
আজকে টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম সুপার কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের একটা মাসিক মিটিং ও ওয়ার্কশপে। দুপুরে লাঞ্চ দিয়েছিল পিৎজা ও সফট ড্রিন্কস। গত ১ বছর ধরে সফট ড্রিন্কস খাওয়া বাদ দিয়েছি। কিন্তু অন্যদের দেখা-দেখি আমিও একটা স্প্রাইটের ক্যান নিয়েছিলাম। পরে খেতে ইচ্ছে না হওয়ায় জ্যাকেটের পকেটে রেখে দিয়েছিলাম।

মিটিং শেষে যখন গ্রেহাউন্ড বাস স্টপে ফিরিতেছিলাম তখন দেখি বিশ্ববিদ্যালয় এভিনিউ এর রাস্তায় বেন্বেচের উপর বসে বয়স্ক এক ফকির (কানাডায় এদের হোম-লেস পিপল নামে পরিচিত) সিগারেটে সুখটান দিচ্ছিল। পকেট থেকে স্প্রাইটের ক্যান বের করে তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বলল "I am okay at that moment, please give it to others"। স্প্রাইটের ক্যন পকেটে ঢুকিয়ে যখন হাটা শুরু করবো ঠিক তখন আরও বেশি অবাক করে দিয়ে আমাকে বলল "Thank you for offering me the pop "।

এর পর হাটতে হাটতে ভাবতেছিলাম, সালমান এফ রহমান ওরফে দরবেশ বাবা যদি কইতো আমি আর কোন দিন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে মেরে দিবো না, বা শেয়ার মার্কেট ক্যালেন্কারি করবো না। সোনালি-রুপালি-জনতা ব্যংকের যে টাকা মেরে দিয়েছি তাই যথেষ্ট।

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান কিংবা যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুল ঘোষণা দিতো ঢাকার চার পাশে নতুন করে আর কোন জলাভূমি ভরাট করে বা অন্যের জমি দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করবো না।

মৎস্য ব্যবসায়ী মন্ত্রী-এমপিরা যদি ঘোষণা দিতো চাঁদা বাজি, টেন্ডার বাজি, নিয়োগ ব্যবসা করে যা কামাই করেছি অবশিষ্ট জীবনের জন্য তাই যথেষ্ট। কান ধরে প্রতিজ্ঞা করলাম নতুন করে আর জনগণের টাকা মাইরা খাবো না।
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের যদি টরোন্টোর ফকির গুলোর মতো আত্ম সম্মানবোধ থাকত!!!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৫ সকাল ৯:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




