somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্লান্তিহীন ভালবাসা

২০ শে মে, ২০১৩ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আবার অসুস্থ। হঠাৎ করেই শরীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো। প্রচন্ড মাথা আর গলা ব্যথা সাথে কিছুটা জ্বর জ্বর ভাব। ঘুম না আসায় রাত জাগার বাজে অভ্যাসটার প্রতিক্রিয়া হয়তো এটি। নির্ঘুম এ রজনীতে শুধু একটি মানুষকেই বলা যায়, সে হলো তুমি।
এতোক্ষনে তুমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার কথা তবুও একটু খানি স্বান্তনার আশায় তোমার নিকট ক্ষুদেবার্তাটি প্রেরণ। বেশী দেরী নয়, অল্প সময়েই তোমার ফোন। এসএমএস পেয়ে অবাক হলে কিন্তু অসুস্থতা জেনে কষ্ পেলে সাথে সাথেই ভালবাসার পরশ বুলিয়ে স্বান্তনা দিলে। পাশে থাকার কথা বলে সাহস যোগালে। তোমার সাহস, স্বান্তনা পেয়ে মানসিকভাবে কিছুটা সুস্থতা বাকি রাতের জন্য তৃপ্তির নিদ্রা নিয়ে আসলো।

সকাল হতে না হতেই আবার তোমার ফোন। বিশ্রাম নিতে বললে, ঔষধ খেতে বললে, গোসল করতে বললে...... আরো কত কি! তবুও শরীরিক সুস্থতা ফিরে পাইনি। সারাদিনে কয়েকবার তোমার ফোনে দেহের অসুস্থতার মাঝেও মনের অসুস্থতা বোধ করিনি বিন্দুমাত্র।
কষ্টের রজনী হয়ে আগমন ঘটলো আরো একটি রাতের। ব্যথায় মাথা ছিড়ে যাচ্ছে, কাশিতে কাশিতে বুক ফেটে যায় অবস্থা, পা দুটো আর ব্যথা সহ্য করতে পারছে না, শরীরটা কাঁপনী দিচ্ছে বারবার। কয়েকশত মাইল দূর থেকে আবারো তোমার শুশ্রুষা, আন্তরিকতা, ভালবাসায় আমি বাকরুদ্ধ। কাঁশির জন্য আদা দিয়ে গরম চা বা পানি খাও, গলাটা ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে রাখো, ফ্যানটা কমিয়ে রাখো, অবশ্যই কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাবে ..... আরো কত কি!!!! গভীর রাতেও অন্তত তিনবার কল , কয়েকটি এসএমএস জ্বরে আচ্ছন্ন জীর্ন শরীরটাকে সুস্থ রেখেছে মানসিকভাবে।

রাত পেরিয়ে দিন এলো, কিছটা সুস্থ বোধ করায় ফেন্ডদের কাছে থেকে নোট সংগ্রহে যাওয়ার ই্চ্ছে ছিলো কিন্তু তোমার মৃদু শাসনে আর যাওয়া হয়নি। এ শাসনটুকু শীতল করে দিয়েছে মনের গভীরে।

পরদিন জ্বর ছেড়ে বেশ সুস্থ কিন্তু মায়ের কাজে হেল্প করে বৃষ্টিতে ভিজে আবারো তোমার শাসনের সম্মুখীন। আবারো জ্বর। এবারের অবস্থা আরো খারাপ। না এবার তোমাকে বলা যাবে না চিন্তায় গোপন রাখার চেষ্টা করলাম কিন্তু তুমি যে কম্পমান স্বরটাকে ধরে ফেলেছো , আমি অসুস্থ। জ্বরের তীব্রতায় গন্ডদেশ বেয়ে চোখের জল পড়লো। ভিজিয়ে দিচ্ছিল শুকনো বালিশটাকে । তোমার সাথে কথা বলতে গিয়ে বেদনায় কাঁকিয়ে উঠলো মন, তোমার একটু পরশ আশা করছিলো এ দেহ, মন।

তোমার বাস্তব অনুপস্থিতি আর সর্বক্ষন অদৃশ্য উপস্থিততে আপ্লুত এ হদয়। চোখ বেয়ে নেমে অশ্রুধারা। ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছি আমি আর ওপাশ থেকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছো তুমি। কখনো কখনো কোন কথা নেই শুধু দুজনের শ্বাস প্রশাসের শব্দ। তোমার স্বান্তনা আর চোখের জল সাগরে ভেসে গেলো বুকের জমানো ব্যথা, কষ্টের পাথর। তোমার অদৃশ্য পরশ শিরায় শিরায় অনুভুতির উপস্থিতি বিরাজ করছিলো , কখনো তা মাথায় হাত বুলিয়ে পানি দিয়ে চুলে বিলি কেটে, কখনো তা গরম এক কাপ চা দিয়ে, কখনো তা পাশে বসে ডান হাতটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরে, তোমার কাধে মাথা রেখে, কখনো তা কাঁথা দিয়ে মুড়ানো দেহটিকে তোমার শরীরের মাঝে জড়িয়ে নিয়ে। চোখ বুঁজে এ অদৃশ্য অনুভুতি কাঁপিয়ে দিচ্ছিল বারংবার ।

অসুস্থতার এ দিনগুলিতে তোমার সরব উপস্থিত এ আকুল হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে নতুন করে। নতুন করে পরিচিত হয়েছি আরেক ক্লান্তিহীন ভালবাসাময় হৃদয়ের সাথে। নিঃছিদ্র আন্তরিকতায় আবারো সুস্থ করে তুলেছো আমায়। প্রতিটি মুহুর্তের তোমার দেখভালেই সজীবতা ফিরে পেয়েছি দ্রুত। আমার নিঃর্ঘুম রাতগুলোতে তুমিও সঙ্গ দিয়েছো দূর থেকে। যা তোমার নিঃর্ঘুম রাতগুলোতে আমি তোমার সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হয়েছি।

আমি মুগ্ধ, বাকরুদ্ধ তোমার ক্লান্তিহীন ভালবাসায়। তোমার দীর্ঘ ভালবাসার পথচলায় বার বার ফিরিয়ে দিয়েছি তোমাকে। আমার দরুন তোমাকে শুনতে হয়েছে অযাচিত বাক্যবাণ। বুঝেও না বুঝার ভান করেছি অসংখ্যবার। তবুও তুমি হাল ছেড়ে দাওনি। নির্লিপ্ত থেকেছো সর্বদা। আগলে রেখেছো তোমার ভালবাসাকে প্রতিটি সময়। আগের তোমার নিরবতা এখন প্রায়ই প্রকাশিত। এতো এতোটি বছর তোমার ক্লান্তিহীন ভালবাসা আমায় করেছে যারপরনাই মুগ্ধ। স্বত্তা জুড়ে ধ্বনিত হচ্ছে শুধুই তোমার ক্লান্তিহীন ভালবাসা।



আগের পোষ্ট.. নিঃশব্দ ভালবাসার সিকি শতাব্দী

৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×