বিক্ষিপ্ত প্রান্তর
২৮.০৫.১০
প্রিয়তমা কবিতা আমার
মধুর বসন্তে যে ফুল ফুটিলনা প্রখর গ্রীষ্মে কেমনে করি তার কামনা। প্রিয়মুখ দর্শন অতি সচরাচার হয় যদি তবে তার মাহাত্ম্য আর কি থাকে! যে মুখখানি ‘হেরেছি স্বপ্নলোকে’ তা কেমনে হারাবে কায়ার আড়ালে। ভূমিতে অবনত চোখ আজ তবু দৃষ্টি তোমাপানে। ফিরে যাচ্ছি আবারো সেই পথ ধরে যে নিষ্ঠুর কালো রাস্তা পেরিয়ে এসেছিলাম তোমার বাতাসের সীমানায়। সাথে চুরি করে নিয়ে গেলাম অধরা একবুক প্রশান্তি। যার ছায়ায় কান্ত দু’চোখ শান্তিতে ঘুমাবে ক্ষণিক তরে। ঘুম ভেঙে উঠে জানাবো আরো কথা। ততক্ষণে গুছিয়ে নাও তোমার এলোচুল।
এই যে আবার জেগে উঠলাম তোমার প্রবল টানে। প্রসারিত সময়ের ডানায় ভর করে দুর্দিন এখন কবি ও কবিতার গন্ডি পেরিয়ে এগিয়ে গেছে অনেক দূর। ছায়া ফেলছে বেঁচে থাকার সকল অনুসঙ্গের উপর। কোন মতেই আমরা পাল্লা দিয়ে চলতে পারছিনা তার সাথে। একই আকাশে সুখের বাতাসে কোলাকুলি করে উড়তে গিয়ে তোমার আমার ডানায় হয়েছে সংঘর্ষ। নিজেরাই বারবার ভেঙ্গেছি নিজেদের ডানা। তাই পথ যেন আর ফুরাতে চাইছে না। আফসোস কোন নেই তবুও। পথকেই আজকে ভেবে নেব নীড়।
সম্পদের উপর ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই জন্ম নিয়েছে মানুষের সাথে মানুষের লড়াইয়ের প্রশ্ন। লড়াইয়ের উদ্দেশ্য আর ধরণ নিয়ে অমিমাংসিত অনেক জিজ্ঞাসা রয়ে গেছে আজো। যে জিজ্ঞাসার জবাব পেতে মানুষ ছুটছে নিরন্তর। ছুটতে ছুটতে বাড়ছে জীবনের কান্তি। তবে সভ্যতার ঊষালোকের ক্লান্তি আর আজকের ক্লান্তির রয়েছে রকমফের। যেমন রকমফের শ্রমঘন উৎপাদন আর প্রযুক্তিঘন উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে। কেন যে আমাদের বসন্তগুলো গ্রীষ্মের চেয়ে প্রখর হয় সে প্রশ্নের উত্তরও মেলে এই উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে। এক পক্ষের মানুষের প্রাণপণ চেষ্টা দুঃখ আর যন্ত্রণার ভার কিছুটা ঘাড়ের উপর থেকে নামানোর জন্য। বিপরীতে আরেক পক্ষ বাড়িয়ে চলেছে সুখের স্তুপ। কখন যে তা পাষাণস্তুপে রূপ নিয়েছে তা ভাববার সময় হয়নি সুখের অতিশায্যে। আনন্দের অট্টহাসিতে চাপা পড়ে থাকছে কান্নার কলরোল। আর এমনটি না হওয়ার তো কারণও দেখিনা। জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট মানুষের ক্ষোভ যাতে বিক্ষোভে পরিণত না হয় তার জন্যতো নিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন খ্যাতিমান আর্থ-সামাজিক গবেষকরা। ক্ষুব্ধ মানুষকে বশ করে বিক্ষোভ রুখতে এই গবেষকরাই আবিস্কার করছেন ম্যাজিকের মত ওষুধ। ওষুধটা ক্ষুধার্ত কাকের সামনে উচ্ছিষ্ট ছড়ানোর মত। কোনমতেই লুণ্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দেয়া নয় বরং তার উপর মালিকানার দাবি আরো শক্ত করার জন্য থোক বরাদ্দের নামে মানুষ ঠেকিয়ে রাখার এই কৌশল। আজন্ম বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ের ঐক্যকে যারা স্থায়ীভাবে বাধাগ্রস্ত করতে অর্থশাস্ত্রে জটিল মারপ্যাচের সৃষ্টি করে চলেছেন তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে নোবেল পুরস্কার পর্যন্ত জয় করছেন। তুমি-আমি কিন্তু এই জয় পরাজয়ের শক্ত খেলার বাইরে নই।
আমাদের স্বপ্নের ফুল কুঁড়িতেই বিনাশের জন্য দুধ-ভাতে পালিত হচ্ছে গবেষক দল। অথচ সুপেয় পানির অভাবে ছটফট করে মরতে বসা শিশু সন্তানটিকে রক্ষার ক্ষমতাও আমরা অর্জন করতে পারলাম না। অবুঝের মত ভালবাসাবাসিতে এখন আর লাভ কি বল! বরং করণীয় হলো বিভাজনের চরিত্র বুঝা। চিনে নিতে হবে তাদের যারা আমাদের রাখতে চায় ‘বিচ্ছিন্ন করে, বিরূপ করে’। শ্রেণী বিভক্ত সমাজে তোমার আমার বাগানে বসন্তের ফুল ফোটে না। যখন কলে মজুর আর ক্ষেতে কিষানের ঐক্য পুঁজির ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় কি নিদারুন ব্যাথা তখন গোটা শ্রমিক শ্রেণীর দুয়ারে আঘাত হানে তা কি একবার ভেবে দেখেছ? তোমার আমার মিলন ব্যর্থতার ব্যথা ছাপিয়ে তাদের সে ব্যথা অনেক দূরগামী হয়। দূরগামী সে ব্যাথার সাথে সামর্থ্যরে বাইরে চলে যায় আমাদের মিলনাকাঙ্খা। না পাওয়ার ক্ষত জীর্ণতায় ঢেকে দিওনা বন্ধু। বরং জেগে থাকো তীব্র ব্যথায়। জীবনের জয়গান যে পথে যাবে এগিয়ে সেখানে মিলন ঘটবে আজন্মতরে বেদনার প্রগাঢ় টানে। সেদিন তোমার শক্ত করে বাধা বেনী এলাবো নিজ হাতে সুখের হাওয়ায়। জীবনের মন্বন্তর কখনোই আমাদের ছিন্নভিন্ন করার স্পর্ধা দেখাতে পারবে না; যদি না ঘটে মনের মনান্তর। ব্যকুল প্রত্যাশায় চেয়ে রইলাম সেই দিনের দিকে। যেখানে তুমুল কেলীর আবেদন তুলবে তোমার দুষ্টু দুষ্টু মিষ্টি চাহনি।
ইতি
কবিমনি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


