আবুল বাশার নূরু: সজীব ওয়াজেদ জয় মনে করেন, ’৭৫ ও ’৮২ এর মতোই আবার একটি মহল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বন্দি করতে চায়। রায় আগেই ঠিক করা আছে। এসবের বিরুদ্ধে দেশে ও দেশের বাইরে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দিয়ে জয় বলেন, শুধু আমার মাকে রক্ষা করার জন্য নয়, দেশকে রক্ষার জন্যই আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
শেখ হাসিনার গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিবৃতি দেয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে জয় বলেন, উনি যে দাবি জানিয়েছেন সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। উনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। উনাকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। অন্য কোনও দেশে সাবেক সরকারপ্রধানকে এভাবে অপমান করা হয় না। গত বৃহস্পতিবারে বিডিনিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন জয়।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জয় বলেন, ’৭৫ সালে আমার পরিবারে এর চেয়েও বড় অঘটন ঘটেছে। আমার মাকে এর আগেও সামরিক সরকার গ্রেফতার করে। এতে আমরা অভ্যসত্ম। এজন্য মন খারাপ করে বসে নেই। জেগে উঠেছি। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যেভাবেই হোক আমরা লড়াই করব। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের প্রথমদিন থেকেই ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিশ্বব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়েছে। আমরা বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।
সারাবিশ্বের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা বিদেশি মুদ্রা দেশে পাঠানো কমপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছে। বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান কি আপনি জানিয়েছেন? এ প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, তারা নিজের ইচ্ছায় এটা করছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিলে দেশের ক্ষতি হবে কিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সরকার যেভাবে আমার মায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার সব পন্থাই আইন বহির্ভূত। এখন তো আমাদের আইনগত কোনও উপায় নেই। কোনও উপায় না থাকায় আমরা যেভাবে পারছি, সেভাবেই প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশের মানুষও আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ। এখন যদি রাজনৈতিক বিরোধিতা শেষ করে দিয়ে কয়েকজন জেনারেল ও কয়েকজন অনির্বাচিত উপদেষ্টা ক্ষমতা কেড়ে নিতে থাকেন তাহলে তো দেশের আরও বেশি ক্ষতি হবে। এভাবে চললে দেশ শেষ হয়ে যাবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। এটা না ঠেকালে দেশ ৩০ বছর পিছিয়ে যাবে। জয় বলেন, আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। শুধু আমার মায়ের জন্য নয়, দেশকে রক্ষার জন্য। সুত্র: আমাদের সময়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




