অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে বিকুল হয়ে ছুটে এসেছে এক ‘অনভিজ্ঞ’ রোগী। অনভিজ্ঞ রোগী মানে, ডাক্তারের কোন কথারই উত্তর সে দিতে পারছে না। রোগ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নাই, আর কি! কথোপকথনটি অনেকটা নিম্নরূপ:
-ডাকতার সাব, আমার খালি অস্থির লাগে। আজকে কামে যাইবার পারি নাই!
-কেন আপনার কী হয়েছে?
-কিছুই বুঝবার পারতাছি না। আপনার ওষুধ খাবার পর থাইকা খালি অস্থির লাগে।
-ঘুম হয়েছে ঠিক মতো?
-হ তা হইছে। অস্থির অইয়া ঘুমাইছি সারারাইত!
-বাথরুম ঠিক আছে?
-গরীবের একটা বাথরুম! হ তবু মোটামুটি ঠিক আছে। অস্থির!
-মাথা ব্যথা আছে?
-না। অস্থির!
-তা হলে আপনার সমস্যাটা কোথায়? আরেকটু বুঝিয়ে বলবেন?
-আর কী কমু? আমার খালি অস্থির লাগে।
ব্লগে অনেক ভালো কবি আছেন। নতুন প্রজন্মের কবি। নতুন সব অনুভব। পড়ে অনেক ‘ভালো’ লাগে। গর্ব করার মতো কবিতা। সুপাঠ্য। অনুভবে পূর্ণ হই। কিন্তু সমস্যা হলো এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারি না। অথচ, তারা যতটুকু ভাবনা দিয়ে একেকটি কবিতা লেখেন, তাতে শুধুই ‘ভালো হয়েছে’ বললে কেমন যেন অবিচার মনে হয়। এনিয়ে অনেক লেখেও তৃপ্ত হতে পারছি না।
কবিতা যে আমার কর্ম না, সেটি বহু আগেই মাইক (ব্লগ পোস্ট) দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ব্লগের হীরকতুল্য কবিদের কবিতা পড়ে পর্যাপ্ত মন্তব্য না করতে পেরে একটু অতৃপ্তিতে থাকি। এই দ্বিধার কারণে অনেকের কবিতা পড়েও মন্তব্য করি না। পাবলিক ব্লগে এই আচরণ রীতিমত রুড বা এটিকেট বিরুদ্ধ।
কবিতা পড়ে রুমাঞ্চিত হই, অনুভবে পূর্ণ হই, একাত্ম হই। মাঝে মাঝে উপরোক্ত রোগীর মতো ‘অস্থির’ হই। কিন্তু ‘কেন’ তার কারণ বলতে পারি না।
এটি একান্তই সামর্থের বিষয়। অনেকটা মায়ের হাতের রান্নার মতো। মজা লাগে, কিন্তু কেন মজা লাগে তা বলতে পারি না। অথবা অন্যের হাতের রান্না খাবার মতো। হয়তো মজা লাগে না, কিন্তু ঠিক কোন্ মসলাটি কম/বেশি হবার কারণে স্বাদ কমে গেছে, তা বলতে পারি না। পুরোপুরি অর্বাচীন বলতে পারেন।
'বোবার শত্রু নাই' রীতিতে অবশ্য মাফ পাওয়া যায়। উপরোক্ত রোগীকে নিয়ে যত বিপদেই ডাক্তার পড়ুন না কেন, আমার বিশ্বাস, রোগীকে পুরোপুরি দায়ি করবেন না সদয় ডাক্তার।
এভাবেই অনুকম্পা পেয়ে আসছি। সামু’র কবিদের নিকট থেকেও পাচ্ছি। যেমন ধরুন কবি ৎঁৎঁৎঁকে সেদিন যখন বললাম: ‘অনুভব তো সকলেই ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না। পারলে কবি হয়ে যেতাম।’ তখন তিনি কিন্তু সদয় হয়ে বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। এভাবেই অন্যরা করছেন। বাকিও করবেন, এই আশায় এই সেমি-ব্লগ পোস্টখানি নিবেদন করলাম।
পুনশ্চ নয়/ লেখারই অংশ: দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, প্রথম আলো ব্লগ শাটডাউন ('বন্ধ' বললে বিষয়টার অসহায়ত্ব কমে যায়) করে দেবার 'প্রতিশ্রুতিতে' আমার কিছু হাবিজাবি লেখা 'অবভিয়াসলি' বাস্তুহারা হবে। ওখানে পড়ে আছে অনেক ভালোবাসার গল্প। বাংলা ব্লগের আকাশে কি তবে দুর্যোগের ঘনঘটা? তবে কি আবারও অস্থির হতে হবে
------------------------
পুনশ্চ: আজাইরা আলাপে কেউ মাইন্ড খাবেন না। ব্লগের সকল কবি এবং কবিতা সংকলকের প্রতি আমার সালাম ও শুভেচ্ছা
পুনঃপুনশ্চ: একটা ভুল হয়ে গেছে। লেখাটি একবার প্রকাশ করার পর ভুলক্রমে ‘ড্রাফট করুন’ ট্যাবে চাপ পড়ে গেছে। নোটিফিকেশনে ‘খেয়াঘাট’ ভাই একটি মন্তব্য দিয়েছিলেন বুঝতে পারলাম। দুঃখিত ভাই। ক্ষমা করতে পারলে আবার মন্তব্যটি করতে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




