ওয়াহিদুল হক (ভোরের কাগজ)
ভোর চারটা, সাড়ে চারটা। আজান দিল পাড়ার মসজিদে। ইমাম রত্নটি হয়তো আহলে হাদিস। পনের-বিশ মিনিট পরে একটা আজানের কোরাস ও যুগপৎ রিলে রেস আরম্ভ হবে। কায়কোবাদ 'কে ওই শুনাল মোরে আজানের ধ্বনি' লিখে বাঙালি মুসলমান চাষী-তাঁতির জীবনের একটি মধুর, এবং Source: Internetঅতি-অবশ্য, চিত্তে সোনার কাঠি স্পর্শ-প্রায় নিত্য অনুষঙ্গের প্রশস্ত গাইতে চেষ্টা করেছেন। আর কোনো কবি-সাহিত্যিক এতকাল করেননি, ভাবলে অবাক লাগে। কবি-সাহিত্যিকেরা নগরাঞ্চলে বাস করেন।
হাই-ডেসিবেল স্পিকারযোগে প্রচারিত পাড়ার মসজিদের আজান মনে হয় ঘরের ভিতরেই কে দিচ্ছে। কোন বেআক্কেলে লোক বাড়ির সুবিধা অসুবিধার, শিশু বৃদ্ধ ব্যাধিগ্রস্ত এবং অমুসলমান মানুষের তোয়াক্কা না রেখে কানে ভিনদেশী ভাষায় চিল্লাচ্ছে। শব্দবর্ধক যন্ত্রযোগে আজানকে সর্বকর্ণে পেঁৗছে দেওয়ার জেদটা আর যাই হোক প্রকৃত ইসলামি নম্রতাভদ্রতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় নয়। এবং একটু একটু করে, ইসলামের চর্চায় জবরদস্তি জায়গা করে নিচ্ছে। কোন আরবি ভাষী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ঢাকায় 'সাধারণ' মানুষ হয়ে সাধারণের অতিথি হিসেবে বেড়াতে এলে প্রথমে কুপিত হবে মসজিদের ঘনত্ব দেখে। তাঁকে না হয় বোঝানো গেল যে এখানে, ঢাকায়, এক বর্গমাইলে অন্তত এক হাজার নামাজির বাস। ইসলামের প্রচল অনুযায়ী মেয়েরা না হয় জামাতে নাই গেলেন, আর পাঁচশ পুরুষ মুসলি্লর জায়গা হবে কোথায়, কয়টি মসজিদ (মানে সিজদা করবার জায়গা) লাগবে। মসজিদ ঢাকায় দেশভাগের আগেই সাত-আটশ ছিল। তখন লোকসংখ্যা ছিল দুলাখের নিচে। সেই হিসাবে ঢাকায় এখন অন্তত চলি্লশ হাজার মসজিদ থাকলেই সেই দারুল হর্ব্ কালের ঢাকার সঙ্গে মিল হয়।
হয়তো তার খুব কম নেই এখানে এখন। এবং নিত্য মসজিদ তৈরি হচ্ছে নতুন। এরও যুক্তি আছে। বাঙালি মুসলমান যতই ওয়াহাবি হওয়ার চেষ্টা করুক, সে তার প্রতিবেশী হিন্দু ভাইটির মতই, বড় ভক্তিপ্রবণ। মসজিদ বানানোকে পুণ্যের কাজ মনে করে তারা। হয়তো তাই। জীবনে অনেক অপরাধ জমা হলে, অগ্রসর বয়সে মানুষ তীর্থে যায়, দানধ্যানের দিকে মন দিতে চায়। হজে যাওয়া আর মসজিদ দেওয়াটা এই বয়সে, তখন অপরাধবোধের সঙ্গে পুণ্যার্জনের আকাঙ্ক্ষাও যখন ওঠে বেশ, পয়সাআলা মুসলমানের জন্যে বেশ ভালো একটা অকুপেশন হয়ে ওঠে। হজে যাওয়াটা নিতান্ত ব্যক্তিক প্রয়োজনে, মসজিদ দেওয়াটাকে অবশ্যই ধরা যায় সমাজকর্ম হিসেবে। একার নয়, দশজনের জন্য।
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মসজিদ উঠছে সেই কারণে, কিন্তু অযথাই কি? প্রতি জুমা বারে ঢাকার অযুত মসজিদে দুপুরে নামাজির জায়গা হয় না।
কেবলি জুমার নামাজ পড়ে, দিনের সবগুলো নামাজ তেমন নিয়ম করে (কাজা না করে) না পড়লেও, এমন মানুষ অসংখ্য। আবার জুমার নামাজ মানে তো জামাতেরই নামাজ, মসজিদ ছাড়া কোথাও পড়ার নয়। যারা প্রতি বেলা নামাজের জন্য মসজিদে যেতে পারেন না নিত্যকৃত্য এই ঈশ্বরভজনাটি বাড়িতে, অফিসে কিংবা অন্য যে কোন জায়গায় সুবিধামত 'আদায়' করেন, তারাও মসজিদে আসেন ঝেঁপে শুক্রবারে। একটা যেন টেকনিক্যাল শব্দই বলে ফেললাম 'আদায়'। লিখলেই পারতাম 'সুবিধামত পড়ে নেন' তেমনি টেকনিক্যাল শব্দ 'কায়েম' করা_ প্রায় প্রতিটি ঢাকা মহানগরস্থ সিএনজি বাহনের পিছনে 'নামাজ কায়েম কর' এই আদেশটি থাকে যারাই বাংলা পড়তে পারে তাদের জন্যে। চট্টগ্রামও মহানগর, সেখানেও চলে প্রচুর সিএনজি (বাজাজের ভয়ে এবং নাজমুল হুদার পকেটে ধনবৃদ্ধি ঘটিয়ে) চলে। তার কোনোটিতে কিন্তু এমন আদেশ লেখা নেই। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস চাটগাঁয়ের মুসলমান, ঢাকার মুসলমানের চেয়ে বেশি নামাজি। সিএনজির পিছনে, বাসের গায়ে 'আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠান' বলে বিনীত উপরোধও দৃষ্ট হয়। যেহেতু নামাজ (ফার্সি শব্দ। যারা হঠাৎ করেই ফার্সি খোদা বাদ দিয়ে আরবি আল্লাহ হাফেজ ধরেছেন, তাদের তো নামাজের জায়গায় সালাহ, সালাত ইত্যাদি বলা উচিত। আসলে ধর্মের তত্ত্বে যেমন থাক, চর্চায় যুক্তি এবং সঙ্গতি আশা করাটা অযৌক্তিক এবং অসঙ্গত) নামের মুসলমানের নিত্যকৃত্য অনুষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠা করার কথা (জীবনে, সমাজে) হচ্ছে সেহেতু তার ভাষা হতে হবে দুর্বিনীত, কতর্ৃত্ববাদের দুর্গন্ধ মাখা। নামাজ কায়েম করুন লেখা হয় না কেন? লিখলে অসুবিধা কী? আগেই বলেছি, ধর্ম চর্চা ও প্রসারে একটু করে জবরদস্তি ঢুকতেই থেকেছে বহুকাল ধরে।
ধর্মপ্রাণ মানুষ, নিতান্ত বেনামাজি জহুর হোসেন চৌধুরী, আমাকে বোঝাতেন, ভালো মানুষ না হয়ে যায় না। এমন মানুষ আমি জীবনে প্রচুর দেখেছি, প্রচুরতর দেখেছি যারা ভালো মানুষ নয়, অথচ ধার্মিক কিন্তু ধর্মপ্রাণ ভালো মানুষের মধ্যেও ব্যতিক্রমহীনভাবে দেখেছি একটি ত্রুটি_ নিজের বিশ্বাস ও সেই বিশ্বাসের সমর্থনে যত তাঁর যুক্তি, সেই সকলকে একমাত্র অভ্রান্ত মনে করেন তাঁরা সকলে। তাতে ক্ষতি হয় বৈ কি, তাঁর এবং অপর সকলের। সহিষ্ণুতা কমতে থাকে, ধৈর্যও। ছিলেন ধর্মপ্রাণ, হয়ে পড়তে থাকেন ধর্মোন্মাদ। সমাজ বুঝি এতেও খারাপ চলতো না। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষ মাত্রই অপর সকল ধর্মের মানুষের বিশ্বাস এবং প্রেরণা, যুক্তি এবং তাবৎ অনুষ্ঠানকে 'ভ্রান্ত' মনে করেন। এবং তাদের 'হেদায়েত' করে 'সত্যের' পথে নিয়ে আসাকে কেবল পুণ্যকর্ম মনে করেন না, ধর্মাদিষ্ট কর্তব্য কর্ম মনে করেন। ধর্ম নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের (এই জায়গাটাই দেখেছি সারা জীবন, বোঝার চেষ্টা করেছি সাধ্যমত) যত জ্বালা তার মধ্যে বুঝি প্রধান একটা হল প্রোজেলিটাইজিং ও ননপ্রোজেলিটাইজিং ধর্মের দ্বন্দ্ব-সংঘাত। হিন্দু হওয়া যায় না, ধর্মান্তরতি হয়ে হিন্দু হওয়া যায় না। হিন্দুর ঘরে জন্নালেই হিন্দু। বিপরীত পক্ষে বিবি খাদিজা (প্রথম মুসলমান) থেকে আরম্ভ করে পৃথিবীর শতকোটি মুসলমানের সকলেই ধর্মান্তরিত মুসলমানের সন্তান। সৈয়দ হোক, সিদ্দিক হোক, হোক খোনকার কাজী ইত্যাদি ইত্যাদি। বিধমর্ীকে 'সত্য পথে' আনয়ন একটি পুণ্যকর্ম এবং অবশ্যপালনীয় কর্তব্যকর্ম_ এই বিশ্বাসের জন্যে সমাজে, রাষ্ট্রে জায়গা ছেড়ে দিলে আইন, রাষ্ট্র এমনকি সমাজও অসমদশর্ী হয়ে পড়বে, গণতন্ত্রের স্বপ্ন (সকল নাগরিকের অধিকার সমান আকারে, প্রকৃতিতেও) স্বপ্নই থেকে যাবে। রাষ্ট্র, আইন কল্যাণাভিমুখ কার্যকরতা হারাবে।
কোন ধর্মই বিজ্ঞানের মত অন্তরসাযু্যপূর্ণ নয়। ইসলামের সহিষ্ণুতার দিকটাও তুলে ধরতে শুনেছি অনেক ইসলামি চিন্তাশীল ব্যক্তিকে। এবং তার প্রমাণ দেন তাঁরা হজরত মুহম্মদের নিজের রাষ্ট্র পরিচালনায় পরমত ও পরধর্মসহিষ্ণুতার কথা বলে। কট্টরপন্থীরা কিন্তু সকলকে মুসলমান বানিয়েই ছাড়বেন। তখনকার পাকিস্তানে তাবৎ বাঙালিকে অর্ধমুসলমান মনে করতেন ফিরোজ খান নূন (ভিকারুন্নেসা স্কুলের ভিকারুন্নেসার স্বামী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্নর)। স্কুলটিতে শ্বেতাঙ্গিনী সম্ভবত ইংরেজ এবং অবশ্যই বড়জোর নিম্ন-মুসলমান, ভিকারুন্নেসার কোনই দান ছিল না। গভর্নর পত্নীর চিত্রাঙ্কনে যেমন উৎসাহ ছিল, তেমনি উৎসাহ ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদপন্থী সরকার-ঘেঁষা পাকিস্তানপ্রেমী সাজুগুজু বাঙালি-অর্ধবাঙালি মহিলাদের সমাজকর্ম প্রয়াসে। তার মধ্যে ছিল এই স্কুল। তাঁর স্বামী বলেছিলেন বাঙালি মুসলমান খৎনা করে না। তারও আগে আল্লামা সোলায়মান নদভী ফতোয়া দিয়েছিলেন বাংলা কুফরি জবান। বাঙালি মুসলমানকেই ফিরে মুসলমান বানানোর চেষ্টায়, আরম্ভ থেকেই পাকিস্তান কোন বিরাম দেয়নি। জবরদস্তি কাকে বলে? মানবাধিকার লঙ্ঘন কাকে বলে? সইল না। পাকিস্তানকে গুটিয়ে চলে যেতে হল। পাকিস্তানের এখনো চালিকা শক্তি একটা ধর্মবিহীন রিলিজিয়স সভিনিজম_ অত্যন্ত কড়া পাকের সামপ্রদায়িকতা_ মুসলিম হৈ হম্ওয়তন হৈ সারা জাহাঁ হমারা।
ইসলামের কল্যাণমুখটিরই জয় হতে হলে, এটা সত্যই শান্তি ও সমর্পণের ধর্ম হতে হলে, এর সহিষ্ণুতার দিকটাকে প্রধান করে বাড়িয়ে তুলতে হবে। শুক্রবারে যত লোক জোহরের নামাজ পড়বে মসজিদে, তার সংকুলান হওয়ার মত মসজিদি ফ্লোর-স্পেইস বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মসজিদের স্পিকারের ডেসিবেল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অফিসকালীন নামাজ পড়ার ছুটি নেওয়ার সময়। এইমত অভিযোগ আছে যে, ছোট-বড় সকল সরকারি চাকুরে বেশ খানিকটা সরকারি সময় ও অর্থ খরচ করেন তাদের ব্যক্তিগত নেকি বাড়ানোর জন্যে। এই রকম অসৎ আচরণে ব্যক্তির পরকালে সদগতির হিসাব নিশ্চিতভাবে পাওয়া মুশকিল, তবে দুনিয়ারি হিসেবে একে আর দশটা চুরির মতই মনে করে এর প্রতিকার-প্রতিবিধান প্রয়োজন।
তবে ধর্মকে সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার এইগুলি হল প্রায়-তুচ্ছ ঘটনা। মুসলমানেরা নাকি এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। আল্লাহ হয়তো অন্য রকম জানেন। কে মুসলমান কে মুসলমান নয় তার হিসাব তো তাঁর কাছে। জামাতে ইসলামীর মওদুদপন্থী পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিস্টদের মুসলমান বলে গণ্য না করলে অনেক ইসলামিক চিন্তাশীল পণ্ডিত ব্যক্তি অপরাধ না নিয়ে তুষ্টই হবেন বলে আমার ধারণা হয়েছে। বাংলাদেশে তবলিগের বড় জোর, জামাতের ফ্যাসিস্ট ধরনে সংগঠিত বাহিনীর মুজাহিদের তুলনায়, তবলিগে যুক্ত মানুষ সংখ্যায় বেশি বলে মনে হয়। এদের ধর্মপ্রাণতায় অজ্ঞতা-মূর্খতার জায়গা কম না হতে পারে, কিন্তু মনে হয় না তারা কেউ জাগতিক স্বার্থ উদ্ধারের লালসে তবলিগ করেন। দিলি্লকেন্দ্রিক এই তবলিগ সংগঠন জামাতের মত আজন্ম ভারত তথা হিন্দুবিদ্বেষী হওয়ার কথা নয়। ভারত, হিন্দু এই সকল অভিধা এদের কাছে নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক। ভারত মানে হিন্দু-ইসলাম-বিকাশকালে ইসলামি শান প্রকাশের এক গৌরবময় জায়গা, বার কোটি মুসলমান থাকে ওখানে। হিন্দু তো মানুষ অন্তত এবং বাংলাদেশ কোটি হিন্দুর জন্মভূমি, তাদের প্রিয় রাষ্ট্র। ধর্মকর্মে শেষ দিন কাটানো তবলিগরা জামাতীর মত রাজনীতির খেলোয়াড় নয়। রাজনীতিকে রাষ্ট্রভুক্ত সকলের ওপর 'ক্ষমতা' খাটানোর জায়েজ পন্থা বলে জামাতীরা একটা ফ্যাসিস্ট-মার্কা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তাতে তাদের মতের ইসলাম জারি করবে, জারি করতে তাদের মতের আল্লাহর শাসন, যা কি না হবে প্রকৃতই একটা সৌদি উৎপীড়ক রাষ্ট্র-মডেলে যথোচিতভাবে মধ্যযুগীয়, এই স্বপ্ন তাদের। লোকসেবার একটা বহিরাবণের ভিতরে ইউনূসের কমার্শিয়াল ব্যাংকের মত জামাতের দিনি ধাপ্পার আড়ালের প্রকৃত সত্যটি রাষ্ট্রকে মোল্লাশাসিত একটি জবরদস্তিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
আমি অযথা কেন দোষ দিই জামাতকে। তারাতো একটা রাজনৈতিক দলই, আর কিসসু নয়। এরশাদ ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে ঢুকিয়ে জামাতের খুব বড় সেনাপতির কাজ করেছেন বটে। কিন্তু তা বলে জামায়াতী মৌলভিরা কি এরশাদকে কোন প্রকারে ইমামের আসন ছেড়েছে? এরশাদকে কোল দেওয়া বড় কঠিন। এই আটকুঁড়া মানুষটা সন্তান না পেয়ে সারা জীবনে মেয়েদের পিছু ছাড়তে পারলো না। মার্কোসের মত পাল্লা দিয়ে ধনসম্পদের পাহাড় গড়েছিল এরশাদ এবং সেই তখন (জিয়া হত্যার কাল) থেকে এখনো মিথ্যা ছাড়া কথা বলতে পারে না। বস্তুত এ ব্যাপারে মওদুদ ও এরশাদ কে কার গুরু বা শিষ্য, সহজে বলা যাবে না। এসব কোন ব্যাপার নয় জামাতের কাছে। রাজনীতি, ক্ষমতার রাজনীতিতে এত সব ছোঁয়াছুঁয়ি নেই, জামাতের মত 'আদর্শিক' দলেরও।
আমাদের গোড়ার প্রসঙ্গ ছিল জবরদস্তি। এ দেশে মুসলমানের সংখ্যা ভিন্ন সকলের চেয়ে অনেক বেশি। সেই জন্যে সকলকে জোর করে আজান শোনাতে হবে। মুসলমান বলে গণ্য সকলেই কি ওই রকম বে-আক্কেলে উচ্চ-ডেসিবেল আজান শুনতে চায়? কেউ না শুনতে চাইলে, তার মতামতের মূল্য উড়ে যাবে ঐ ফাঁপা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চাপে? এই প্রচণ্ড বেয়াদবি-মার্কা উক্তির পিছনে একটা শক্ত বিশ্বাস আছে, যার আছে শক্ত যুক্তিও। মুসলমান বলে পরিচিত পৃথিবীর তাবৎ মানুষ, আরবেরাও, যার যার নিজের মত করে মুসলমান। পৃথিবীর সব অমুসলমান দূরে যাক, মুসলমানেরাই সব কি এক ভাবে, রেজিমেন্টেশনের পরাকাষ্ঠা হয়ে, চলবে, ভাববে? সকলেই একটা কোন কালের আদর্শ দাসের ক্লোন হয়ে জীবনযাপন করবে? না প্রত্যেকে তার নিজের ন্যায়-অন্যায়, বিচার-অবিচার, সতাসত্য জ্ঞানের বোধ দ্বারা নিজেকে পরিচালনা করবে? জেদাজেদি-জবরদস্তির বর্তমান অবস্থায় প্রশ্ন উঠতেই পারে এই কি ইসলাম? এই যদি ইসলাম, তবে মধ্যযুগে মুসলমানের বিকাশ হল কী করে? ইসলামি থিয়োলজি প্লেটো-অ্যারিস্টটলে পুরোপুরি নিষিক্ত হল কী করে? এই জবরদস্তি এবং ক্লোনিং পর্যায়ে রেজিমেন্টেশনের মৌলভি (ধর্মব্যবসায়ী, অনৈসলামিক ক্লার্জি) ইসলামে মানুষের স্বাধীনতা কতটুকু? ঈশ্বর কি স্বাধীনতাহীন বান্দার বিচার করবেন? এর মধ্যে বাংলাদেশে উত্থান হয়েছে রাজনৈতিক মতলবাজি টুপিদাড়ি ইসলাম। তাদের কাছে শুনে শিখে, তাদের কথার ক্রীতদাস হয়ে কি মুসলমান হওয়ার রাস্তা নেই? অমুসলিম সকলকেই কি মুসলিম হতেই হবে?
মৌলভিরা ইদানীং রাষ্ট্রকে অস্বীকার করছে, মানুষের তৈরি আইনকে মানে না বলছে। মৌলভিরা ছাড়া দেশে লোক বিস্তর। এবং মৌলভিরা, চিরকালই এবং বিশেষ করে এখন, এ দেশ অত্যন্ত মূর্খ হয়, হয় প্রায়শ হ্যাবিচুয়াল,_ ওয়াজ করতে নিত্যদিন আল্লাহর রসুলের নামে কত যে মিথ্যা বলেন তারা মৌলভি নয় এমন মানুষ বাংলাদেশেই চৌদ্দ কোটি। তাদের সকলকে শুনতে হয় মৌলভিদের অতি অনুদার সঙ্কীর্ণ অজ্ঞান সমস্ত কথা। না হলে তারা বোমা মারবে? রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবে? এবং শেষ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের সব অপরাধকে আড়াল দিয়েই যেতে পারবে?
Source: Internet
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




