নারী
সেদিন প্রথম চিৎকার করে বলেছিলাম মা।
মা! মা! মা!
এরপর ডাংগুলি খেলা, বউছি খেলেছি,
একান্নবর্তী পরিবার, কত আনন্দ আরো কত খুনশুটি,
চাদা দিলাম চড়ুইভাতির জন্য-
সাক্ষাৎ সেবার ষড়যন্ত্র ছিলো,
ষড়যন্ত্র না এ এক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার গল্প।
ও হ্যাঁ - সে চড়ুইভাতির কথা ভুলে গেছি,
ভুলে গেছি সেদিনটির কথাও, অনেক কেঁদে ছিলাম।
চোখের সামনে কাকলি-কে চলে যেতে দেখে।
অবশ্য সে লালপরীটি পিঠাপিঠি আমার খেলার সাথীও ছিলো,
নারী বলতে তখন বুঝতাম ঐ ছোট্ট বোনটিকে।
এখন অবশ্য ওর সংসার হয়েছে।
ওর কোলে কৌশিক এলো,
রোজই কথা হয়, মামা-বাগনের ফোনালাপ-
মামু! ঐ মামু! মামু ডাকতে আআমিই শিখিয়েছিলাম।ওর মুখের ভাঙা ভাঙা গলার মামু ডাক বড় মধুর শুনায়!
ও অবশ্য শহরে বড় হচ্ছে, শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে,
দিন যাচ্ছে আর ওর কথায় বিদেশি শব্দ যোগও হচ্ছে।
পেছন থেকে কেউ হাসছে, লুকিয়ে লুকিয়ে মামা-বাগনের কথা শুনছে-
আমি কাকলির কথা বলছি, ও নারী। আমার বোন!
এরপর বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরুলাম,
এখানে জীবনের গল্প যেমন কঠিন তেমনি ছলনাময়ীর নাম নারী।
আমি যার প্রেমে পড়েছিলাম সেও নারী,
এখনো রোজ যার প্রেমে পড়ি সেও নারী।
আমি যে ঝিনুক মালার গল্প লিখি-
বহুমাত্রিক জীবনের গল্পে যে রমণীর বুকে মানচিত্রের ছবি আঁকি
যে রমণীকে ফুলশয্যায় এনে রোজ খাবলে খেয়েছি কিংবা খাবলে খাই,
যে রমণীর গায়ে বেশ্যার কালি মেখেছি, কেনো বলছি না- নষ্টা আমার বোন, মা অথবা যাকে নারী বলছি!
এত অপবাদ তবুও ও নারী-
জগৎসংসারে এত গঞ্জনা-বঞ্চনা যার সে নারীই আমার মা।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১০:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




