somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেক দিন ব্লগে লেখা হয় না ---

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফটো : Marsh land, মলানার্দো মুইনাঞ্চি, ২০১৮

অনেক দিন ব্লগে লেখা হয় না । হ্যা সত্যি, আমার লেখাজোখার প্রিয় প্ল্যাটফর্ম সামুতে লেখাজোখা করা হচ্ছে না । জানি না কেন, কিন্তু সামুতে আমার লেখাজোখা করা হচ্ছে না সেটাই সত্যি ।

স্কুলের দেয়াল পত্রিকায় জায়গা পাওয়া একটা কবিতা দিয়ে আমার লেখাজোখা শুরু। লেখাজোখার শুরুটা মনে করতে পারলেও শুরুর কারণটা জানি না। যাহোক, সে থেকেই লেখালেখির নিঝুম ভালোলাগার আকাশ গঙ্গায় কাঁচা হাতের লেখায় বানানো আমার লেখাজোখার 'নটিলাসের' উদাসী যাত্রা। আমাদের স্কুল বেলায় নবীন লেখক (স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েদের) সবারই পছন্দের লেখার প্লাটফর্ম ছিল সাপ্তাহিক 'কিশোর বাংলা', 'মাসিক শিশু','নবারুণ'। জাতীয় পর্যায়ের এই পত্রিকা/ ম্যাগাজিনগুলোতে খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিকরাও লিখতেন।ক্লাস ফাইভে ‘কিশোর বাংলা’য় আমার প্রথম লেখাটা ছাপা হয়েছিলো। তারপর থেকে কলেজ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাবার আগে পর্যন্ত কিশোর বাংলায় আমি নিয়মিত লিখেছি।তখন মাসিক শিশুতেও আমার কয়েকটা লেখা ছাপা হয়েছিলো। শিশু সাহিত্য চর্চার একটা সুখস্মৃতি বলি:কামিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে তখন একটা দৈনিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হতো (নামটা ভুলে গেলাম, গণশক্তি বা জনশক্তি হতে পারে নামটা)।ক্লাস নাইন বা টেনে পড়ি।পত্রিকা সম্পাদক খ্যাতিমান সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তোয়াহা আমার একটা কবিতাও ছেপে দিলেন বুর্জোয়া, প্রলেতারিয়েত, শ্রেণী দ্বন্দ্ব,শ্রেণী বৈষম্য, শ্রেণী শত্রু বিপ্লব ইত্যাদি আলোচনার গর্ভাশয়সম সেই সিরিয়াস পেপারে! কবিতাটার নাম ছিল ‘ম্যাচ’! বড়দের গম্ভীর রাজনীতির কোনো পেপারে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা সে কবিতাটা দেখে স্কুল পড়ুয়া আমার নোবেল পুরস্কার পাবার কাছাকাছি খুশিটা লিখে ঠিক বোঝানো যাবে না। লেখাজোখার আরেকটা অবিনশ্বর সুখস্মৃতির গল্প বলি । ঢাকা কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি । একুশের একটা লিটল ম্যাগাজিনে আমার লেখা একটা ফিচার পড়ে খুব প্রশংসা করলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক,ইত্তেফাকের সে সময়কার সহসম্পাদক আখতারুল আলম (যার লেখা উপসম্পাদকীয়গুলো স্কুল দিন থেকেই মুগ্ধতার সাথে পড়তাম।বিশেষ করে ইত্তেফাকে প্রকাশিত তার অনুবাদ থেকেই মরিস বুকাইলির 'বাইবেল কুরআন এন্ড স্যা সাইন্স' বইটা আমি প্রথম পড়েছিলাম) বললেন, আমার একটাই প্রফেশনে যাওয়া উচিত আর সেটা হলো সাংবাদিকতা! সে প্রশংসাটুকু ছিল লেখাজোখায় পাওয়া আমার প্রথম পুলিৎজার!দীর্ঘ বিরতির পর সেবা প্রকাশনী আবার 'রহস্য পত্রিকা’ বের করছে তখন।'রহস্য পত্রিকা'তে তখন আমার একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। সে লেখার ৭৫টাকা লেখাজোখা থেকে আমার প্রথম সম্মানী।স্মৃতির সে গন্ধরাজগুলোর সুঘ্রান কি এখনো, এতদিন পরেও ভোলা যায় ! ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় দেশপ্রিয় সাপ্তাহিক নিপুন-এ কাজ করেছি খ্যাতিমান নাট্যকার,চলচিত্র পরিচালক জীবন চৌধুরীর সম্পাদকীয়ের দিনগুলোতে। এডিটোরিয়াল ডিপার্টমেন্টের কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিপুণে তখন কিছু ফিচারও লিখতে হয়েছিল। স্বল্পায়ু ইউনিভার্সিটির 'ক্যাম্পাস' পত্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি।

মাস্টার্স পরীক্ষার রেজাল্টের আগেই আমি বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটিতে (BEPZA) এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন করি। রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে আমার শিক্ষকতার শুরু তার ছয় মাস পর। BEPZA -তে চাকুরী করতে করতেই খুব একটা প্রিপারেশন ছাড়াই বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়েছিলাম লাখ দেড়েক বা দু'য়েক পরীক্ষার্থীর একজন হয়ে। যতদূর মনে হয় প্রিলিমিনারিতে ১০০ নাম্বারের মধ্যে আমি পেয়েছিলাম ৯৪ বা ৯৫ আর প্রিলিমিনারিতে আমার পজিশন ছিল দ্বিতীয়। যাহোক, প্রিলিমিনারির অল্প পরেই রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করার জন্য বিসিএসের মূল পরীক্ষাটা আর দেয়া হয়নি । দেশের কোনো একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করবো সেটা আমার সব সময়েরই ইচ্ছে ছিল । আমার আব্বা আর আম্মাও সেটাই চাইতেন। রাজশাহী ইউনিভারসিটির চার বছরের শিক্ষকতা জীবনে ইংরেজি বাংলা মিলে প্রকাশিত একাডেমিক জার্নালের ছয়টা রিসার্চ আর্টিকেল, ইউজিসির ৫০,০০০ টাকা অনুদানে একটি গবেষণা (সে সময় এটাই ছিল ইউজিসি-র সর্বোচ্চ একক গবেষণা অনুদান) ছিল আমার লেখাজোখার সম্বল। রাজশাহী ইউনিভার্সিটি শিক্ষকতার চার বছরে নানা কারণে একাডেমিক কাজের বাইরে কবিতা গল্প বা শখের লেখাজোখা করা হয়নি। তারপর থেকেই দেশ ছাড়া । অনলাইনে আমার লেখার শুরু দেশের বাইরে থেকে সামু শুরু হবারও ছয় বছর আগে মানে ১৯৯৯ সাল থেকে । অবশ্য ব্লগ নয়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে দেশের অনলাইন কিছু পেপারের সীমিত পরিসরে পোস্টে কমেন্ট রিকমেন্ট করার মধ্যেই সে লেখা সীমাবদ্ধ ছিল। সেটাও অবশ্য ইংরেজিতে ! সে লেখাজোখাটুকুও পুরো বন্ধ হয়ে গেলো এক সময় একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে পিএইচডি প্রোগ্রামের এডমিশনের পর ।গল্প কবিতা নয় সেই পুরো সময়ে লেখা বলতে আমেরিকান জার্নালে চারটে সলো রিসার্চ আর্টিকল, দু'টো ইন্টারন্যাশনাল সেমিনারে প্রেজেন্ট করা নিজের রিসার্চ পেপার। ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি -দের সাথে জয়েন্টলি করা কিছু রিসার্চ পাবলিকেশনস। নিজের লেখা/গবেষণা নিয়ে এতো কথা বলার কারণ হলো স্কুল বেলা থেকে লেখাজোখা যে আমার খুব পছন্দের বিষয়, জীবনের বাঁকে বাঁকে নানা কারণে লেখাজোখার ধারা বদলে গেলেও সেই পরিবর্তিত ধারাতেও লেখাজোখার চর্চা ধরে রাখার চেষ্টার কথাগুলো সবার সাথে শেয়ার করা।

লেখাজোখার, মানে গল্প কবিতা লেখার দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৩ সালে আমি সামুতে প্রথম একাউন্ট করি। দেশে তখন অস্থির সময় । একাউন্ট করলেও সে সময় খুব লেখা হয়নি। সে সময় আমি বাংলা খুব ভালো টাইপও করতে পারতাম না। তাছাড়া, সেই সময়টায় সামুতে খুবই নোংরা ভাষায় ইসলাম বিদ্বেষী লেখাগুলোই লেখার ইচ্ছেটা কমিয়ে দিয়েছিলো I সমালোচনা তা সেটা ব্যক্তি, জাতি, দেশ,ধর্ম বা ধর্মীয় যে কোনো ইস্যুতেই হোক না কেন সেটার মাঝে শালীনতাটা থাকাটা খুবই দরকার। সমালোচনা করতে গিয়ে শালীনতাটাও হারিয়ে গেলে লেখা খুবই বিরক্তিকর হয়ে যায়। আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের যে কোনো ইসলাম বিদ্বেষী লেখক/লেখিকার লেখার মতোই সামুতে ইসলাম বিরোধী সব ব্লগারের লেখাই খুব ভালগার। পশ্চিমের ধর্ম বিরোধী লেখকদের, যেমন ডক্টর ডকিন্স, ক্যালটেক প্রফেসর শন ক্যারলের ধর্ম বিরোধী লেখার মতো থটফুল, বিষয়বস্তুর দিক থেকে বৈচিত্রময় লেখা আমাদের ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগারদের কখনোই ছিল না । ইসলামের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে প্রায় হাজার বছর আগে সে সময়ের ‘শামের’ (লেভেন্ট) খ্রিস্টান প্রিচাররা ইসলাম বা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সম্পর্কে যে ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো করতো সামুর ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগাররাও সেই বিষয়গুলোকেই পুঁজি করে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন নিরন্তর যদিও এর মধ্যে হাজার বছর পেরিয়ে গেছে এমনকি পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টান স্কলাররাও যেসব অভিযোগকে নস্যাৎ করেছেন ভিত্তিহীন বলে। লেখার কন্টেক্স এবং কন্টেন্ট দু’দিক থেকেই ভাবলে এদের সবার ব্যাকগ্রাউন্ড যে খুব ভালো বা এরা খুব মেধাবী তাও আমার মনে হয়নি কখনো । একজন মেধাবী মানুষের লেখা কখনো ভালগার হয় না। যাহোক, এই সব ব্লগারদের হাতে পায়ে দড়ি দেবার সাংবিধানিক কোনো ক্ষমতা ব্লগে আমাকে দেয়া হয়নি তাই এই নোংরামি থেকে দূরে থাকার জন্য ব্লগে লেখা বন্ধ করে রাখা ভালো মনে হয়েছিল। সামুতে ইংরেজিতে লেখা প্রথম পোস্টটাও আমি মুছে দিয়েছিলাম পোস্ট করার অল্প কয়েক দিন পরেই। তারপর চার বছর আমি অন্য ব্লগে লিখেছি। ২০১৭ সালে সামুতে আবার লেখালেখি করার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি সামুর একাউন্ট ডিজএবল। ব্লগ মালেকা জানা আর ব্লগের সে সময়কার সিইও জাদিদকে সমস্যাটা জানিয়েও সমাধান না হওয়ায় ২০১৭ সালে নতুন করে আমার বর্তমান একাউন্টটা করতে হলো। চার বছরের হেরফেরে এই ২০২৩ সালে ব্লগের প্রায় দশক পুরোনো কুলিন ব্লগার হবার পরিচয়টা আজ দেবার সুযোগ না থাকলেও দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে সামুতে লেখার আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি।

ফিচারধর্মী লেখাতে আমি সব সময়ই স্বচ্ছন্দ্য। সামুতে দ্বিতীয় পর্বে আমি ছয় বছর ফিচারধর্মী লেখাই বেশি লিখেছি । খুবই অল্প কবিতা ও গল্প আর তারচেয়েও কম ফটো ব্লগ আমার। ২০১৯ সালে সামুর ব্লগ দিবসের প্রকাশনা 'বাঁধ ভাঙার আওয়াজ'-এ আমার লেখা একটা গল্প "আকাশ গঙ্গার তারা' প্রকাশিত হয়েছিল। গল্প কখনোই আমার লেখার মূল বিষয় না তাই ওই গল্পটা ব্লগ দিবসের প্রকাশনাতে নির্বাচিত হওয়াতে ভালো লাগার পাশাপাশি চেষ্টা চরিত্র করলে গল্প লেখা যেতে পারে এমন একটা ধারণা হয়েছিল আর নিজের গল্প লেখাজোখার ব্যাপারে আস্থাও বেড়েছিল। সেই আস্থাটাই ২০২১ সালের বই মেলায় দেশের খ্যাতিমান প্রকাশনী চৈতন্য থেকে প্রকাশিত আমার বারোটি ছোট গল্পের সংকলন 'আকাশ গঙ্গার তারা' লেখার অনুপ্রেরণা। দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকেই সামুতে খুবই যত্নের সাথে আমার ফিচারধর্মী লেখাগুলো লিখেছিলাম। সব সময়ই আমার বিশ্বাস ছিল সমসাময়িক দেশীয়,আন্তর্জাতিক ঘটনার সাথে ইতিহাস ভিত্তিক কিছু স্বরণীয় কিন্তু সামুতে অপ্রকাশিত ঘটনার সাথে কোঅর্ডিনেট করে লেখা ফিচারগুলো ভিন্নধর্মী হবে। সামুর অনেক অসাধারণ ব্লগারের অনেক অসাধারণ লেখার মধ্যেও আমার ফিচারগুলো কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী হবে, সবার ভালোও লাগবে সেই আস্থা আমার সব সময়ই ছিল!সেই বিশ্বাসটাই এই ফিচারগুলো থেকে আটটা নির্বাচিত ফিচার আর ফিচারের বিষয় ভিত্তিক আটটি প্রগল্প (ফিচারের বিষয় ভিত্তিক গল্প) নিয়ে ২০২২ সালের বই মেলায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনী ‘জাগৃতি’ থেকে আমার বই 'অষ্টধা' বের করবার সাহস জুগিয়েছিল।নানা কারণে সামুতে আমার লেখাজোখার একটা মরাকটালের শুরু এই বছর থেকেই ।

২০২২ সালের মাঝামাঝি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া ব্লগটাকে প্রাণবন্ত করতে ব্লগে কিছু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো।ব্লগাররা খুব ভালো ভাবেই সারা দিলেন। এর মধ্যে ফিচার প্রতিযোগিতাটা খুবই ভালো হয়েছিল। যদিও ফিচার প্রতিযোগিতার জন্য ছিল না তবু একই সময়ে পোস্ট করা ব্লগ মডারেটর জাদিদের 'সোর্ন ভার্জিন'-নারী হিসাবে অধিকার রক্ষার কলংকজনক অধ্যায়’ ছিল অনেক দিনের মধ্যে লেখা ব্লগের সেরা ফিচার। ফিচার প্রতিযোগিতার সাথেই সারা দিয়ে ব্লগাররা কিছু নির্বাচিত ক্যাটাগরিতে তাদের পছন্দের ব্লগারদের নাম নির্বাচন করলেন আর সেই সাথে তাদের কেমন লেখা/মন্তব্য ভালো লাগে, কোন ব্লগারের লেখা ভালো লাগে,কেন ভালো লাগে সেটাও বললেন। পুরোনো ব্লগার যারা এখন কালেভদ্রে ব্লগে লেখেন তাদের নামও নির্বাচিত হলো পছন্দের তালিকায় যা সামু ব্লগারদের তীক্ষ্ণ পাঠক সত্তারই প্রকাশ। ব্লগারদের পছন্দের নামগুলো আর তাদের পছন্দের কারণ আমি আগ্রহ নিয়ে পড়লাম।খুবই নির্মোহ ভাবে করা ব্লগারদের এই আলোচনাতে ব্লগে কেমন লেখাজোখা ব্লগারদের পছন্দের সেটা নিয়েও একটা ধারণা পাওয়া গেলো।ব্লগে আমার শেষ লেখাটা পোস্ট করার পর তখন প্রায় ছয় মাস।ব্লগার নিয়াজ সুমন দেখি ফিচার ক্যাটাগরিতে অন্যদের সাথে আমার নামও উল্লেখ করেছেন তার পছন্দের ফিচার লেখক হিসেবে (আমার নাম পছন্দের ব্লগার হিসেবে উল্লেখ করে তার কোনো ব্লগীয় বা সামাজিক হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিনা সেটার আপডেট পাইনি দেখে এখনো আমি বিশেষ চিন্তিত)! ব্লগ প্রতিযোগিতার এই পছন্দের ব্যাপারটাই ব্লগে আর ব্লগার হিসেবে নিজের লেখাজোখা নিয়ে আত্মপর্যালোচনার একটা সুযোগ তৈরী করল।

লেখাজোখা আমার সব সময়ই খুব আনন্দের বিষয়। নিজে সব সময় আনন্দের সাথেই লিখাজোখা করি।আমার লেখায় অন্যরা যেন বিরক্ত না হয় তাও ভাবি।অন্যদের বিরক্ত করে নিজের লেখাতে আনন্দের পসার সাজানোর চেষ্টা করিনি কখনো।আমার সব সময়ের বিশ্বাস পাঠক বিরক্ত করা লেখাজোখা তার পথ হারায়।পাঠকইতো লেখা পড়বে। নিজের বিশ্বাসের ব্যাপারে দৃঢ় থেকেও আমি তাই পাঠকদের কথাও ভেবেছি নিজের ব্লগ লেখায় সব সময়।লেখার ব্যাপারে পাঠকের মতামত আমার কাছে খুবই ইম্পরট্যান্ট একটা বিষয়।ব্লগারদের পছন্দের নামগুলো একটা নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি করে দিলো ব্লগার হিসেবে নিজেকে নিজের সামনে।নিয়মিত অনিয়মিত,নতুন পুরোনো এতো ব্লগার ! ব্লগাররা এতো লেখা পছন্দের বলছে কিন্তু সেখানে আমার অনেক যত্নে লেখা ফিচারগুলো, হাজার খানেক পোস্টের মন্তব্যগুলো খ্যাত অখ্যাত কোনো ব্লগারেরই তেমন ভালো লাগে নি বলেই মনে হলো। লে মেন্স টার্মে এই মুল্যায়নকে বলতে হয় সামুতে আমার লেখাজোখার প্রজেক্ট ফ্লপ -বা আন প্রোডাক্টিভ । মানে আমার লেখা খুব বেশি পাঠককে আকৃষ্ট করতে পারে নি। অথবা এটাও হয়তো বলা যায় আমি যে ধরণের লেখা ব্লগে লিখেছি পাঠকের কাছে সেটা পছন্দের না বা আমি তাদের পছন্দের বিষয়ে লিখতে পারছি না। এছাড়াও আমার বইগুলো বের হবার পরে এমন আরো কিছু ঘটনাতেও আমার লেখাগুলো মনে হয় ব্লগারদের পছন্দের কাছাকাছি যেতে পারছে না এই ভাবনা মাথায় এসেছিলো। ব্লগারদের ফিডব্যাক নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। সিরিয়াসলিই ভেবেছি ।

ব্লগারদের নির্মোহ ফিডব্যাক থেকেই মনে হলো ব্লগ লেখার ব্যাপারটা রিইভালুয়েট করা দরকার। শুকনো নদীতে তো আর নাও বাওয়া যায় না বা বেসুরে বাঁশিতে তো কারো মন জয় করা যায় না বরং বিরক্তিই বাড়ে তাতে। লেখাজোখা আমার কাছে সব সময়ই খুব আনন্দের বিষয় হলেও এখন মনে হচ্ছে সামুতে ব্লগ লেখার মিসফিট পরিচয়টা আনফিট পরিচয়ে বদলে যাবার আগেই ব্লগ লেখায় সমাপ্তি টানা দরকার। পাঠকদের বিরক্তিতে লেখাজোখা তার পথ হারায় বলে শুরু থেকে যে একটা ছোট কিন্তু জরুরি আত্মদর্শন সাথে নিয়ে লেখাজোখার উদাসী পথে আমার পথ চলা-তাকে সন্মান করে ভাবছি 'তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না/কোলা-হল করি’ সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না' বলে ব্লগ লেখার নটে গাছটি মুড়ে দিলে ক্ষতি কি?

ফটো : আমার অ-আঁকাজোখা (ব্লগখ্যাত আঁকিয়েদের এর শিল্পকলাগত দিক নিয়ে গুরুগম্ভীর মন্তব্য না করাই শ্রেয়)
------------------
ফুটনোট: ব্লগ লেখার মরাকটালের শুরুর দিকে ২০২৩ সালে অনেকটা নিজস্ব তাগিদ থেকেই সবাইকে আমাদের লেখাজোখার প্রিয় প্লাটফর্মে না লেখার একটা কারণ হিসেবে লেখাটা লিখেছিলাম । নিজের জন্য লেখা বলেই হয়তো ব্লগে লেখাটা আর পোস্ট করা হয় নি । কিন্তু ক'দিন আগে ব্লগ মালেকা জানার লেখাটি মন খুবই খারাপ করে পড়লাম। জানা ফাইটার।আশাকরি পুরো সুস্থ্য হয়ে আবার ব্লগে অনেক লিখবে। কিন্তু সেই থেকে নিজের ব্যাপারে মনে হচ্ছে আবার যদি কখনো আর ব্লগে না লেখা হয়। হঠাৎ যদি সব থেমে যায় কোনো কিছু না জানিয়ে।তাই অনেক দিন আগে লেখা যা কখনো পোস্ট করিনি সেটা আজকের কোলাহলহীন দিনে সবার অগোচরে চুপিচুপি নিজের ব্লগ পাতায় পোস্ট করে দিলাম ।আরেকটা খুব ব্যক্তিগত কথা দিয়ে শেষ করি এই লেখার । আমার সামুর আমলনামায় খুব সম্ভবত তখনও প্রথম পাতায় লেখার স্বর্গপ্রাপ্তিসম কোনো আমল লেখা হয়নি। তখন আমি কমেন্ট করি বেছে বেছে পছন্দের লেখায় আর অল্পস্বল্প কবিতা (বা অ -কবিতা), লিমেরিক লিখি। একদিন অন্যদের দেখাদেখি একটা ফটো ব্লগ করলাম। আমার প্রবাস জীবনের ছোট ইউনিভার্সিটি শহর, তার পাহাড়,পাহাড়িয়া পথ, বেলা শেষের গোধূলি আকাশ এই রকম কিছু ফটো দিয়ে। আমাকে অবাক করে সেই পোস্টে মডারেটর জাদিদ কমেন্ট করলেন আমি আশা করি আপনার ব্লগিং থেকে সামুর ব্লগাররা অনেক ভালো ভালো লেখা পড়তে পারবে আর ব্লগও অনেক লাভবান হবে (কমা, কোটেশনে না বললেও কমেন্টটা এই ধরণেরই ছিল যতদূর মনে হয়)। সামুর লেখালেখি শুরুর সেই উষশী বেলায় জাদিদের এই কমেন্ট ছিল অনেক ভালোলাগার। সামুতে ব্লগিংয়ের চাওয়া পাওয়ার কোনো হিসেবে করিনি কখনো।তবুও ব্লগার হিসেবে জাদিদের আশাপূরণ করতে পারিনি বা করা যায়নি যেভাবেই বলি আজ ব্লগিংয়ের এই সাজ বেলায় জাদিদের কাছে একটা আপলোজি চাওয়া দরকার নিজের ব্যর্থতার জন্য আর তার আশটুকু পূরণ না করতে পাবার জন্য। এপোলোজি জাদিদ, অনেস্ট। ওব্রিগাডো এন্ড অডিউস ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল বিশ্ব এবং এর মাঝেই আমাদেরকে একটু আনন্দ নিশ্চিত করতে হবে

লিখেছেন শোভন শামস, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯








ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহ অতিক্রম করছে। যুদ্ধের তীব্রতা না কমে বরং পারস্পরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১২

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !




বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×