একদিন নিউ মার্কেটে একটা ভিক্ষুক আমার কাছে ভিক্ষা চাইতে আমি তাকে দুই টাকার একটা নোট দিলাম। ফিরে আসতেই হঠাত করে মনে হল ভিক্ষুকটার চেহারা চেনা-চেনা লাগছে। পিছন ফিরে তাকিয়া ভয়ানক অবাক হয়ে চেয়ে থাকলাম।
আমার গ্রামের এক মামা (তাকে মামা বলে ডাকতাম), খুব সুদরসন, বিএ পাস, বেকার, প্রেম করত ওই গ্রামেরই চেয়ারমেনর মেয়ের সাথে। আমি ঢাকায় চলে আসি, দু বছর পর গ্রামের বাড়িতে গিয়া শুনি ওই মেয়েটির অণ্ণ একটা ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গাছে। মামাটা খুব কস্টো পেয়েছে। আমি তার সাথে কথা বলেছি, সে কাদছিল। সে বলছিল এই জীবন আর তার ভাল লাগে না। আরো অনেক কথা। আমি তার কস্টের গভীরতা সেদিন বুজতে পারিনি।
আমি ফিরে আসি ঢাকায়, বছর খানেক পরে আবার গ্রামে গিয়া দেখি মামার অবস্থা আর অনেক খারাপ। গ্রামের হাটে ছাতা ঠিক করায়, লইটারে গ্যস রিফিল করে। আমার খুব কস্ট লাগলো তার এই অবস্থা দেখে। তার সাথে কথা বলে জানলাম, সে জাকে হারিয়াছে তার দাম মামার জিবনের চেয়ে অনেক বেসি। সব কস্ট বুকের ভিতরে চেপে রেখেছে। আম্মাকে বললাম তাকে একটা চাকড়ি দিয়ে দেয়ার জন্য। আম্মা তাকে একটা চাকরি দিয়ে দিল। কিছু দিন চাকরি করলোও, কিনতু সে কিছুতাই কস্ট ভুলতে পারছিল না। চাকরি ছেরে দিয়ে আবার গ্রামে ফিরে গেল। তারপর আর কোনো খবর জানিনা।
সেদিন নিউ মার্কেটে যে লকটাকে দেখলাম তার ভাঙ্গা চোয়াল, মুখ ভরতি দাড়ি, ছেড়া পাঞ্জাবি, শিরনকায় শরীর। আমি তাকে ডাক দিলাম “জাকির মামা”। লোকটি ছানি পরা চোখ দিয়ে ফ্যল-ফ্যল করে তাকিয়া রইল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


