালিকের পথে প্রজ্ঞা ও সদুপদেশ দ্বারা, যুক্তিতর্ক পেশ করুন সবচাইতে উৎকৃষ্ট পন্থায়; ... [আন নাহল (১৬), ১২৫]
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছেঃ
তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে। [সূরা আল ইমরান (৩), ১১০]
যেহেতু মুসলিমরা এদেশে সংখ্যাগরিষ্ট, সেহেতু ধর্মীয় সহাবস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে মুসলিমদের দায়িত্বও বেশী। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছেঃ
তারা (মুশরিকরা) আল্লাহর বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি-গালাজ করো না, নইলে শত্রুতার বশবর্তী হয়ে না জেনে তারা আল্লাহকে গালি দেবে; ...
[আল আনয়াম (৬), ১০৮]
পরিশেষে আমি মনে করি, একজন ধার্মিক মানুষ - সে মুসলিম হোক, হিন্দু হোক অথবা অন্য যে কোনো ধর্মালম্বী হোক অন্য কারো ক্ষতির কারণ হতে পারে না। প্রকৃত ধার্মিক নয়, কিন্তু প্রকৃত ধার্মিকের লেবাসধারীরা কালে কালে ধর্ম নিয়ে সংকট বাধিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট উত্তোরণে আমাদের করণীয় হল অন্য ধর্ম ও ধর্মালম্বীদের সম্মান দিয়ে আপন আপন ধর্মপালন করে সবচাইতে উৎকৃষ্ট বিনীত পন্থায় ধর্মপ্রচার করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


