somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছায়াবিথী তলে........

২৮ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাছের উপকারিতার কথা পড়ে আসছি সেই ছোটবেলা থেকেই । ছোটবেলায় গ্রামে থেকেছি তাই মোটামুটিভাবে অনেক গাছই চিনি । আমাদের বাড়ির সামনের দিকে ছিল নারিকেল আর সুপারি গাছের সারি । বাড়ির উঠোনে কাঁঠাল, আম, জাম, কামরাঙা, বড়ই, পেয়ারা গাছ আর ছিল একটা সবজী বাগান । কি নেই সেই বাগানে ? কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে সব ধরনের শাক,আলু, শিম, ঢেঁড়শ, লাউ, কুমড়া সবই ছিল । সবজী বাগানের নিয়মিত তদারকি করতেন দাদু । আর এ কাজে মাঝেমধ্যে আমাদেরকে লাগিয়ে দিতেন । আমরা সব কাজিন মিলে হৈ হুল্লুড় করে তার বাগানের ভিতরে ঢুকে কাজে লেগে যেতাম । আর দাদু সমানে চিল্লাতেন যাতে কোন গাছ আমাদের পা চাপা পড়ে অক্কা না যায় । খুব মজা হতো মাটি খুঁড়ে আলু বের করতে । একটা ছোট প্লাস্টিকের বাটি ছিল । সে বাটি দিয়ে প্রত্যেকের আলু মাপা হত । প্রতি বাটি এক টাকা করে দেয়া হত । আমরাও তাই মহানন্দে আলু তুলতাম আর অন্যের তোলা আলু কি করে চুরি করে নিজের ভাগে আনা যায় সেই চিন্তায় মশগুল থাকতাম ।
দাদু কোত্থেকে যেন একটা ঘৃতকুমারী গাছ যোগার করেছিল । গাছটা বড় হওয়ার পর আমাদের উপর অত্যাচার (!! ) শুরু হল । প্রতিদিন সকালে খালিপেটে এর পিচ্ছিল শাঁস খেতে হত । একদিন সকালে উঠে দেখি কে যেনো গাছটা চুরি করে নিয়ে গেছে । আহ, সেদিন যা খুশি লাগছিল। মনে মনে সে চোরকে হাজার বার ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম ।


আমাদের বাড়ির পেছনে ছিল শিমুল,কদম, নিম, মেহগনি আর কলা গাছ । শিমুল গাছের নিচে বসে কত্তো পুতুল খেলেছি । আর কলাবাগানের ভেতরে তো নিজেদের সকল ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যা একত্রে করে বিরাট এক মহল বানিয়েছিলাম । আসলে সেটার সাইজ ছিল ছোট কিন্তু যখন বানিয়েছিলাম তখন কেন জানি বিরাট মনে হচ্ছিল ।

তখন চারটা সুপারির বিনিময়ে একটা আইসক্রিম পাওয়া যেত । তাই সকাল বেলা উঠার পর সবাই সুপারি কুড়াতে যেত । আমি সবার শেষে চোখ কচলাতে কচলাতে গাছ তলায় গিয়ে কিছুই পেতাম না । তাই সবাই যখন আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে আইসক্রিম কিনত তখন বাধ্য হয়েই আমাকে সবার অগোচরে গাছ থেকে সুপারি চুরি করে আনতে হত । আহা কি দিনগুলোই না ছিল.....

তো যাই হোক শহরে তো আর গাছ লাগানোর মত তেমন খালি জায়গা নেই তবুও বাড়ির সামনের একহাত জায়গাতেই চাপাচাপি করে লাগানো হয়েছিল নিম, আম, কাঠগোলাপ আরও কিছু ফুলগাছ । সন্ধ্যায় বারান্দায় বসলেই শীতল বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে যেত । তাই লোডশেডিং এর সময় সবাই ছোট বারান্দাতে এসে বসতাম । কিন্তু সেদিন কোন নোটিশ ছাড়াই সিটি কর্পেরেশনের লোক এসে বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলল (2টা নিম আর একটা আমগাছ ) । এতকরে মানা করা হল শুনলো না ।তাদের এককথা, রাস্তা বড় করার জন্য গাছ কাটতেই হবে । আমাদের বাড়িটা ছিল রাস্তার একদম শেষ মাথায় । গাছ 3টা না কাটলেও কোন সমস্যা ছিল না । শুধু আমাদের না আশেপাশের সব বাড়ির সামনে এখন কোন সবুজ নেই । বারান্দায় যেতে এখন আর ভালো লাগে না । এই সিটি কর্পোরেশন স্লোগান দেয় গাছ লাগানোর , আর এরাই যখন গাছ কেটে ফেলে তখন কেমন লাগে??
শাহানা আপুর "পৃথিবীর তাপমাত্রা" পোস্টটি পড়ে কষ্টটা জেগে উঠলো আর সেজন্যই এই লেখা ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুশদেশের চিরায়ত শিশুসাহিত্য

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৭


ঊনবিংশ শতাব্দীর মহান লেখক চেখভ , তুর্গেনেভ , দস্তয়েভ্‌স্কি , তলস্তয়ের নাম বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত। এই লেখকেরা - রাশিয়ার জাতীয় গৌরব । ঊনবিংশ শতাব্দীর রুশ লেখকদের মধ্যে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭

"নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন — নীরবতা হোক আপনার শক্তির সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র।"
সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার একার না। আপনি যদি বারবার বোঝান, কিন্তু কেউ বুঝতে না চায় — তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×