somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাঠে বসে খেলা দেখা

১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশ্চর্জজনক হলেও সত্যি এত বড় হয়ে গেলাম তাও আমি কখোনো কোন ফুটবল বা ক্রিকেট কোন ধরনের খেলাই মাঠে বসে সরাসরি দেখিনি। তাই এইবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ টা আর মিস করতে চাইনি। শেষ ওয়ানডের দিন থেকে আমাদের মিড-টার্ম শুরু। তাই ভাবলাম ওই ম্যাচটাই দেখি। টিকিট কেনার দায়িত্ব ছিল জুনিয়র এর উপর। দুই দিন ঘুরেও কোন টিকিট না পাওয়ায় ভেবেছিলাম খেলা দেখার আশা মনে হয় শেষ! /:) যাই হোক শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গ্যালারীতে ০৬-টি টিকিট কেনা সম্ভব হয়েছিল।

আমরা ছিলাম ৬জন। আমি, জুনিয়র, পারভেজ, বান্দা (সাইফ), রাফ্ফান আর ডিলন। এর মাঝে ডিলন পরে আমাদের সাথে যোগ দেয়।

আমরা জুনিয়র এর গাড়ীতে করে মাঠে যাই। মাঠে ঢুকেই আমার চক্ষু ছানাবড়া। পুরো মাঠ একসাথে এমন ভাবে দেখা যায় কল্পনাও করিনি কখোনো। পুরো মাঠ, বাউন্ডারী, ১৩ জন খেলোয়াড়, উইকেট, পিচ সম মিলিয়ে চমৎকার একটা ভিউ। প্রথম দেখায় আমার অনুভূতি অসাধারণ। :)

আমরা অবশ্য টস দেখতে পাইনি। টিকিট এর গায়ে সময় ২.৩০ মিনিট লেখা থাকলেও এর আগেই খেলা শুরু হয়ে গিয়েছিল। :(( আমাদের সিট ছিল ইন্টারন্যাশনাল-আপার অংশে। ঢুকে বসতে বসতে না বসতেই ওয়াসন আর পন্টিং মিলে শুরু করল তান্ডব। :(( বেটা রাফ্ফান আবার অস্ট্রেলিয়ার দিকে। প্রতিটা শট শেষে গাধাটা একগাল হাসি দেয় আর মনে হয় দিই মাথায় একটা করে চাটি। X(( রাফ্ফান একটা বাইনোকুলার এনেছিল। যদিও সেটার ব্যবহার কেবল মাশরাফি, সাকিব বা হাসি, পন্টিং কে দেখার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছড়িয়ে পড়ছিল গ্র্যান্ড-স্ট্যান্ড সহ আরো অন্যান্য দিকে। ;)

এর মাঝে রাজ্জাক সহ স্পিনার রা দ্রুত তিনটি উইকেট ফেলে আমাদের আনন্দে উদ্বেল করে। এক একটা উইকেট পড়ে আর আমরা পতাকা হাতে লাফালাফি করি। B-) আমার সবথেকে ভাল লেগেছে মাশরাফির দ্বিতীয় স্পেলে এসে পাওয়া উইকেট দুটি। প্রথম ইনিংস শেষে স্কোর দেখে অবশ্য বেশ হতাশ হয়ে পড়েছিলাম।

টিকিট এর পিছনে ক্যামেরা নেয়া নিষেধ দেখে আমি আর ক্যামেরা নিয়ে যাইনি। যদিও মাঠে দেখলাম অনেকে ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছে। কিভাবে নিল কে জানে। :| আমরা যাবার পরে এক পর্যায়ে ডিসপ্লেতে দেখা দর্শক সংখ্যা ১০,০০০ এর উপরে । অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ থেকেই মাঠে দর্শক বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ এর ইনিংস এর সময় সেটা বেড়ে ২০,০০০+ হয়। আমরা আসলেই ক্রিকেট পাগল জাতি। 8-|

হাফটাইম এ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দেখে ফুড কোর্ট যেতে যেতে দেখি ওইখানের সম আইটেম শেষ। ছিল শুধু বার্গার। ১০০ টাকা মূল্যের সেই বার্গার খেতে ভাবলাম কি কি উপাদান ব্যবহার করলে এটার মূল্য ১০০ হতে পারে। অবশ্য বাংলাদেশের ইনিংস এর মাঝ পথে গিয়ে দেখি সেই বার্গার-ও শেষ! /:)

বিরতির পরে বাংলাদেশের ব্যটিং শুরু হল। প্রথম থেকেই তামিম আর ইমরুল মাতিয়ে রাখছিল। নাফিস আউট হবার আগে পর্যন্ত আমরা আশায় ছিলাম বাংলাদেশ জিতবে এই আশায়। তার পরও বাংলাদেশের ব্যটিং দেখে ব্যাপক মজা লেগেছে। জয় পেলে হয়তো আরও ভাল লাগতো, তারপরেও বাংলাদেশ বাহবা পাবার মতই খেলেছে। হাই স্কোরিং মাচে নিজ দলের ব্যাটিং দেখার তুলনাই হয় না। :#)

মাঠে বসে খেলা দেখার মজাই অন্য রকম। পুরোটা মাঠ একসাথে চোখের সামনে। টিভিতে বসে দেখলে শুধু নির্দিষ্ট অংশ দেখা যায়। হা করে টিভি সেটের সামনে তাকিয়ে থাকলেই চলে। কিন্তু এইখানে শট দেখা থেকে শুরু করে বল কোনদিকে গেল সব নিজেকেই দেখতে হয়। সাথে ফিল্ড প্লেসিং, ক্যাপ্টেন্সি, ব্যাট্সম্যান দের আসা যাওয়া সব কিছুই দেখতে অন্য রকম লাগে। পুরোই নতুন একটা অনুভূতি। 8-| সেই সাথে একটু পরে পরে দর্শক দের চিৎকার, লাউড স্পিকারে ভেসে আসা গান, পুরোই উৎসবমূখর পরিবেশ। আর রাতের বেলায় ফ্ল্যাড লাইটের আলোয় মিরপুর স্টেডিয়াম অসাধারণ। মনে হয় অন্য কোন গ্রহে বসে আছি।

মাঠে বসে খেলা দেখার পরে আমার একটা কথাই মনে হচ্ছিল মাঠে যদি কখোনো না আসতাম অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতাম। যারা এপর্যন্ত মাঠে গিয়ে খেলা দেখেনি তারা যেন একবার কিছুক্ষনের জন্য হলেও মাঠে নিজ দলের খেলা দেখে আসে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×