somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘স্যার আমারে রুটি বানানোর বেলুন দিয়া চোকে ও কপালে মারি রক্ত বের করি দিছে’

০৪ ঠা মে, ২০১০ সকাল ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :











‘স্যার আমারে রুটি বানানোর বেলুন দিয়া চোকে ও কপালে মারি রক্ত বের করি দিছে। বুট দিয়া বুকে ও প্যাটে ডলা দিছে। তাতেও রাগ মিটেনি। তিন দিন ধরি আমাক বাথরুমে আটকায়ে রাকিছে।


দিনে শুধু একটা রুটি দিয়া বুলতো, ‘খা কুত্তা, খা !’ গত শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) লালপুর উপজেলা স্বাস'্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন দক্ষিণ লালপুর গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের পুত্র তহিদুল ইসলাম (৯) এভাবে তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।


তার অভিযোগ, ব্যাটম্যান হিসেবে কাজ করা কালে ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম ওরফে শকিফ ও তাঁর স্ত্রী এই নির্যাতন চালিয়েছেন। এ ব্যাপারে তার মা জহুরা বেগম লালপুর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। তবে ক্যাপ্টেন শফিকের দাবী. চুরির অভিযোগে তাকে শুধু চড় থাপ্পড় মারা হয়েছে।


শুক্রবার দুপুরে উপজেলা স্বাস'্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৬ নম্বর বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশু তহিদুল। বুক পেট ফুলে গেছে। খাদ্য নালির ব্যাথায় খেতে ও কথা বলতে কষ্ট পাচ্ছে।


তবুও ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে জানায়, শুধু ছেলে রাখার কথা বলে তাকে নিয়ে গিয়ে বাথরুম পরিস্কার, ঘরদুয়ার ও আসবাব পত্র পরিস্কার, থালাবাসন ধুয়া, কাপড় চোপড় পরিস্কার করা ও সিগারেট এনে দেওয়ার কাজ করাতো। কাজে একটু ক্রটি পেলেই শারিরিক নির্যাতন চালানো হতো।


সে মাথা, মুখমন্ডল, গলা, চোখ, হাত-পা ও বুকে ৩২টি আঘাতের চিহ্ন দেখায়। অধিকাংশ আঘাত শুকিয়ে গেলেও চোখের মণিতে রক্ত জমে থাকা ও কপালের ভ্রুতে কাটা জখম এখনও রয়েছে। এই দুটি আঘাত করা হয় গত ২৪ এপ্রিল। তার বিরুদ্ধে পাঁচ‘শ টাকা চুরির অভিযোগ করা হয়।


টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করার সাথে সাথে তাকে রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে বুট দিয়ে পেট ও বুকে ডলা দেওয়া হয়। কিছু সময়ের জন্য সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলেও জানায়। এই ঘটনার জন্য তাকে তিন দিন বাথরুমে আটকে রাখা হয়। দিনে একটা রুটি দিয়ে বলা হতো,‘ খা কুত্তা, খা ! অবশেষে চুরি যাওয়া টাকা তাদের নিজেদের বিছানার নীচে খুঁজে পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।



গত ২৮ এপ্রিল তাকে লালপুর এনে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভর্তি করার দিন তহিদুলের অবস'া খুবই খারাপ ছিল। সারা শরিরে মারপিটের চিহ্ন রয়েছে। পেট ফুলে যাওয়াতে সে খেতেও পারছিল না। তবে ধীরে ধীরে সে সুস' হয়ে উঠছে।



হাসাপাতালে তহিদুলের পাশে বসা ছোট বোন রিক্তা বলেন, চার ভাইবোন রেখে আব্বা মারা গেছে অনেক দিন আগে। মা ধানের চাতালে কাজ করে। অভাবের দায়ে তহিদকে ক্যাপ্টেন স্যারের কাছে রাখিছিনু। কিন' স্যার আমার ভাইডারে শেষ করি দিছে। কথা শেষ না করেই সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।



তহিদুলের মা জহুরা বেওয়া বলেন, পেটের দায়ে ছেলিক স্যারের কাছে রাখিছিনু। কিন' স্যার যে ছেলিডাক এভাবে অত্যিচার করবি, তা ভাবিনি। বিচার পাব কি না জানিনি। তবে লালপুর থানায় একটা মামলা দিছি। না হলে আল্লায় বিচার করবি।


এ ব্যাপারে মানবাধিকার বাস-বায়ন সংস'া নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল ওহাব বলেন, আইনের দৃষ্টিতে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ। উপরন- কর্মজীবি শিশুকে মারপিটের এই ঘটনা খুবই মর্মানি-ক ও অন্যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে তদন- করে প্রয়োজনীয় ব্যবস'া নিবেন বলে আমি আশা করছি।


ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, ৫‘শ টাকা মাইনে দিয়ে তাকে রেখেছিলাম। কিন' তহিদ অসম্ভব বেয়াদব। সে আমাদের অনুপসি'তিতে ঘর অপরিস্কার করে রাখতো। আমার ছেলের খাবার খেয়ে নিতো। মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করতো। তাই রাগ সামাল দিতে না পেরে ওকে চড় থাপ্পড় দিয়েছিলাম। আমি বা আমার স্ত্রী তাকে নির্যাতন করিনি। তবে তাকে র‌্যাব বা থানায় না দিয়ে ভূল করেছি।



লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোরিকুল ইসলাম বলেন, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে ঘটনাস'ল ঢাকায় হওয়ায় অভিযোগটি আমরা মামলা হিসেবে নিতে পারছি না। সাধারণ ডায়রী করে লিখিত অভিযোগটি ঢাকায় পাঠিয়ে দেবো।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১০ রাত ৮:১০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×