somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন খারাপের আষাঢ়

২৮ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনাকাশের সিঁড়ি
১৪ আষাঢ় ১৪১৭

কবিতা আমার,
অঝোরে ঝরছে আকাশ। আষাঢ় এসেছে চৌদ্দ দিন আগে কিন্তু আষাঢ়স্য দিন বুঝি এল মাত্র গতকাল। মৃত্তিকা মেতেছে তুমুল কেলীতে। বৃষ্টির সাথে সঙ্গম সুখে গা এলিয়ে দিয়ে অলস আর আদর আদর চোখে মাটি চেয়ে আছে নরম তুলতুলে ঊর্বশীর মতো। নববর্ষায় পৃথিবী আজ অনেক খুশি। ঠিক যেন নববধূর মত সুখী। তবু কি স্বার্থক হয়নি আকাশের কান্না! এখনো সে রয়ে রয়ে কাঁদছে কোন না পাওয়ার ব্যথায়? আমি কিন্তু বুঝেছি তার সে ব্যথা। এ ঠিক সেই ব্যথা- সব কিছু থাকা সত্ত্বেও যে ব্যথা আজো তোমার ভেতর বোবা কান্নার ঢেউ তোলে। কি যেন হারিয়েছি, কি যেন নেই- এর মত না যায় বুঝা আবার না যায় ভোলা। অসহনীয় সে জ্বালা প্রখর পোড়ায় গোপনে। শত কোটি বস্তুগত প্রেম হারানোর চেয়ে অধিক এই অনিদৃষ্ট না পাওয়ার যন্ত্রণা। আবার বৃষ্টির মধ্যে শন্ শন্ করে বয়ে যাওয়া হাওয়া এ খবরও আমাকে জানিয়ে যায় যে, ‘অবুঝের মত করে বুঝেছ সব কিছু।’ তাই মোহমুক্তি ঘটেনা। তবু বলি, থাক না এ মোহ আমার নীরবে আর গোপনে। সব সুখ যখন না বুঝে ‘দিয়েছি জলাঞ্জলি’ তখন অবুঝের মত চিঠি লেখার সুখ থেকে কেনই বা বঞ্চিত করবো নিজেকে। এ লেখা আমার পদ্য বা গদ্য কোনটাই যে হয়না তা খুব ভাল করেই জানি। তারপরও লিখি। কেন লিখি জান? ওই যে- আকাশ আর পৃথিবীর মাঝখানে যতখানি ফাঁকি তা ঘুচবার নয়। যদি ণিকতরে মিলন ঘটে হাহাকারের বৃষ্টিতে- এই শুধু প্রত্যাশা। আকাশের বিছানায় শয্যা পাতার সামর্থ্য নেই মৃত্তিকার, আবার মৃত্তিকার বিছানায় নেই আকাশের অধিকার। কারো বিছানায় কেউ শয্যা পেতে সুখী হতে পারেনা কস্মিন কালেও। তাই শয্যা পাতা হৃদয়ের বিছানায়। মন মৃত্তিকা আমার, শুয়ে থাকো পাশাপাশি এখানে। বিচ্ছেদের ভয় নেই। কোন পাতায় কোন হাওয়া দোলা দেয় আর কোন ফাঁকে কোন আলো লুকোচুরি খেলে যায় তা ভাববার আর অনুভূতির রঙে রাঙিয়ে নেয়ার উত্তম শয্যা এটি। এখানে সুখ চিরকালের।
আজ লিখতে বসে তোমার সেই কথাটি অনেক বেশি মনে পড়ছে। হয়তো তা আজ আর তোমার মনে নেই। আমাকে একটি শূণ্যস্থান পূরণ করতে দিয়েছিলে। অনেক ছোট বেলায় স্কুলে পড়ার সময় শিকরা শূণ্যস্থান পূরণ করতে দিতেন। পরীায় ও আসতো। সেই ছেলেবেলায় ঝটপট শূণ্যস্থান পূরণ করতে পারার গৌরবে নিজেকে কত নিপুন ছাত্রই না ভাবতাম। কিন্তু আজকের মতো সেদিন বুঝতাম না কোন শূণ্যস্থানই নিছক শূণ্যস্থান নয়। এটাও বুঝতামনা যে সব শূণ্যস্থান পূরণযোগ্য নয়। যাই হোক তুমি লিখেছিলে, ‘আকাশ আর পৃথিবীর মাঝে যেটুকু ফাঁকি..................... ! বাকীটা তুমি সম্পূর্ণ করে দিও’। এই শূণ্যস্থানে যে কথাগুলো যথাযথ হবে তা আজো আমি লিখতে পেরেছি কি না জানিনা। হয়তো পারিনি। আর থাক না একটু শূণ্যতা। ওটুকু না থাকলে পূর্ণতার সুখ বুঝবো কি দিয়ে?
বিবর্তনশীল কবিতাকে দেখেছি নানা রূপে। কখনো সে দেখা দিয়েছে কান্ত চেহারায়। কিন্তু মেঘের বিবর্তন কেন আমার চোখে ধরা পড়ে না। ও কি কখনো এতটুকু সভ্য হবে না? আদিম বৃত্তি থেকে কেন সে বের হয় না বুঝি না। একই নিয়মে চিরকাল ঝরতে হবে কেন? ও যখন মুখ গোমরা করে গুমোট ভাব ধরে থাকে তখন যে কারো অন্তর জ্বলে যায়, আর যখন নীর হয়ে ঝরে তখন যে আমার ভেতরে মরি আমি হাজারবার এ কথা কেন সে বুঝতে চায় না। কি জানি! হয়তো ও বুঝেই করে সব আর আমি বুঝি অবুঝের মত।
সেই কবে থেকে আমি কবিতার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। তারপরও ওই চোখ একটুও একঘেয়ে মনে হয় না। অন্ধকার রাতে আমার জন্মস্থানের বাগানঘেরা আঁলপথগুলো যেমন স্বাচ্ছন্দে চিনতে পারি ঠিক তেমন পরিচিত হয়ে উঠেছে কবিতার কপাল, চোখের পাতা, নাক, মুখ, চিবুক, হাত, পা, নখ। সব পথ ঘুরে যখন এসে দাড়াই তোমার চোখের কিনারে তখন পথ যেন কোথায় মিলিয়ে যায়। দিগন্তের শেষ রেখাটির মত হারিয়ে যায় অস্পষ্ট হয়ে। কখনো দেখি নূহের প্লাবন কখনো বা খা খা মরু। এই দেখি শরতের শুভ্র আকাশ আবার দেখি শ্রাবণ মেঘের ছায়া। যা দেখি তা কি সত্যি? না কি আমার চোখের ঘোর! হবে হয়তো কিছু একটা। আমার কি দোষ বল- কোন মানুষই তো একই জিনিসের দুই পিঠ এক সাথে দেখতে পায় না। তবু বলি স্বচ্ছতায় ভরা দৃষ্টি হোক তোমার। আনত বরষায় ‘মায়ার কুজ্ঝটি জাল’ ধুয়ে দিক মৃত্তিকার বুক থেকে। মেঘের ছায়া সরিয়ে নতুন আলোর মত ঠিকরে পড়–ক কবিতার ছটা। কেটে যাক মন খারাপের আষাঢ়। ভাল থেকো কবিতা আমার।
ইতি
কবিমনি
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×