somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনন্দের অত্যাচার

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৭:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনন্দানুষ্ঠান সামাজিক মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আজ হইতে কয়েক দশক পূর্বে, যখন বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবার আপন বসতবাটিতে বাস করিতেন, তখন অনুষ্ঠানগুলিও বাড়িতেই হইত। সময় বদলাইয়াছে, বাজারের তাগিদেই ফ্ল্যাটবাড়িগুলো ক্রমশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বাসস্থানে পরিণত হইয়াছে। ইহার একটি অনিবার্য ফর, নিজস্ব বাসস্থানে আর আনন্দানুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় স্থানসঙ্কুলান হইতেছে না। সেই সমস্যার সমাধানও বাজারই করিয়াছে। প্রায় প্রত্যেক লোকালয়েই অনুষ্ঠানের ভাড়াবাড়ি গড়িয়া ওঠিয়াছে কিন' এই সমাধানের সংলগ্ন একটি সমস্যা আছে, যাহার সমধান বাজার করিতে পারে নাই।
আনন্দানুষ্ঠানের সহিত শব্দ, আবর্জনা, যানবাহনের আধিক্য ইত্যাদি সমস্যা প্রায় অঙ্গাঙ্গি হইয়া থাকে, এবং সেই সমস্যাগুলি অনুষ্ঠানের পরিসীমা ছাড়াইয়া প্রতিবেশের অধিবাসীদের জীবনেও প্রভাব ফেলে। পূর্বে, যখন আপন প্রতিবেশীর গৃহে অনুষ্ঠান হইত, তখন প্রতিবেশীরা সাধারণত অসুবিধাটুকু মানিয়া লইতেন। তাহার কারণ দুইটি: এক, প্রতিবেশিকে আপন ভাবা, দুই, অনুষ্ঠানগুলি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল না কিন' বাড়াবাড়িতে এই দুইটি কারণই অনুপস্থিত। ফলে, অনষ্ঠানের নিত্য অশান্তিতে প্রতিবেশীদের জীবন অতিষ্ঠ হইয়া উঠা স্বাভাবিক। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ্নি জারি করিয়াছে, ভাড়া অনুষ্ঠান বাড়িতে মাইক চালানো নিষিদ্ধ, গভীর রাত্রে অন্য কোনোও প্রকার শব্দ করাও চলিবে না।
আইনটি নিঃসন্দেহে স্বাগত। বাজার যেখানে স্থানীয় মানুষদের স্বার্থ দেখিতে ব্যর্থ হয়, সেখানে আইনগত বাধ্যবাধকতা ভিন্ন উপায় নাই কিন' এই আইন জারি করিবার ঘটনাটি দুঃখজনক, কারণ ইহা স্পষ্টতই সভ্যসমাজের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে।
এই সমাজ আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করিতে পারে, কিন' তাহার ফলে অন্যদের অসুবিধার সুরাহা করিতে পারে না, ইহা লজ্জাজনক কিন' বাস্তব। ইহা অনস্বীকার্য যে আনন্দে মাতিয়া, প্রবল কোলাহল করিয়া, গভীর রাত্রি পর্যন্ত উচ্চগ্রামে মাইক বাজাইয়া আপনার অনুষ্ঠান উপভোগ করা হয় বটে কিন' নিকটবর্তী বাসিন্দার নিকট তাহা অত্যাচারমাত্র, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাঁচিবার অধিকারবিরোধী।
সমাজেরই উচিত, এই সমস্যার সমাধান করা। সমাধানের কয়েকটি পন্থা রহিয়াছে। প্রথমত, যদি প্রত্যেক আপন অনুষ্ঠানে মাতিবর সময় প্রতিবেশীর স্বাচ্ছন্দ্যের কথাটি স্মরণে রাখেন, তাহা হইলে সমস্যাটি প্রভূত হ্রাস পাইবে। দ্বিতীয় পন্থাটি কিঞ্চিৎ জটিল কিন' বাস্তবোচিত। একটি বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানগৃহ স্থাপন করিতে এখনও পর্যন্ত পুরসভার অনুমতি লওয়াই যথেষ্ট। নিয়ম হওয়া উচিত, যে পলি্লতে অনুষ্ঠানগৃহটি গড়িবার প্রস্তাব আসিয়াছে, সেই অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দার মতামত যাচাই করিয়া লওয়া। নির্দিষ্ট যে স্থানে অনুষ্ঠানগৃহটি অবস্থিত, তাহার নিকটতম বাসিন্দাদের মতামতকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। ইহার ফলে অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সমস্যা হয়তো কমিবে না কিন' আপনার শান্তি বিঘি্নত হইতে দিবেন কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় মানুষের মতামতটি গুরুত্ব পাইবে।
আরও একটি কথা: বর্তমান আইনটির ফলে হয়তো উচ্চগ্রামে মাইকের শব্দ প্রতিরোধ করা যাইবে, কিন' নিত্য উল্লাসের অত্যাচার হইতে, অতিথি-অভ্যাগতদের গাড়ির ভিড় হইতে স্থানীয় মানুষদের বাঁচাইবে কে? যাহাদের স্বার্থে আইন, আইন প্রণনয় করিবার সময় তাহাদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সহিত ভাবিতে হইবে। তখনই আইনটি সার্থক হয়।

আনন্দবাজার 19 মার্চ 06

Source: Internet Newspaper
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×