এদেশে যখন কেউ পর্দার বিধানের কথা বলে তখন ইসলাম বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর গাত্রদাহ শুরু হয়,মনে হয় যেন হুজুর পর্দার বিধান নিজে নিজে বানিয়ে বলছে!!! বিশেষ করে যখন স্কুল,কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পর্দা করার কথা বলে তখন তো রক্ষা নেই অই হুজুরের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়বে!!! আরেহ্ ভাই কেউ একজন ইউনিভার্সিটিতে পড়ে বলে তার পর্দার দরকার নেই,বড় আজব মানুষ তো?? হুজুর তো পর্দা করার উপদেশ দিচ্ছেন তাকে তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বলছেন না আর ইসলাম শিক্ষার ব্যপারে অত্যান্ত উদার এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।তাইলে সমস্যাটা কোথায়???! আর কেউ একজন পর্দা করলেই সে ব্যাকডেটেড,সাম্প্রদায়িক,অন্ধকারের শক্তি, প্রগতি বিরোধী হয়ে যাবে এমন কথা কই পাইছো!!!
আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য কাউকে পর্দার দাওয়াত দেওয়া নয় আবার উটের পিঠের কুজের ন্যায় উদর, বুক উদোম রেখে মাথা ভর্তি কাপড়ের বস্তা পেঁচানো হিজাবকে পর্দা বলে না। একটা কথা পরিষ্কার বুঝতে হবে এসব প্রচলিত হিজাবের সাথে পর্দার সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ।

পর্দার বিধান কোন মানুষের কিংবা কোন হুজুরের তৈরি বিধান নয়, বরং এটা খোদ আল্লাহ তা'আলার তৈরি বিধান যেটা সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে অসংখ্যবার বলা হয়েছে, হাদিসে বলা আছে। হুজুর পর্দার কথা বললে যখন তোমার পশ্চাৎদ্বেশ চুলকানি শুরু হয়, মানববন্ধন কর,মিছিল সভা সমাবেশ কর,তাহলে মহান আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল(সঃ) যখন পর্দার বলছে পারলে তাদের বিরুদ্ধে কিছু কর!!!! ভন্ডামোর খোলস ছেড়ে পরিষ্কার করে বলে দাও এসব পর্দাটর্দা কিছুই আমরা আসলে ইসলাম বিদ্বেষী আমরা ইসলাম বিরোধী।
আর পর্দা কোন ছোটখাট জিনিস না এটা একটা ফরজ বিধান যেটা অবশ্যই, অবশ্যই পালন করতে হবে কোনভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই এবার আপনি মাদ্রাসায় পড়ুন অথবা ভার্সিটিতে পড়ুন কিংবা নাসার একজন সায়েন্টিস্ট হোন !!!!! আপনার পড়াশোনা,চাকরিতে কোন বিধিনিষেধ ইসলাম আরোপ করে না। এবার আসেন হুজুরেরা কেন নিজের খেয়ে আপনাদের পর্দার বিধানের কথা বার বার বলছে কারন, এটা তাদের দায়িত্ব যদি সে এ দায়িত্বে কিঞ্চিৎ ঢিলেমো দেয় তাহলে তার জন্য পরকালে তাকে কল্পনাতীত কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এটা শুধু হুজুরদের দায়িত্ব না বরং প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। হুজুরদের বলার দায়িত্ব হুজুররা বলে যাচ্ছে আপনাদের মন চাইলে মানবেন মন না চাইলে মানবেন না, কেউ পালন করার জন্য বাধ্যও করছে না। আহমদ শফি সাহেবের এটা দায়িত্ব ছিল এজন্য সে বলছে এখন আপনার মন চাইলে মানবেন না মন চাইলে একদম মানার দরকার নেই!!!! কিন্তু একজন বয়োজ্যেষ্ঠ প্রজ্ঞাবান আলেমের বক্তব্যর পুরোটা না প্রচার করে খন্ডিতাংশ দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য প্রচার করাটা বিকৃত রুচির পরিচায়ক, বুদ্ধি বেশ্যামো।
#Me_Too আন্দোলনে এসব বুদ্ধি বেশ্যাদের আসল চরিত্র বেড়িয়ে আসছে, এ আন্দোলনের ফলস্বরূপ বেড়িয়ে আসছে এদেশসহ সমগ্র দুনিয়ার তাবৎ তথাকথিত অসম্প্রদায়িক চরিত্রের আড়ালে ঢেকে রাখা নোংরা, ভয়ঙ্কর সব পশুসুলভ আচরণ। #Me_Too তে কিন্তু কেউ শফি হুজুরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে না বরং ঐসব পর্দা বিরোধী, ইসলাম বিরোধীদেরকেই অভিযুক্ত করছে।
কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম ওয়ালস্ট্রি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নারী পুরুষ একসাথে ডিনার বন্ধ, ফ্লাইটে মেইল কলিগ থেকে আলাদা বসা, ভিন্ন ফ্লোরে হোটেল এ থাকা(No more dinners with female colleagues. Don’t sit next to them on flights. Book hotel rooms on different floors. Avoid one-on-one meetings.) ইত্যাদি ইত্যাদি যেগুলো শফি হুজুর কইলে তেঁতুল হুজুর হইয়া যায়!!!!!আর সাদা চামড়ার মাইনসে কইলে বৈজ্ঞানিক নিগূঢ় তত্ত্ব হয়ে যায়। নাকি বলবেন ওনারাও এদেশ থেকে তেঁতুল খাইয়া গেছে!
ইচ্ছে হলে মানবে ইচ্ছে না হলে মানবে না কিন্তু এটা নিয়ে শুয়োর ছানার মত বাড়াবাড়ি করাটা রীতিমতো অন্যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




