somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আর ভালোবাসতে চাই না।

০২ রা নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আর ভালোবাসতে চাই না

মানুষের জীবনে কিছু গল্প থাকে, যেগুলো বলা হয় না, তবু প্রতিটি নিশ্বাসে বেঁচে থাকে।
প্রেম, প্রতারণা, আকাঙ্ক্ষা আর আত্মসম্মানের সীমা ছুঁয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতি এমনভাবে মিশে থাকে জীবনের ভেতর, যে কোনো একদিন সেগুলোই হয়ে ওঠে আমাদের একাকিত্বের ভাষা।

আমার নাম আরিব।
শৈশব থেকেই আমি একটু আলাদা প্রকৃতির ছিলাম।
যেখানে বন্ধুরা খেলাধুলা করত, প্রেমের চিঠি লিখত, আড্ডা দিত—আমি তখন বইয়ের পাতায় ডুবে থাকতাম।
গল্প, উপন্যাস, আত্মজীবনী—যা হাতে পেয়েছি তাই পড়েছি।
বই আমাকে শিখিয়েছে মানুষ কীভাবে হারায়, কীভাবে ভালোবাসে, আবার কীভাবে ধীরে ধীরে নিজেকে ভেঙে ফেলে।

কিন্তু এক জিনিস আমি খুব তাড়াতাড়ি বুঝে গিয়েছিলাম—
ভালোবাসা নামের শব্দটার মধ্যে লুকিয়ে আছে অজস্র কান্না।
তাই কৈশোরেই নিজেকে এক প্রতিজ্ঞা করেছিলাম,
“আমি কোনো প্রেমে জড়াবো না, কোনো সম্পর্কে নয়।”
ভাবতাম, ভালোবাসাহীন জীবন মানেই নিরাপদ জীবন।

---

১. সেই আগুনের চোখ

সিএ কোর্সে ভর্তি হওয়ার পর জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো।
পড়াশোনা, ক্লাস, হিসাবের খাতা, সময়ের টানাপোড়েন—সবকিছুই ছিল নিয়মমাফিক।
হঠাৎ একদিন পরিচয় হলো তাসনিম নামের এক মেয়ের সাথে।
প্রথম দেখা থেকেই তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত আলো—নরম অথচ তীক্ষ্ণ, যেন আগুনের ভিতর মায়া মিশে আছে।

আমি তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলাম, কিন্তু তাসনিমের সেই দৃষ্টি আমার মনকে অচেনা এক ঘূর্ণিতে টেনে নিল।
প্রথমে সাধারণ কথা, তারপর বন্ধুত্ব, তারপর অজান্তেই এক অদ্ভুত টান।
আমি বুঝতে পারছিলাম না—আমি ভালোবাসছি, না কি কোনো অদৃশ্য ফাঁদে আটকে যাচ্ছি।

সে আমার প্রতি অদ্ভুত রকমের আগ্রহ দেখাতো।
আমি বারবার দূরে সরে গেছি, কড়া কথা বলেছি, এমনকি অপমান করেছি—তবু সে থামেনি।
তার হাসি, তার আচরণ, তার চাওয়া—সবকিছুতেই ছিল অদ্ভুত এক আকর্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ছায়া।

শেষ পর্যন্ত আমি হেরে গেলাম।
একদিন নিঃশব্দে, না চাইলেও, তার ফাঁদে জড়িয়ে গেলাম আমি।

---

২. প্রেমের দাম

প্রথম কয়েক মাস ছিল মিষ্টি।
ভালোবাসা যেন সমস্ত যন্ত্রণার ওষুধ।
তাসনিমের কণ্ঠ, তার চোখ, তার উপস্থিতি—সবকিছুতেই ছিল মায়ার ছোঁয়া।
আমি বিশ্বাস করেছিলাম, এ-ই হয়তো আমার জীবনের স্থায়ী আশ্রয়।

কিন্তু ধীরে ধীরে সবকিছু বদলে গেল।
—তার ভালোবাসা যেন হিসেবি এক বিনিয়োগে পরিণত হলো।
আমি অবাক হয়ে দেখলাম, সম্পর্কটা যেন অদৃশ্যভাবে পরিণত হয়েছে একপাক্ষিক দাবিতে।

একদিন হঠাৎ জানতে পারলাম—তাসনিম আগে বিবাহিত ছিল।
ডিভোর্স হয়ে গেছে।
সেদিন আমার মন একবার থমকে গিয়েছিল, তারপর নিজেকে শান্ত করেছিলাম এই ভেবে—
“যে মানুষ হারানোর কষ্ট জানে, সে তো আর কাউকে কষ্ট দেবে না।”

কিন্তু আমি ভয়াবহ ভুল করেছিলাম।

---

৩. প্রতারণার ছুরি

কিছুদিন পরেই জানতে পারলাম—তাসনিম আবার বিয়ে করেছে,
একজন আমেরিকা প্রবাসী বিবাহিত পুরুষকে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—তাও আমার সাথে সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে।
একবারও বলেনি সে, একটিবারও চোখের সামনে এসে ক্ষমা চায়নি।
আমার জীবন যেন হঠাৎ এক ঝড়ের মধ্যে পড়ে গেল।

সেদিন রাতে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম—নিজেকে চিনতে পারছিলাম না।
ভালোবাসা নামের যে শব্দটার পবিত্রতায় আমি বিশ্বাস করতাম, সেটি যেন মাটিতে মিশে গেল।
আমার মনে হচ্ছিল, আমি বোকা ছিলাম, খুবই বোকা।

---

৪. ভালোবাসাহীন জীবনের শান্তি

তারপর থেকে আমি নিজেকে গুটিয়ে নিলাম।
বন্ধুদের সঙ্গে কথা কমিয়ে দিলাম, বাইরে যাওয়া বন্ধ করলাম।
মনের ভেতর এক নিস্তব্ধতা গড়ে উঠল—যেখানে আর ভালোবাসা নেই, কেবল ঠান্ডা হাওয়া আর ক্লান্ত সময়ের হাঁপ ধরা নিঃশ্বাস।

অনেকবার চেষ্টা করেছি নতুন করে শুরু করতে, নতুন কাউকে বিশ্বাস করতে।
কিন্তু প্রতিবারই দেখেছি মানুষ মুখে হাসে, মনে হিসেব রাখে।
যারা একসময় কষ্ট পেয়েছিল, তারাই আজ লোভে ভরা, স্বার্থে জড়ানো।
তাদের ভালোবাসা মানে সুযোগ, তাদের বন্ধুত্ব মানে বিনিময়।

আমি তখন বুঝলাম—
ভালোবাসা কখনো মরে না, কিন্তু মানুষ তাকে বিক্রি করে দেয় টাকার বিনিময়ে।

---

৫. শেষ উপলব্ধি

এক ভোরে জানালার পাশে বসে কফি খাচ্ছিলাম।
বাতাসে নরম আলো, পাখির ডাক, নীরব শহর।
হঠাৎ মনে হলো, তাসনিম আমাকে যতটা ধ্বংস করেনি,
তার থেকেও বেশি তৈরি করেছে—একটা নতুন আমি।

আমি এখন আর ভালোবাসতে ভয় পাই না,
কারণ আমি জানি—আমি চাইলে ভালোবাসা ছাড়াও বাঁচতে পারি।

ভালোবাসাহীন জীবনেও শান্তি আছে, যদি তাতে প্রতারণা না থাকে।
যে নিঃসঙ্গতা নিজের, সেটাই আসলে সবচেয়ে নির্মল আশ্রয়।

আমি এখন নিজেকে বলি—

> “তাসনিম, তুমি আমাকে ভাঙোনি।
তুমি শুধু আমার সরলতা কেড়ে নিয়েছো।
এখন আমি একা, কিন্তু আমি মুক্ত।”
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৩৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০১

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

'র'-এর গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎপরবর্তী পরিচালিত কয়েক ধরনের স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিবরণ দেয়া প্রয়োজন । ১৯৬৮ সালে 'র' গঠিত হয়েছিল মূলত বৈদেশিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×