ইকবাল হোসেন মজনু : সেনবাহিনীর প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অবদান ও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন আমি চাই, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জায়গায় যেন উন্নতি হয় এবং সকলে মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই বাংলাদেশ কে একদিন সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। জেনারেল মইন উ আহমেদ শুক্রবার (২০ জুলাই) বিকালে তার নিজ জেলা নোয়াখালীর নবগঠিত সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউপির বাগপাঁচড়া গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে এ কথা বলেন।
জেনারেল মইন উ আহমেদ বলেন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্নদান করেছেন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুন্দর, বাংলাদেশ গড়ার জন্য, সোনার বাংলা গড়ার জন্য। বীরমুক্তিযোদ্ধা যারা প্রান দিয়েছেন তাদের কারনেই আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এখন আমাদেরকে পূনার্ঙ্গ স্বাধীনতা রক্ষা ও তৈরী করার জন্য সকলকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আজকের এই পরিকল্পিত স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নিশ্চয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যাপক প্রসার ঘটাবে।
তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী। আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে। এই আলোকে ৯ম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিধৃত হবে। আমাদের যে সকল জাতীয় নেতা রয়েছে তাদেরকে ইতিহাসে যথাযথ স্থান দেয়া হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঠিক স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে অধিষ্ঠিত করা হবে। ঢাকায় গত ২৭ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ১৯৩৪ সালে বীর শ্রেষ্ঠ রহুল আমিন বাগপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেছিলেন। ৫৩ সালে তদান্তিন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সামিল হন। দেশ স্বাধীনের কয়েকদিন পূর্বে ৭১ এর ১০ ডিসেম্বর দেশ মাতৃকার জন্য তিনি শহীদ হয়েছিলেন। তিনি বলেন বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিনের জন্ম স্থান তারও বাসস্থান হওয়ায় গর্ববোধ করেন।
তার আত্নদানকে জাতি স্মরণ রাখতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃরহুল আমিনের স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ সম্পন্ন করার আহবান জানান সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
মুক্তিযোদ্ধাদের দাবীর প্রেক্ষিতে সেনাপ্রধান প্রতি জেলায় নিয়োজিত সেনাইউনিটের চিকিৎসক দল অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় সহায়তা দিবে বলে জানান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিবেন। বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিনের কন্যা নুরজাহান বেগমের দাবীর প্রেক্ষিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরনের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং এ এলাকার সব কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদানে প্রতিশ্রুতি দেন।
বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে স্থানীয় অক্সফোর্ড মডেল একাডেমী প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক হাবিবুল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব সফররাজ হোসেন,নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোজাম্মেল হোসেন মিলন, বীরশ্রেষ্ঠের কন্যা নুর জাহান বেগম। অনুষ্ঠানে পরিচালনা করেন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান ও সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন সোনাইমুড়ী অন্ধ কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। এসময় অনুষ্ঠান স্থলে আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টের জি ও সি মেজর জেনারেল আব্দুল হাফিজ পিএসসি, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান,ট্রাষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল উ আহমেদ, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের সদস্য মিয়া মুশতাক আহম্মেদ, পুলিশ সুপার মুশফেকুর রহমান।
এর আগে বিকাল সাড়ে ৪ টায় সেনাপ্রধান সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউপির বাগপাঁচড়া গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিনের পরিবারের দেয়া ২০ শতক ভুমির উপর রহুল আমিন স্মৃতি জাদঘুর ও গ্রান্থাগারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপন শেষে বীরশ্রেষ্ঠর বাড়ি পরিদর্শন করেন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জেলার এ কৃতি সন্তান বাগপাঁচড়া গ্রামে পৌছলে তাকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক ও বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যরা।
মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে- সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
নিউইয়র্কের ডায়েরী ২: এভাবেই জীবন কেটে যাচ্ছে জীবনের নিয়মে

লং আইল্যান্ডের একটি রাসবেরি ফার্মে গত সপ্তাহে
এক লোক একটা মাছি মারার জন্য পেপার গোল করে তাড়া করছে। মাছিটি উড়ে গিয়ে দেয়ালে বসল। লোকটা যেই মারতে যাবে, মাছিটি হাতজোড় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছোট গল্পঃ ভ্রম

চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড় আমি ভালোবাসি
পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................

চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।
পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।
ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।