জাকাতের মাসায়েল
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সম্পদের ওপর বছরপূর্তি হওয়ার পর জাকাত ফরজ হয়। তবে শরিয়তে যেহেতু অগ্রিম জাকাত প্রদান জায়েজ এবং এতে জাকাত আদায় হয়ে যায়, তাই রমজান মাসে এক ফরজ আদায় করে সত্তর ফরজের সওয়াব পাওয়া যায়। এ ছাড়াও রমজানের আরও ফজিলত হাসিল করার জন্য সাধারণত এ মাসেই জাকাত দেওয়া হয়ে থাকে। আল্লাহর কাছে জাকাত কবুল হওয়া এবং প্রতিশ্রুত সওয়াব ও পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার জন্য প্রধান শর্ত হলো, এখলাস তথা সবধরনের লৌকিকতা, যশ-খ্যাতি ও পার্থিব স্বার্থ-উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার রেজা ও সন্তুষ্টি কামনা।
জাকাত ইসলামের পাঁচ ভিত্তির অন্যতম। এর ফরজিয়াতকে অস্বীকারকারী দ্বীন-ইসলাম থেকে খারেজ হয়ে যায়। আর ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যে জাকাত আদায় করে না, সে মারাত্মক গোনাহ্গার ফাসেক হয়। কিয়ামতের দিন তাকে কঠোর শাস্তি ও ভীষণ আজাব ভোগ করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন : ‘যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং আল্লাহর পথে খরচ করে না, (হে নবী!) আপনি তাদের কঠোর আজাবের সুসংবাদ (তিরস্কারস্বরূপ ব্যবহৃত) শুনিয়ে দিন। যেদিন তাদের সম্পদ জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং এ দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশ দগ্ধ করা হবে (এবং বলা হবে) এগুলো তা-ই যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে। সুতরাং এক্ষণে ওই জিনিসের স্বাদ গ্রহণ কর, যা তোমরা জমা করতে। সূরা তাওবা : ৩৪-৩৫।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা সম্পদ দিয়েছেন অথচ সে জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন আল্লাহর হুকুমে এ সম্পদের দ্বারা অতি বিষাক্ত সাপ বানানো হবে এবং সেই সাপ ওই ব্যক্তির গলা পেঁচিয়ে ধরে উভয় গালে দংশন করতে থাকবে আর বলতে থাকবে : আমি তোমার সম্পদ, আমিই তোমার সঞ্চিত ধন।
পক্ষান্তরে, সঠিক হিসাব করে নিয়মিত জাকাত আদায়ের দ্বারা মালের ময়লা দূর হয়ে মাল স্বচ্ছ-পরিষ্কার হয়, মালের হেফাজত হয়। যাবতীয় আসমানি যমিনী বালা থেকে সম্পদ সংরক্ষিত থাকে, সম্পদের দ্বারা মালিকের কোনো রকমের ক্ষতি হয় না, জাকাত আদায়কারীর দ্বীন পরিপূর্ণ হয়, ঈমানের স্বাদ আস্বাদনের তাওফিক হয়, সম্পদের হক আদায় হয়ে যায়। আরও অসংখ্য অগণিত পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণ ও উপকারিতা রয়েছে, যা হাদিসের কিতাবগুলোয় বর্ণিত।—দ্রষ্টব্য: ফাজায়েলে সাদাকাত
জাকাত কার ওপর এবং কিসের ওপর ফরজ
ষ যে ব্যক্তি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা সোনা কিংবা এই মূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসায়ী মালের মালিক হয় তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। এই পরিমাণ মালকে ‘নেছাব’ বলে এবং মালিককে ‘ছাহেবে নেছাব’ বলে।—শামী। ষ যদি কারও কাছে নেছাব পরিমাণ মাল ৪-৫ মাস থাকে, তারপর কম হয়ে যায় এবং ২-৩ মাস কম থাকে, তারপর আবার নেছাব পুরা হয়ে যায়, তবে তার জাকাত দিতে হবে। মোটকথা, বছরের শুরু ও শেষ দেখতে হবে।—আলমগীরী। ষ যদি কিছু সোনা এবং কিছু রূপা থাকে, কিন্তু পৃথকভাবে একটিরও নেছাব পূর্ণ হয় না, কিন্তু উভয়ের মূল্য যোগ করলে যেকোনো একটি হিসাবে নেছাব পুরা হয়, তবে জাকাত ফরজ হবে। —আলমগীরী। ষ ব্যবসার মাল যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমান থাকে, তবে এগুলোতে যে মাল তৈরি হয়, সেগুলোর ওপর জাকাত ফরজ। এমনিভাবে কাঁচা মাল যা কারখানাতে পাকা মাল তৈরির জন্য রাখা থাকে, সেগুলোর ওপর জাকাত ফরজ।—শামী। ষ সোনা ও রূপা যেকোনো অবস্থায় থাকুক না কেন, মাটির নিচে পোতা, কারবারে, সরকারের কাছে বা অন্য কারও কাছে করজ হিসাবে থাকুক, অলংকার আকারে থাকুক এবং তা ব্যবহারে থাকুক বা আজীবন বাক্সে তোলা থাকুক, কাপড়ে, টুপিতে, তলোয়ারে বা জুতায় কারুকার্যরূপে থাকুক (নেসাব পূর্ণ হলে) এতে জাকাত ফরজ হবে।—বেহেশতি জেওর। ষ কারও কাছে যদি কিছু পরিমাণ সোনা বা রূপার অলংকার, কিছু পরিমাণ টাকা ও কিছু পরিমাণ ব্যবসায়ের মাল থাকে—সবকিছুর মূল্য যোগ করলে যদি নেছাব পরিমাণ হয়, তবে জাকাত ফরজ হবে।—হেদায়া, জাওয়াহেরুল ফিকহ। ষ মিল, কোম্পানি ইত্যাদির শেয়ার যদি নেছাব পরিমাণ হয়, তবে জাকাত ফরজ হবে। নিজের অন্যান্য মালের সঙ্গে হিসাব করে নেছাব পরিমাণ হলেও জাকাত ফরজ হবে। বছরান্তে জাকাত দেওয়ার সময়ের মূল্য ধর্তব্য হবে। কোম্পানি অফিস-বিল্ডিং, মেশিন, ফার্নিচার ইত্যাদির মূল্য যেহেতু শেয়ারের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাই কোম্পানি থেকে জেনে আপন অংশ থেকে এগুলোর মূল্য বাদ দিয়ে জাকাতের হিসাব করার অনুমতি আছে। —জাওয়াহেরুল ফিকহ্। ষ প্রভিডেন্ট ফান্ড যা এখনও উসুল হয় নাই, এর ওপর জাকাত ফরজ নয়। কিন্তু চাকরি ছাড়ার পর প্রাপ্ত টাকা যদি নেছাব পরিমাণ হয়, তখন জাকাত ফরজ হবে। পেছনের বছরগুলোর জাকাত দিতে হবে না। —জাওয়াহেরুল ফিকহ। ষ মালেকে নেছাব যদি পূর্ণ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগেই অগ্রিম জাকাত আদায় করে দেয়, তবে তা-ও দুরুস্ত আছে। ষ মালেকে নেছাব যদি কয়েক বছরের জাকাত অগ্রিম দিয়ে দেয়, তবে তাও দুরুস্ত আছে। কিন্তু সে কয়েক বছরে মাল যদি বেড়ে যায়, তবে যত টাকা বেড়েছে তার জাকাত হিসাব করে আবার দিতে হবে। —জাওয়াহেরুল ফিকহ
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।