somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুরে এলাম বান্দুরা

১৪ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিভিন্ন ব্লগ এবং পেপার কার্টিং দেখে কয়েকদিন থেকে মনে হচ্ছিল নবাবগঞ্জের বান্দুরা থেকে ঘুরে আসি। জায়গাটা ঢাকা থেকে খুব একটা দূরে ও না। তাই কাল সকালে আম্মুকে বললাম পুরান ঢাকার জমিদার বাড়ী দেখেতে যাব। আর সাথে সাথেই একমাত্র ছেলের প্রতি পিতা-মাতার ভালবাসা দেখানো শুরু হলো। পুরানো বাসায় সাপ থাকবে..সাবধানে থাকবে…পানির কাছে যাবে না..বন্ধ ঘরে গ্যাস থাকতে পারে..আরো কত কি! :D যাই হোক, আব্বু আম্মু বুয়েটে নামিয়ে গেলে সেখান থেকে রিক্সা করে পল্টন এ গিয়ে বান্দুরা গামী বাসে উঠলাম। চরম লোকাল সেই বাস যাত্রী ও ছাদের উপর মালামাল নিতে অনেক দেরী করে ফেলল। তবে বুড়িগঙ্গা সেতু পার হবার পর কেরানীগঞ্জের রাস্তার দুই পাশের সৌন্দর্য্য মুগ্ধ করার মতো। এরমাঝে শুরু হলো বৃষ্টি। :) দুই পাশ দেখতে দেখতে বেশ ভালই মনে হচ্ছিল। তবে সরু রাস্তা, বাসের দ্রুত গতি ও বৃষ্টির মাঝেও বাসের ওয়াইপার না থাকায় বেশ ভয় ভয়-যে লাগেনি তা না। :| যাত্রার শেষাংশে অনেক দূর ধরেই রাস্তা পথের সঙ্গী হয়ে থাকে ইছামতি নদী।এছাড়া ব্রীজ এর উপর থেকে বর্ষার তুলসীখালী নদীটা দেখতেও বেশ লাগল।

যেতে আমাদের বেশ সময় লাগে। ঘন্টা-দুয়ের কাছাকাছি বাস ভ্রমণ শেষে আমরা বান্দুরায় নামি।সাথে করে বেশ কিছু পেপার কার্টিং এবং ব্লগ এর লেখা প্রিন্ট করে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেগুলা থেকেই দেখে হলিক্রশ স্কুল ও সংলগ্ন গির্জা দেখার জন্য রিকশা ভাড়া করি। জপমালা রানীর গির্জাটা বেশ সুন্দর। সামনে এটা পুকুর আছে। আর মাঠ সহ প্রার্থনার স্থানটাও নজর কাড়ে।

সেখান থেকে আবার রিক্সায় রওনা দিই। আমাদের রিক্সা চালক বলেন, সামনে গোল্লা নামক স্থানে নাকি আর একটি গির্জা আছে। আমরা সেটার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পথের রিক্সা ভ্রমণটা ছিল উল্লেখ করার মতো। :) একদম নিশ্চুপ ইট বিছানো রাস্তা, দুইপাশে অগোছালো ভাবে বেড়ে ওঠা গাছ-গাছালি এবং পাশ দিয়ে বয়ে চলা ইছামতি নদী…সব মিলিয়ে রিক্সা ভ্রমণটা ছিল অসাধারণ।(সম্ভবত) ইছামতি নদী পার হয়ে আমরা গোল্লাস্থ সেই গির্জায় নামি। এই গির্জাটাও বেশ সুন্দর।





ইছামতি নদী ও গির্জা


অত:পর থেকে আমরা কালাকোপার কাছে জমিদার বাড়ী যা জজ বাড়ি নামে পরিচিত সেখানে আসি। সেটার দেখে কিছুটা আশাহত হই। /:) কারণ যেরকম জমিদার বাড়ী বা প্রাচীন স্থাপনা ভেবেছিলাম সেরকম কিছু না।আগে হয়তো জমিদার বাড়ি থাকলেও বর্তমানে সংস্থার করে হয়তো সেখানে লোকজন থাকে। বারান্দায় ঝোলানো কাপড়, বাড়ির আশেপাশে লোকজন দেখে ওইটাকে ব্যক্তিগত বাড়ি মনে হলো। কৃত্রিমতা ভাল লাগে না। তাই সেখান থেকে গেলাম সংলগ্ন কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ি তে। এইটার সামনে একটা মন্দির এবং মাথাবিহীন মুর্তি দেখলাম।এই জমিদার বাড়ীটি বেশ সুন্দর। ভগ্নপ্রায় এই বাড়িটি আমাদের প্রাচীন স্থাপত্য ও সমাজজীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।




কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ি


কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ির সামনেই আমরা পিকনিক হিসেবে সাথে নিয়ে আসা টিফিন সাবাড় করি। :P পাশের রাস্তা দিয়ে আবার রিক্সায় রওনা দিই আন্দরকোট্টা'র উদ্দেশ্যে। পথে আনসার ক্যাম্প, ইছামতি নদী সহ আরো কয়েকটা প্রাচীণ বাড়ি দেখতে পাই।



আন্দরকোট্টা যাবার পথে

আন্দরকোট্টা জায়গাটা বেশ ভাল। তবে একা বা সংখ্যায় বেশি না হলে তার ভিতরে না যাওটাই ভাল। আমরাও আন্দরকোট্টার ভিতরে যাইনি। /:) আন্দরকোট্টার সামনেও একটা সুন্দর পুকুর আছে।
সেখান থেকে রিক্সাযোগে ঢাকা-বান্দুরাগামী সড়কে এসে দাঁড়াই। কিছুক্ষণ দাড়াতেই বাস এসে পড়ে। এবার ফেরার পালা। আসতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি। সোয়া এক ঘন্টার মাঝেই ঢাকার নয়াবাজার চলে আসি।

বর্ষার সময়ে রাস্তার দুইপাশ, ইছামতি নদী, বান্দুরা থেকে কলাকোপা রিক্সা ভ্রমণ এবং সর্বোপরি সেখানকার পুরোনো স্থাপনা..সব মিলিয়ে ভ্রমণ টা বেশ চমৎকার হয়েছে বলা যায়। তবে বেশি মনোমুদ্ধকর প্রাচীণ স্থাপনা দেখার আশা নিয়ে সেখানে গেলে আশাহত হতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:৩১
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×